মোদী রাজ্যে CAA তে ভারতের নাগরিকত্ব পেলেন ৩১৯ পাকিস্তানি হিন্দু পরিবার
রাজকোট: রাজকোটের প্রমুখ স্বামী অডিটোরিয়ামে এক বিশেষ অনুষ্ঠানে (Pakistani Hindu)পাকিস্তান থেকে আসা ৩১৯ হিন্দু পরিবারের সদস্যদের হাতে ভারতীয় নাগরিকত্বের সনদ তুলে দেওয়া হয়েছে। গুজরাটের উপমুখ্যমন্ত্রী…
রাজকোট: রাজকোটের প্রমুখ স্বামী অডিটোরিয়ামে এক বিশেষ অনুষ্ঠানে (Pakistani Hindu)পাকিস্তান থেকে আসা ৩১৯ হিন্দু পরিবারের সদস্যদের হাতে ভারতীয় নাগরিকত্বের সনদ তুলে দেওয়া হয়েছে। গুজরাটের উপমুখ্যমন্ত্রী হর্ষ সাংঘভি নিজে এই সনদ বিতরণ করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত অনেকেই আবেগে ভেঙে পড়েন। চোখের জল গড়িয়ে পড়ে তাদের গাল বেয়ে। বছরের পর বছর অনিশ্চয়তার পর অবশেষে তারা নিজেদের প্রকৃত পরিচয়ে ভারতের নাগরিক হয়ে উঠেছেন।
উপমুখ্যমন্ত্রী সাংঘভি উপস্থিত সবাইকে বলেন, আজ থেকে আপনারা সবাই ভারতের নাগরিক। হাসিমুখে নতুন জীবন শুরু করুন। তিনি এই দিনটিকে পরিবারগুলোর জন্য দীপাবলির মত উৎসব বলে বর্ণনা করেন। পাকিস্তানে নিপীড়ন ও নিরাপত্তাহীনতার শিকার হয়ে যারা গুজরাটে আশ্রয় নিয়েছিলেন, তাদের জন্য এটি এক নতুন শুরুর দিন। নাগরিকত্ব সংশোধন আইন বা সিএএ-এর মাধ্যমেই এই সুযোগ এসেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সিদ্ধান্ত এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের উদ্যোগের জন্য তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
আরও দেখুনঃ চলতি মাসেই সংসদের বিশেষ অধিবেশন? লক্ষ্য সীমা পুনর্বিন্যাস ও মহিলা সংরক্ষণ বিল পাস
এই তিনশো উনিশজনের মধ্যে রাজকোট জেলার দুইশো ঊনষাটজন, মোরবির তিপ্পান্নজন, কচ্ছের ছয়জন এবং সুরেন্দ্রনগরের একজন রয়েছেন। অনেকেই বছরের পর বছর ধরে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় বসবাস করছিলেন। (Pakistani Hindu)পাকিস্তানের থরপারকর অঞ্চলসহ বিভিন্ন জায়গায় হিন্দুদের ওপর অত্যাচারের কথা স্মরণ করে উপমুখ্যমন্ত্রী বলেন, এখন তারা আর নাম গোপন করে বাঁচতে বাধ্য হবেন না। নিজেদের আসল পরিচয়ে মর্যাদার সঙ্গে জীবনযাপন করতে পারবেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত সেনসাস অপারেশনের ডিরেক্টর সুজল মায়াত্রা জানান, সিএএ-এর আওতায় গুজরাটে ইতিমধ্যে দেড় হাজারেরও বেশি মানুষ নাগরিকত্ব পেয়েছেন। নতুন নাগরিকরা দেশের উন্নয়নে অবদান রাখবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। রাজকোটের মেয়র, স্থানীয় সাংসদ, বিধায়ক এবং জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
পাকিস্তান থেকে আসা এই পরিবারগুলো দীর্ঘদিন ধরে অনিশ্চয়তার মধ্যে ছিলেন। অনেকেই ধর্মীয় নিপীড়নের শিকার হয়ে ভারতে আশ্রয় নেন। এখন নাগরিকত্ব পাওয়ার ফলে তারা শিক্ষা, চাকরি, সম্পত্তির মালিকানাসহ সব নাগরিক অধিকার ভোগ করতে পারবেন। তাদের সন্তানরাও সমান সুযোগ পাবে। উপমুখ্যমন্ত্রী তাদের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল হোক এবং তারা দেশ গড়ার কাজে যুক্ত হোন।
নাগরিকত্ব সংশোধন আইন ২০১৯-এর মাধ্যমে আফগানিস্তান, বাংলাদেশ ও পাকিস্তান থেকে আসা হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পারসি ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মানুষদের নাগরিকত্ব দেওয়ার পথ সুগম হয়েছে। এই আইনের বাস্তবায়নের ফলেই রাজকোটে এমন বড় সংখ্যায় একদিনে নাগরিকত্ব বিতরণ সম্ভব হয়েছে। অনেক পরিবারের জন্য এটি দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান। তারা এখন নিশ্চিন্তে নিজেদের দেশে বসবাস করতে পারবেন।