তরুণীর রহস্যমৃত্যু, উধাও স্বামী, দম্পতির দুই নাবালক সন্তান খুঁজে বেরাচ্ছে মা-কে - 24 Ghanta Bangla News
Home

তরুণীর রহস্যমৃত্যু, উধাও স্বামী, দম্পতির দুই নাবালক সন্তান খুঁজে বেরাচ্ছে মা-কে

Spread the love

সুজয় মুখোপাধ্যায়

পঞ্চমীর সন্ধ্যায় বন্ধ ঘর থেকে উদ্ধার হয়েছিল তরুণীর রক্তাক্ত দেহ। খাটের পাশে মেঝেতে পড়েছিল দেহ। ঘরের দরজা বন্ধ ছিল বাইরে থেকে। খোঁজ ছিল না স্বামীর। বৃহস্পতিবার দেহ উদ্ধারের পরে শুক্রবার ২৪ ঘণ্টা কেটে যাওয়ার পরেও খোঁজ নেই মৃত সানন্দার স্বামী মদনমোহনের। মৃত্যুর কারণ নিয়ে এখনও স্পষ্ট কিছু জানায়নি পুলিশ। প্রথম থেকেই মেয়ের মৃত্যুর পিছনে জামাইয়ের হাত থাকার অভিযোগ করেছিল সানন্দার পরিবার। একদিকে মেয়ের রহস্যমৃত্যুর ঘটনা, অন্যদিকে মেয়ের দুই নাবালক সন্তানকে নিয়ে উদ্বেগে সানন্দার পরিবার। তাঁর দুই নাবালক ছেলে রয়েছে, মাকে কাছে না পেয়ে ক্রমাগত মায়ের খোঁজ করে চলেছে তারা। সানন্দার দুই সন্তানের একজন ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ে, অন্যজনের বয়স পাঁচ। মায়ের খোঁজে ক্রমাগত ঘরবার করছে ছোট সন্তান।

বন্ধ ঘর থেকে উদ্ধার যুবতীর রক্তাক্ত মৃতদেহ। বৃহস্পতিবার দুপুরে চুঁচুড়ার প্রতাপপুরে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছড়ায় ব্যাপক চাঞ্চল্য। মৃতার নাম সানন্দা বারিক। তাঁর মৃত্যুর একদিন পরেও এখনও খোঁজ মেলেনি স্বামী মদনমোহন বারিকের। কীভাবে মৃত্যু হল সানন্দার? ঘটনার নেপথ্যে কি রয়েছে অন্য কোনও রহস্য? একাধিক প্রশ্ন ঘিরে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে জল্পনা। যদিও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে চন্দননগর পুলিশ। শুক্রবার ময়নাতদন্তের পরে চুঁচুড়ার প্রতাপপুরের বাড়িতে এসেছে সানন্দার দেহ। ওই এলাকাতেই অন্য একটি বাড়িতে ভাড়া থাকতেন ওই দম্পতি।

১৩ বছর আগে নিজের পছন্দে মদনমোহনকে বিয়ে করেছিলেন সানন্দা। প্রথমে তাঁর পরিবার এই বিয়ে মেনে না নিলেও পরে সব স্বাভাবিক হয়। ওই দম্পতির দুই সন্তান রয়েছে। স্থানীয়দের সূত্রের খবর, মদনমোহন একটি শাড়ি তৈরির সংস্থায় সেলস সংক্রান্ত কোনও পদে কাজ করেন। সেই কাজের জন্য প্রায়শই কলকাতায় যেতে হতো তাঁকে, অনেক সময়ে তাঁর সঙ্গী হতেন সানন্দা। ঘটনার দিন ওই দম্পতির দুই সন্তান মামাবাড়িতে ছিল। মেয়ে-জামাইয়ের সঙ্গে বুধবারের পরে কথা হয়নি বাপের বাড়ির কারও। দীর্ঘক্ষণ ধরে বাড়ি তালাবন্ধ দেখে সানন্দার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন বাড়ির মালিক। তারপরে জানলার ফাঁক দিয়ে খোঁজাখুঁজি করে ঘরের মেঝেতে সানন্দাকে পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেওয়া হয়েছিল।

গোটা ঘটনায় একাধিক ধন্দ তৈরি হয়েছে। ওই দম্পতির মধ্যে কোনও ঝামেলা হতো না বলে জানিয়েছিলেন পড়শিরা। তাহলে কী ভাবে এই মৃত্যু হলো? কোথায় গেলেন মদনমোহন? বাইরে থেকে তালাবন্ধ ছিল কেন? এমন নানা প্রশ্ন উঠে আসছে। সানন্দার পরিবারের তরফে জামাইয়ের দিকে অভিযোগের আঙুল তোলা হয়েছে। কিন্তু জামাইয়ের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট কোনও অভিযোগ করা হয়নি। সব দিক মাথায় রেখে গোটা বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এরই মধ্যে সানন্দার বাবা মনোজ ভদ্র জানিয়েছেন, মেয়ের সঙ্গে তাঁদের বাড়ির দূরত্ব খুব বেশি না হলেও নিয়মিত যাতায়াত ছিল না। তবে ঘটনার আগের দিন তাঁর স্ত্রী মেয়েকে ফোন করেছিলেন। কিন্তু ফোন সুইচড অফ থাকায় যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন তিনি।

স্থানীয় বাসিন্দা সমীর সরকারের দাবি, এই ঘটনার সঙ্গে যে বা যারা যুক্ত রয়েছে, পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করুক এবং ঘটনার প্রকৃত রহস্য সামনে আনুক। চন্দননগর পুলিশের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। কী কারণে সানন্দার মৃত্যু হয়েছে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। প্রাথমিক ভাবে মাথায় আঘাত লেগেছিল বলে জানা গিয়েছে। তিনি পড়ে গিয়ে আঘাত পেয়েছিলেন, নাকি কেউ তাঁকে ধাক্কা দিয়েছিল অথবা অন্য কোনওভাবে আঘাত করা হয়েছিল, তা ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পরই স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। মদনমোহনের মামার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন কেটে দেন।

স্থানীয় বাসিন্দা সূত্রের খবর, আপাতত সানন্দার দুই সন্তানের বিষয়ে বেশি চিন্তিত ওই পরিবার। ওই দুই নাবালক মাকে পাচ্ছে না, নেই বাবাও। পুজোর সময়ে ক্রমাগত মাকে খুঁজছে তারা। বিশেষ করে ছোট সন্তানকে খুব সাবধানে সামলে রাখা হচ্ছে বলে সূত্রের খবর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *