রাশিয়ার জ্বালানি কেনায় শুল্ক নয়! ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে স্বস্তিতে ভারত
নয়াদিল্লি: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতকে রাশিয়ান জ্বালানি (Russian oil)কেনার সঙ্গে যুক্ত নতুন শুল্ক থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন। এই সিদ্ধান্ত এসেছে লিন্ডসে ও গ্র্যাহাম স্যাংশনিং রাশিয়া…
নয়াদিল্লি: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতকে রাশিয়ান জ্বালানি (Russian oil)কেনার সঙ্গে যুক্ত নতুন শুল্ক থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন। এই সিদ্ধান্ত এসেছে লিন্ডসে ও গ্র্যাহাম স্যাংশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট অব ২০২৬-এর আওতায়। যা মস্কোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে তৈরি হয়েছিল। শুক্রবার সাইন করা এক্সিকিউটিভ অর্ডারে ট্রাম্প আইনটি কার্যকর করলেও সঙ্গে সঙ্গেই সেই শুল্ক ও নিষেধাজ্ঞা স্থগিত রেখেছেন। এর ফলে ভারতসহ রাশিয়ান তেলের প্রধান ক্রেতারা ১০০ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত শুল্কের হুমকি থেকে মুক্তি পেয়েছে।
গত ১৮ সেপ্টেম্বর ট্রাম্প এই আইনে স্বাক্ষর করেন। (Russian oil)এর মূল লক্ষ্য ছিল রাশিয়ার তেল ও গ্যাস কেনা দেশগুলোকে চাপ দেওয়া, যাতে মস্কোর আয় কমে যায় এবং ইউক্রেন যুদ্ধে তার অবস্থান দুর্বল হয়। আইনে বলা হয়েছিল, রাশিয়ান উৎসের কাঁচা তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের পাঁচটি বৃহত্তম আমদানিকারক দেশ যদি ১৮ অক্টোবরের পর নতুন করে কেনাকাটা করে, তাহলে তাদের পণ্যের ওপর আমেরিকায় ১০০ শতাংশ শুল্ক বসানো যাবে।
আরও দেখুনঃ জম্মু-কাশ্মীরের কেরন সেক্টরে অনুপ্রবেশের চেষ্টা বানচাল! শুরু গানফাইট
রাশিয়া থেকে সরাসরি আমদানিতে শুল্ক বাড়তে পারত ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত। ভারত যেহেতু চিনের পর দ্বিতীয় বৃহত্তম ক্রেতা, তাই রফতানিকারকরা বেশ উদ্বিগ্ন ছিলেন। ভারতীয় পণ্য আমেরিকার বাজারে দ্বিগুণ দামে পৌঁছালে রফতানি কমে যেত এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে টানাপোড়েন বাড়ত।
কিন্তু ট্রাম্প শেষ মুহূর্তে জাতীয় স্বার্থের দোহাই দিয়ে এই ব্যবস্থা স্থগিত রেখেছেন। হোয়াইট হাউসের নির্দেশে তিনি কংগ্রেসে লিখিত রিপোর্ট পাঠিয়েছেন যে এই অব্যাহতি আমেরিকার জাতীয় স্বার্থের অনুকূল। আইন অনুযায়ী প্রেসিডেন্টের এমন ক্ষমতা আছে। ফলে শুল্ক আনুষ্ঠানিকভাবে চাপানো হলেও তা কার্যকর হচ্ছে না। এই ছাড় যতদিন না নতুন করে সিদ্ধান্ত হয়, ততদিন বহাল থাকবে।
এই খবরে ভারত আপাতত স্বস্তিতে। (Russian oil)দেশটি এখনও রাশিয়া থেকে সস্তায় তেল আমদানি করে জ্বালানি নিরাপত্তা বজায় রাখছে। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী রাশিয়ান তেল ভারতের মোট কাঁচা তেল আমদানির এক বড় অংশ দখল করে আছে। এতে পরিশোধন খরচ কমছে এবং সাধারণ মানুষের কাছে জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হচ্ছে। যদি শুল্ক চাপত, তাহলে ভারতকে হয় তেলের উৎস বদলাতে হতো, নয়তো আমেরিকান বাজারে পণ্য বিক্রি কঠিন হয়ে পড়ত।
এই সিদ্ধান্তের পেছনে আরও কিছু বাস্তব কারণ আছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। আমেরিকায় ডিজেলের দাম বেড়েছে এবং মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে ট্রাম্প প্রশাসন জ্বালানি বাজার স্থিতিশীল রাখতে চাইছে। সম্প্রতি রাশিয়ার সঙ্গে ডিজেল সরবরাহের এক ধরনের সমঝোতার কথাও উঠেছে। এমন পরিস্থিতিতে ভারত বা চীনের ওপর চাপ দিলে বিশ্বব্যাপী তেলের দাম আরও বাড়তে পারত, যা আমেরিকান ভোক্তাদের জন্য ক্ষতিকর।
তাছাড়া ভারত-আমেরিকা সম্পর্ক এখন বেশ গুরুত্বপূর্ণ। উভয় দেশই প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়াচ্ছে এবং বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা চলছে। এমন সময়ে বড় ধরনের শুল্ক বিরোধ তৈরি হলে তা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে ছায়া ফেলত। বিদেশমন্ত্রী মার্কো রুবিওর ভারত সফরও এই সময়কালে হচ্ছে, যা সম্পর্ক উন্নয়নের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
তবে একে স্থায়ী মুক্তি বলা যাবে না। (Russian oil)ট্রাম্প প্রশাসন রাশিয়ান জ্বালানি কেনার তথ্য নজরদারি করতে বলেছে এবং প্রয়োজনে আবার ব্যবস্থা নিতে পারবে। কংগ্রেসের কিছু সদস্য ইতিমধ্যেই এই অব্যাহতির সমালোচনা করেছেন। তারা চান কঠোর ব্যবস্থা অব্যাহত থাকুক। ভারতের পক্ষ থেকে বারবার বলা হয়েছে যে জ্বালানি নিরাপত্তা দেশের অগ্রাধিকার এবং বিশ্ব বাজারের স্থিতিশীলতা সবার জন্য জরুরি। এই অব্যাহতি সেই অবস্থানকেই কিছুটা স্বীকৃতি দিয়েছে।