পুজোয় শহরে না থাকলে মন যে বড় কাঁদে: ব্রততী বন্দ্যোপাধ্যায়
পুজোর কয়েকটি দিন আনন্দে কেটে যেত। ছোটবেলায় স্কুল ছুটি পড়ে যেত বলে অনেক বন্ধুর সঙ্গে দেখা হতো না। ইস, তখন যদি মোবাইল থাকতো তা হলে বন্ধুদের অনুপস্থিতি আর টের পেতাম না। এখন পুজোয় ঘোরাঘুরি করি না তা নয়। তবে সময় ও পরিস্থিতির কারণে সব সময়ে সম্ভব হয় না। আমি, আমার ভাই, বাবা, মা সবাই মিলে আমরা কোনও না কোনও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নিতাম। পঞ্চমী থেকে নবমী এই ক’দিন টানা অনুষ্ঠান চলতো। আর এই সময়ে পাড়া ছেড়ে আমরা কেউই আর কোথাও যেতাম না। তবে হ্যাঁ, নবমীর রাত থেকে ছবিটা বদলে যেত। বাবা গাড়ি করে আমাদের নিয়ে বেরিয়ে পড়তেন। সারা রাত ধরে কলকাতার প্রায় সবক’টি সেরা পুজো দেখা হয়ে যেত। ভাসানের দিন পাড়া ছেড়ে আর কোথাও বেরোতাম না। দশমী মানেই ঘুঘনি, নাড়ু ও কুচো নিমকি খাওয়ার মজা এখনও ভুলতে পারি না। আজ থেকে ২৫-৩০ বছর আগেও পাড়ায়-পাড়ায় কত মেলামেশা এবং একাত্মতা কাজ করতো। সবাই সবার বাড়ি যেতেন, বিশেষ করে বিজয়া দশমী উপলক্ষে। আর এখন? কাল-সময়-পরিস্থিতি যেন আমাদের সমাজটাকেই বদলে দিল। তার বোধহয় বড় কারণ মানুষের ব্যস্ততা।