বাংলায় সৌরশক্তিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা টাটার! বিনিয়োগ ২৫০০ কোটি
কলকাতা: টাটা পাওয়ার পশ্চিমবঙ্গে বড় ধরনের সৌরশক্তি (Tata Power)প্রকল্পে বিনিয়োগের পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে। প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকা খরচ করে রাজ্যজুড়ে মোট পাঁচশ মেগাওয়াট ক্ষমতার…
কলকাতা: টাটা পাওয়ার পশ্চিমবঙ্গে বড় ধরনের সৌরশক্তি (Tata Power)প্রকল্পে বিনিয়োগের পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে। প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকা খরচ করে রাজ্যজুড়ে মোট পাঁচশ মেগাওয়াট ক্ষমতার সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র গড়ে তোলার কথা ভাবছে সংস্থাটি।
এই প্রস্তাব এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে থাকলেও রাজ্য সরকারের সঙ্গে আলোচনা শুরু হয়ে গেছে। জমি পাওয়ার জন্য তারা ইতিমধ্যেই প্রশাসনের কাছে আবেদন করেছে এবং তিন-চারটি সম্ভাব্য স্থান চিহ্নিত করা হয়েছে।
আরও দেখুনঃ ষষ্ঠীর প্যান্ডেল হপিংয়ে কি বাধা হয়ে দাঁড়াবে বৃষ্টি? জানুন আবহাওয়ার আপডেট
সংস্থার সিইও ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর প্রবীর সিনহা জানিয়েছেন, এক জায়গায় বড় পরিমাণ জমি পাওয়া কঠিন হওয়ায় একাধিক স্থানে প্রকল্প ভাগ করে করা হতে পারে। প্রতিটি প্রকল্পের আকার একশ থেকে পাঁচশ মেগাওয়াট পর্যন্ত হতে পারে, যা জমির উপলব্ধতা ও সম্ভাব্যতার ওপর নির্ভর করবে।
হলদিয়া, বাঁকুড়া, দুর্গাপুরসহ উত্তরবঙ্গের কিছু এলাকায় জমি খোঁজা হচ্ছে। চা বাগানে নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার শুরু হওয়ায় উত্তরবঙ্গেও আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। সবকিছু ঠিকঠাক এগোলে আগামী বছরের দূর্গা পুজোর আগে প্রকল্প বাস্তবায়নের সম্ভাবনা রয়েছে।
শুধু বড় সৌর পার্ক নয়, ছাদে সৌর প্যানেল স্থাপনের ক্ষেত্রেও টাটা পাওয়ার সক্রিয়।(Tata Power) গত এক বছরে রাজ্যে প্রায় ছয় হাজার ছাদসৌর সিস্টেম বসিয়েছে তারা। মোট স্থাপনা এখন প্রায় বাইশ হাজার। আগামী তিন বছরে তিন লাখ বাড়িতে ছাদসৌর পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়েছে সংস্থা। কলকাতায় দুর্গাপুজোর আগে তারা ‘ঘর ঘর সোলার’ উদ্যোগের অংশ হিসেবে ছাদসৌর ও ব্যাটারি স্টোরেজ সমাধান চালু করেছে। জিরো ডাউন পেমেন্ট স্কিমও চালু করা হয়েছে, যাতে সাধারণ মানুষ সহজে এই সুবিধা নিতে পারেন।
তবে ছাদসৌর গ্রহণের হার পশ্চিমবঙ্গে এখনও অনেক কম। গুজরাট, ওডিশা বা আসামের তুলনায় এখানে প্রবেশযোগ্যতা কম। কেন্দ্রীয় সরকারের পিএম সূর্য ঘর মুফত বিদ্যুৎ যোজনার আওতায় ভর্তুকি মিললেও রাজ্য সরকারের অতিরিক্ত সহায়তা দরকার বলে মনে করছে টাটা পাওয়ার রিনিউয়েবল এনার্জি।
সংস্থার এমডি সঞ্জয় বাঙ্গা বলেছেন, ওডিশা, বিহার বা অসমের মত পশ্চিমবঙ্গেও প্রতিটি স্থাপনায় পনেরো থেকে পঁচিশ হাজার টাকা অতিরিক্ত ভর্তুকি দিলে গ্রহণযোগ্যতা অনেক বাড়বে। বিশেষ করে এক থেকে দুই কিলোওয়াটের ছোট সিস্টেমে এই সহায়তা নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
রাজ্য সরকার ইতিমধ্যে কেন্দ্রীয় প্রকল্পে যোগ দিয়েছে এবং মার্চ ২০২৭-এর মধ্যে পাঁচ লাখ বাড়িতে ছাদসৌর স্থাপনের লক্ষ্য স্থির করেছে। (Tata Power)তবে অন্যান্য রাজ্যের তুলনায় এখানকার অতিরিক্ত ভর্তুকির পরিমাণ কম। টাটা পাওয়ার আশা করছে, সরকার এই বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেবে। এতে বিদ্যুৎ বিল কমবে, পরিবেশ রক্ষা হবে এবং নবায়নযোগ্য শক্তির দিকে রাজ্য এগোবে।