এয়ার থ্রাস্টার নিয়ে উড়বে টেসলার নতুন রোডস্টার! - 24 Ghanta Bangla News
Home

এয়ার থ্রাস্টার নিয়ে উড়বে টেসলার নতুন রোডস্টার!

Spread the love

নয়াদিল্লি: গাড়ির দুনিয়ায় নতুন চমক দিতে চলেছে টেসলা। সংস্থার নতুন বৈদ্যুতিক স্পোর্টস কার ‘রোডস্টার’-এর (Tesla Roadster) প্রি-প্রোডাকশন মডেল প্রকাশ্যে এসেছে। এই গাড়ির বিশেষত্ব শুধু তার গতি নয়, বরং বিশেষ এয়ার থ্রাস্টারের সাহায্যে অল্প সময়ের জন্য মাটি ছেড়ে উপরে ওঠা এবং আকাশে নির্দিষ্ট কিছু কৌশল দেখানোর ক্ষমতা। টেসলার ঘোষণা অনুযায়ী, গাড়িটির উৎপাদন শুরু হতে পারে ২০২৮ সালে। ভারতে পারফরম্যান্স সংস্করণ এবং থ্রাস্ট প্যাকেজের জন্য বুকিংও শুরু হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। বুকিংয়ের জন্য নির্ধারিত অর্থ ৫ লক্ষ টাকা।

নতুন রোডস্টারকে তিনটি কনফিগারেশনে আনার পরিকল্পনা রয়েছে পারফরম্যান্স, থ্রাস্ট এবং রকেট। শেষের দুটি প্যাকেজে অতিরিক্ত প্রযুক্তি যুক্ত করা হয়েছে। তবে রকেট সংস্করণটি সাধারণ বুকিংয়ের জন্য নয়; এটি শুধুমাত্র আমন্ত্রণের ভিত্তিতে পাওয়া যাবে বলে জানানো হয়েছে। গাড়িটির চূড়ান্ত প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্য, ব্যাটারির ক্ষমতা, মোটরের শক্তি এবং একবার চার্জে কত দূর চলবে, সে বিষয়ে এখনও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি টেসলা।

কীভাবে কাজ করবে রোডস্টারের ‘উড়ন্ত’ প্রযুক্তি?

নতুন রোডস্টারের সবচেয়ে আলোচিত বৈশিষ্ট্য হল এর এয়ার থ্রাস্টার ব্যবস্থা। প্রচলিত রকেট ইঞ্জিনের মতো জ্বালানি পুড়িয়ে শক্তি তৈরি করার বদলে এই ব্যবস্থায় উচ্চচাপে সঞ্চিত ঠান্ডা বাতাস নোজলের মাধ্যমে বাইরে বের করা হয়। সেই বাতাসের প্রতিক্রিয়ায় তৈরি হওয়া থ্রাস্ট গাড়ির গতিবিধি নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। টেসলার পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই প্রযুক্তির সাহায্যে গাড়িটি অল্প সময়ের জন্য মাটি থেকে উপরে উঠতে এবং বাতাসে নির্দিষ্ট কিছু কৌশল দেখাতে পারবে।

tesla-roadster-air-thrusters-pre-booking-price-production

তবে এই প্রযুক্তিকে প্রচলিত উড়ন্ত গাড়ির সঙ্গে এক করে দেখা ঠিক হবে না। গাড়িটি কতটা উচ্চতায় উঠতে পারবে, কতক্ষণ বাতাসে থাকতে পারবে কিংবা বাস্তবে কতটা নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে পারবে, সে সম্পর্কে এখনও বিস্তারিত পরীক্ষার ফল বা চূড়ান্ত প্রযুক্তিগত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তাই আপাতত এটিকে টেসলার ঘোষিত প্রযুক্তিগত সক্ষমতা হিসেবেই দেখা উচিত।

পারফরম্যান্স সংস্করণে থাকবে গাড়ির তলার দিকে একটি বিশেষ সাকশন ফ্যান। সংস্থার দাবি, এই ফ্যানের সাহায্যে ২জি পর্যন্ত গ্রিপ তৈরি করা সম্ভব। অর্থাৎ, গাড়ির নীচে বায়ুচাপের পার্থক্য কাজে লাগিয়ে রাস্তার সঙ্গে সংযোগ বাড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে। এই সংস্করণটিই অন্য দুটি কনফিগারেশনের ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।

থ্রাস্ট প্যাকেজে পিছনের দিকে চারটি অতিরিক্ত থ্রাস্টার থাকবে। আর রকেট সংস্করণে আরও ১০টি থ্রাস্টার যুক্ত করা হবে। এই অতিরিক্ত ব্যবস্থার সাহায্যে বাতাসে ওঠা এবং বিশেষ ধরনের মুভমেন্ট করার ক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে। তবে এই সমস্ত দাবি বাস্তব পরিস্থিতিতে কতটা কার্যকর হবে, তা বোঝার জন্য উৎপাদনযোগ্য মডেলের পরীক্ষা এবং বিস্তারিত তথ্যের অপেক্ষা করতে হবে।

এক সেকেন্ডেরও কম সময়ে ১০০ কিমি গতি?

টেসলার দাবি, নতুন রোডস্টার শূন্য থেকে ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটার গতিতে পৌঁছতে এক সেকেন্ডেরও কম সময় নিতে পারে। এই দাবি সত্যি হলে গাড়িটি বিশ্বের দ্রুততম অ্যাক্সিলারেশন-ক্ষমতাসম্পন্ন স্পোর্টস কারগুলির মধ্যে জায়গা করে নিতে পারে। তবে এই পারফরম্যান্সের দাবি যাচাই করার জন্য এখনও চূড়ান্ত উৎপাদন মডেলের নির্ভরযোগ্য পরীক্ষার তথ্য সামনে আসেনি।

গাড়িটির ব্যাটারির ক্ষমতা, মোটরের আউটপুট, সর্বোচ্চ গতি এবং একবার চার্জে সম্ভাব্য রেঞ্জ সম্পর্কেও টেসলা বিস্তারিত জানায়নি। ফলে শুধু ঘোষিত অ্যাক্সিলারেশন সময়ের ভিত্তিতে গাড়িটির সামগ্রিক পারফরম্যান্স বিচার করা এখনই সম্ভব নয়।

ডিজাইনে সাইবারট্রাক ও যুদ্ধবিমানের প্রভাব

২০১৭ সালে সামনে আসা রোডস্টার কনসেপ্টের তুলনায় ২০২৬ সালের নতুন প্রি-প্রোডাকশন মডেলের বাইরের নকশায় বড় পরিবর্তন দেখা গিয়েছে। আগের কনসেপ্টে ছিল গোলাকার সামনের অংশ, মসৃণ বডি এবং খুলে নেওয়া যায় এমন কাচের ছাদ। নতুন মডেলে সেই নকশার বদলে এসেছে আরও ধারালো, ওয়েজ-আকৃতির গঠন। এতে টেসলার সাইবারট্রাকের ডিজাইনের সঙ্গে কিছুটা মিল রয়েছে।

গাড়িটির নকশায় এসআর-৭১ ব্ল্যাকবার্ড বিমান এবং এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের মতো মহাকাশ ও বিমান প্রযুক্তি-অনুপ্রাণিত বৈশিষ্ট্যও রয়েছে। সামনের দিকে হেডল্যাম্পগুলি আড়াল করে রাখা হয়েছে। পিছনে রয়েছে পুরো প্রস্থ জুড়ে এলইডি টেললাইট এবং বড় সক্রিয় রিয়ার উইং। এই উইং গাড়ির ডাউনফোর্স এবং বায়ুর বাধার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করবে বলে পরিকল্পনা করা হয়েছে।

বডির বাইরের অংশে মসৃণ, ফ্লাশ-মাউন্টেড প্যানেল এবং সরু স্পোকের চাকা ব্যবহার করা হয়েছে। নতুন ‘অ্যানো হোয়াইট’ রঙের পাশাপাশি সোনালি আভাযুক্ত কাচ এবং টাইটানিয়ামের মতো উপাদানের ব্যবহারও নজরে পড়েছে। সব মিলিয়ে নতুন রোডস্টারের ডিজাইন আগের তুলনায় অনেক বেশি ভবিষ্যৎমুখী।

দুই আসনের কেবিন, ইয়োক স্টিয়ারিং ও টাচস্ক্রিন

নতুন রোডস্টারের ভিতরেও বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। ২০১৭ সালের কনসেপ্টে দুই প্লাস দুই আসনের বিন্যাস এবং খুলে নেওয়া যায় এমন কাচের ছাদ ছিল। নতুন মডেলে রাখা হয়েছে দুই আসনের কেবিন। ফলে গাড়িটির চরিত্র আরও বেশি চালককেন্দ্রিক স্পোর্টস কারের মতো হয়েছে।

কেবিনে রয়েছে ইয়োক-ধরনের স্টিয়ারিং ইউনিট, যার মধ্যে ফিজিক্যাল নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা রয়েছে। এর সঙ্গে কাজ করবে স্টিয়ার-বাই-ওয়্যার প্রযুক্তি। এই ব্যবস্থায় স্টিয়ারিংয়ের নির্দেশ ইলেকট্রনিক সিগন্যালের মাধ্যমে চাকার দিকে পৌঁছয়। ব্রেক এবং অ্যাক্সিলারেটরের নিয়ন্ত্রণও ইলেকট্রনিক ব্যবস্থার উপর নির্ভর করবে।

ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে কেবিনে কার্বন ফাইবার, ম্যাগনেশিয়াম এবং টাইটানিয়ামের মতো হালকা উপাদান ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। ভিতরের অংশে সাদা রঙের সঙ্গে ধূসর মাইক্রোসুয়েডের ব্যবহার এবং বেশি পার্শ্ব-সমর্থনযুক্ত আসন রাখা হয়েছে।

রকেট সংস্করণে অতিরিক্ত থ্রাস্টার ও সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি বসানোর জন্য যাত্রীর আসনটি বাদ দেওয়া হবে। ফলে পারফরম্যান্স ও থ্রাস্ট সংস্করণে দুটি আসন থাকলেও রকেট সংস্করণে থাকবে শুধু চালকের আসন। টেসলার বক্তব্য অনুযায়ী, রকেট সংস্করণটি সাধারণ রাস্তায় চলাচলের জন্য অনুমোদিত নয়।

ভারতে বুকিং ও রাস্তায় চলার অনুমতি নিয়ে প্রশ্ন

ভারতে পারফরম্যান্স সংস্করণ এবং থ্রাস্ট প্যাকেজের বুকিংয়ের জন্য ৫ লক্ষ টাকা জমা দিতে হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে। তবে এই অর্থ বুকিংয়ের জন্য নির্ধারিত; এটিকে গাড়ির চূড়ান্ত দাম হিসেবে ধরে নেওয়া যাবে না। রকেট সংস্করণটি আমন্ত্রণের ভিত্তিতে পাওয়া যাবে বলে জানানো হয়েছে।

ভারতে পারফরম্যান্স সংস্করণের সাকশন ফ্যান এবং পিছনের অতিরিক্ত থ্রাস্টার-সহ থ্রাস্ট প্যাকেজের সড়ক-ব্যবহারের অনুমতি পাওয়া যাবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। রকেট সংস্করণ যে সাধারণ রাস্তায় চালানোর জন্য অনুমোদিত নয়, টেসলা তা জানিয়েছে। অন্য দুটি সংস্করণের ক্ষেত্রেও ভারতের প্রযোজ্য যানবাহন আইন ও অনুমোদনের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

২০১২ সালে বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর রোডস্টার নামটি নিয়ে আবার ফিরছে টেসলা। ২০২৮ সালে উৎপাদন শুরুর লক্ষ্য সামনে রেখে সংস্থাটি এবার এমন একটি বৈদ্যুতিক স্পোর্টস কারের পরিকল্পনা করছে, যেখানে অত্যন্ত দ্রুত গতি, নতুন ডিজাইন এবং এয়ার থ্রাস্টারের মতো পরীক্ষামূলক প্রযুক্তি একসঙ্গে থাকবে। তবে উৎপাদনযোগ্য মডেলে এই বৈশিষ্ট্যগুলির কতটা বজায় থাকবে এবং গাড়িটি বাস্তবে কবে গ্রাহকদের হাতে পৌঁছবে, তা জানতে পরবর্তী ঘোষণার অপেক্ষা করতে হবে।

Essential Business Intelligence, Sharp Market Insights, Practical Personal Finance Advice, Daily Fuel, Gold and Silver Prices and Latest Stories – On Kolkata24x7 Business

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *