Porsche Mission S উন্মোচন, 911-এর উপরে আসছে নতুন স্পোর্টস কার
স্টুটগার্ট: স্পোর্টস কারের দুনিয়ায় নতুন অধ্যায়ের ইঙ্গিত দিল জার্মানির বিলাসবহুল গাড়ি নির্মাতা পোর্শে। সংস্থাটি প্রকাশ্যে এনেছে ‘মিশন এস’ (Mission S) কনসেপ্ট। এই নতুন কনসেপ্টের মাধ্যমে এমন একটি মিড-ইঞ্জিন প্ল্যাটফর্মের আভাস দেওয়া হয়েছে, যার উপর ভিত্তি করে ভবিষ্যতে পোর্শে ৯১১-এর থেকেও উচ্চতর অবস্থানে থাকা একটি স্পোর্টস কার তৈরি হতে পারে। শুধু একটি সীমিত সংস্করণের হাইপারকার নয়, বরং ভবিষ্যতে সংস্থার নিয়মিত মডেল তালিকায় জায়গা করে নিতে পারে এই নতুন গাড়ি।
পোর্শের ‘স্পোর্টভাগেনশ্মিডে ’৩৫’ (Sportwagenschmiede ’35) কৌশলের অংশ হিসেবেই সামনে এসেছে মিশন এস। গাড়িটির নকশায় সংস্থার ঐতিহাসিক কয়েকটি মডেলের ছাপ রয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতের পোর্শে গাড়ির ডিজাইন এবং প্রযুক্তিগত ভাবনারও ইঙ্গিত মিলেছে এই কনসেপ্টে। তবে এখনও পর্যন্ত গাড়িটির উৎপাদন শুরুর সময়, ইঞ্জিনের ক্ষমতা, পারফরম্যান্স বা সম্ভাব্য দাম সম্পর্কে কোনও তথ্য প্রকাশ করেনি সংস্থা।
পোর্শে মিশন এস: নজরকাড়া বাহ্যিক নকশা
মিশন এস-এর সামনের অংশে রয়েছে নিচু বোনেট, গোলাকার হেডল্যাম্প এবং উঁচু হয়ে থাকা সামনের ফেন্ডার। সরু এলইডি ডে-টাইম রানিং লাইট গাড়িটির সামনের অংশে আধুনিক চেহারা এনেছে। ছাদের সামনের দিকে রয়েছে বড় এয়ার ইনটেক। পাশাপাশি ঢালু ছাদ, শরীরের দু’পাশে ভাস্কর্যের মতো নকশা এবং পিছনের অংশের অ্যারোডাইনামিক বিন্যাস কনসেপ্টটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে।
গাড়ির পিছনে রয়েছে সরু, বিভক্ত টেলল্যাম্প, সক্রিয় রিয়ার উইং এবং বড় ডিফিউজার। ইঞ্জিনের অংশের উপরে রাখা হয়েছে একটি কুলিং ফ্যান। পিছনের এই কুলিং ব্যবস্থার নকশায় পোর্শের ঐতিহাসিক ৯১৭ মডেলের প্রভাব রয়েছে। অন্যদিকে, প্রয়োজন না হলে সক্রিয় রিয়ার উইংটি গুটিয়ে নেওয়া যায়। ফলে গাড়ির নকশায় শুধু সৌন্দর্য নয়, কার্যকারিতার দিকটিও গুরুত্ব পেয়েছে।
মিশন এস-এর ডিজাইনে পোর্শের অতীতের একাধিক বিখ্যাত গাড়ির অনুপ্রেরণা রয়েছে। ছাদের রেখায় ৯৫৯ মডেলের ছাপ দেখা যায়। পিছনের বডিওয়ার্কে রয়েছে ৯১১ জিটি১-এর প্রভাব। আবার চাকায় ব্যবহার করা হয়েছে টেলিফোন-ডায়ালের মতো নকশা, যা পোর্শে ৯২৮-এর কথা মনে করিয়ে দেয়।
পোর্শে স্টাইল বিভাগের প্রধান টোবিয়াস সুহলমান জানিয়েছেন, গাড়ির নকশায় সৌন্দর্য এবং কার্যকারিতার মধ্যে ভারসাম্য রাখা জরুরি। তাঁর ব্যাখ্যা অনুযায়ী, সামনের ফেন্ডারগুলি বোনেটের তুলনায় উঁচুতে রাখার ফলে চালক সামনের চাকার অবস্থান এবং গাড়ির বাইরের প্রান্ত সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পেতে পারেন। অর্থাৎ, নকশার এই বৈশিষ্ট্য শুধু বাহ্যিক সৌন্দর্যের জন্য নয়, চালকের সুবিধার কথাও মাথায় রেখে তৈরি করা হয়েছে।
কেবিনে পুরনো পোর্শের ছোঁয়া, আধুনিক প্রযুক্তি
মিশন এস-এর ভিতরের নকশায় পোর্শে ৫৫০ স্পাইডার এবং ৩৫৬ মডেলের প্রভাব রয়েছে। ড্যাশবোর্ড ও দরজার নকশায় পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত দুটি রেখা ব্যবহার করা হয়েছে। কেবিনে সাদা, ধূসর এবং লাল রঙের সমন্বয় দেখা যায়। আসনের মাঝের প্যানেলে সিটবেল্টের বাকল সংযুক্ত রাখার মতো নকশাও রয়েছে।
স্টিয়ারিং হুইলের পিছনে রাখা হয়েছে পাঁচটি গোলাকার যন্ত্র। এর মধ্যে রয়েছে অ্যানালগ রেভ কাউন্টার। যন্ত্রগুলির পিছনে ডিজিটাল ডিসপ্লে রয়েছে, যার বিন্যাস নির্বাচিত ড্রাইভিং মোড অনুযায়ী বদলাতে পারে। ফলে চালক প্রয়োজন অনুযায়ী গাড়ির বিভিন্ন তথ্য দেখতে পারবেন।
আধুনিক গাড়িতে বড় টাচস্ক্রিনের ব্যবহার ক্রমশ বাড়লেও মিশন এস-এর কেবিনে স্থায়ী কেন্দ্রীয় টাচস্ক্রিন বা যাত্রীর জন্য আলাদা ডিসপ্লে রাখা হয়নি। পরিবর্তে রয়েছে প্রত্যাহারযোগ্য স্মার্টফোন হোল্ডার, যা অ্যাপল ম্যাগসেফের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এর সাহায্যে স্মার্টফোনকে নেভিগেশন এবং অন্যান্য তথ্য দেখার কাজে ব্যবহার করা যাবে।
কেবিনে শুধু ডিজিটাল নিয়ন্ত্রণের উপর নির্ভর করেনি পোর্শে। বিভিন্ন কাজের জন্য রাখা হয়েছে ফিজিক্যাল বাটন, সুইচ এবং পুশ-পুল নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা। ড্রাইভিং ও আরামের সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন ফাংশন পরিচালনা করা যাবে এগুলির মাধ্যমে। পাশাপাশি স্পোর্ট ক্রোনো ব্যবস্থাতেও নতুন বিন্যাস দেখা যায়, যেখানে অ্যানালগ ও ডিজিটাল ডিসপ্লেকে একত্র করা হয়েছে।
‘মাই পোর্শে’ অ্যাপের মাধ্যমে যন্ত্রগুলিতে প্রদর্শিত ডিজিটাল নকশাও বদলানো যাবে। এর ফলে চালক নিজের পছন্দ অনুযায়ী কেবিনের কিছু তথ্যপ্রদর্শনের ধরন সাজিয়ে নিতে পারবেন।
পেট্রল, হাইব্রিড ও প্লাগ-ইন হাইব্রিডের সম্ভাবনা
মিশন এস-এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হল এর নতুন মিড-ইঞ্জিন প্ল্যাটফর্ম। পোর্শে এখনও পর্যন্ত এই কনসেপ্টের জন্য নির্দিষ্ট ইঞ্জিন, শক্তি উৎপাদনের পরিমাণ বা অন্য কোনও প্রযুক্তিগত বিবরণ ঘোষণা করেনি। তবে সংস্থার বক্তব্য অনুযায়ী, ভবিষ্যতের এই প্ল্যাটফর্মে একাধিক ধরনের পাওয়ারট্রেন ব্যবহার করা সম্ভব হবে।
পোর্শের চেয়ারম্যান মাইকেল লাইটার্স জানিয়েছেন, এই প্ল্যাটফর্মের উদ্দেশ্য একবারের জন্য তৈরি কোনও বিশেষ হাইপারকার বাজারে আনা নয়। বরং গ্রাহকদের জন্য সংস্থার নিয়মিত মডেল তালিকায় একটি স্থায়ী ও বহুমুখী সংযোজন তৈরি করা। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, নতুন গাড়িটির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় দীর্ঘমেয়াদি বাজার কৌশল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিচ্ছে।
লাইটার্সের কথায়, গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী এই প্ল্যাটফর্মে প্রচলিত অভ্যন্তরীণ দহন ইঞ্জিন, হাইব্রিড এবং প্লাগ-ইন হাইব্রিড—তিন ধরনের পাওয়ারট্রেনের ব্যবস্থা রাখা যেতে পারে। তবে এই প্ল্যাটফর্মে সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক গাড়ি তৈরির পরিকল্পনা আপাতত নেই বলে তিনি জানিয়েছেন। তাঁর ব্যাখ্যা, এই নির্দিষ্ট বিভাগে বর্তমানে বৈদ্যুতিক গাড়ির যথেষ্ট চাহিদা নেই।
কবে বাজারে আসবে নতুন পোর্শে?
মিশন এস আপাতত একটি কনসেপ্ট গাড়ি। এর উপর ভিত্তি করে তৈরি উৎপাদনযোগ্য মডেল কবে বাজারে আসবে, তা এখনও ঘোষণা করেনি পোর্শে। একইভাবে সম্ভাব্য দাম, ইঞ্জিনের ক্ষমতা, সর্বোচ্চ গতি, ত্বরণের সময় কিংবা অন্যান্য পারফরম্যান্স সংক্রান্ত তথ্যও প্রকাশ করা হয়নি।
তবে ৯১১-এর উপরে অবস্থান করতে পারে এমন একটি নতুন স্পোর্টস কারের পরিকল্পনা পোর্শের মডেল কৌশলে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ঐতিহাসিক ডিজাইনের সঙ্গে আধুনিক প্রযুক্তি এবং একাধিক পাওয়ারট্রেন ব্যবহারের নমনীয়তা মিলিয়ে মিশন এস ভবিষ্যতের একটি সম্ভাব্য মডেলের দিশা দেখাচ্ছে। শেষ পর্যন্ত উৎপাদনযোগ্য গাড়িতে কনসেপ্টটির কতটা বৈশিষ্ট্য বজায় থাকবে, তা জানার জন্য পোর্শের পরবর্তী ঘোষণার অপেক্ষা করতে হবে।
Essential Business Intelligence, Sharp Market Insights, Practical Personal Finance Advice, Daily Fuel, Gold and Silver Prices and Latest Stories – On Kolkata24x7 Business