ইরানে হামলার ছক! ‘মাদার অব অল বম্বস’ কি ধ্বংস করতে পারবে পাহাড়ের নীচে থাকা পরমাণু ঘাঁটি?
ওয়াশিংটন: আমেরিকার হাতে থাকা সবচেয়ে শক্তিশালী অ-পারমাণবিক বোমা কি ইরানের ভূগর্ভস্থ পরমাণু পরিকাঠামো ধ্বংস করতে পারবে? মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে…
ওয়াশিংটন: আমেরিকার হাতে থাকা সবচেয়ে শক্তিশালী অ-পারমাণবিক বোমা কি ইরানের ভূগর্ভস্থ পরমাণু পরিকাঠামো ধ্বংস করতে পারবে? মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে বলে দাবি CNN-এর একটি প্রতিবেদনে। সেই সম্ভাব্য হামলার বিকল্পগুলির মধ্যে উঠে এসেছে ‘মাদার অব অল বম্বস’ (MOAB)-এর নাম। তবে এই বিপুল ক্ষমতাসম্পন্ন বোমা ব্যবহার করলেও লক্ষ্যপূরণ কতটা সম্ভব, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে সামরিক বিশেষজ্ঞদের একাংশের।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের জ্বালানি পরিকাঠামো এবং নাতানজের কাছে পাহাড়ের গভীরে তৈরি হওয়া সন্দেহভাজন পরমাণু স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলার পরিকল্পনা বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে এই বিষয়ে এখনও কোনও সরকারি ঘোষণা হয়নি।
বোমাটির সরকারি নাম GBU-43/B Massive Ordnance Air Blast। ২০০৩ সালে তৈরি এই অস্ত্রের ওজন প্রায় ৯,৮০০ কেজি। জিপিএস-নির্দেশিত এই বোমা মাটির উপরে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে বিস্তীর্ণ এলাকায় ভয়াবহ ধাক্কা ও ধ্বংস সৃষ্টি করতে পারে। সামরিক সরঞ্জাম, সেনা সমাবেশ এবং মাটির উপরে থাকা বিভিন্ন স্থাপনা ধ্বংস করাই এর অন্যতম উদ্দেশ্য।
২০০৩ সালে কার্যকর হওয়া এই বোমা আমেরিকা প্রথম এবং এখনও পর্যন্ত একবারই যুদ্ধে ব্যবহার করেছে। ২০১৭ সালের ১৩ এপ্রিল আফগানিস্তানের নানগরহার প্রদেশে ইসলামিক স্টেটের সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক লক্ষ্য করে সেটি নিক্ষেপ করা হয়েছিল। আফগান প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষের দাবি ছিল, ওই হামলায় অন্তত ৩৬ জন জঙ্গি নিহত হন। তবে হামলার প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি এবং এত বড় বোমার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে পরবর্তী সময়ে প্রশ্ন উঠেছিল।
পাহাড়ের গভীরে ইরানের পরমাণু ঘাঁটি
ইরানের নাতানজ পরমাণু কেন্দ্রের কাছে অবস্থিত পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন বা কুহ-এ কলাং গাজ লা এখন আমেরিকার সম্ভাব্য সামরিক পরিকল্পনার আলোচনায় রয়েছে। উপগ্রহচিত্র বিশ্লেষণ করে গবেষকদের একাংশের অনুমান, পাহাড়ের ভিতরে বিস্তৃত ভূগর্ভস্থ পরিকাঠামো তৈরি করা হচ্ছে। এর কিছু অংশ মাটির প্রায় ৯১ থেকে ১৩৭ মিটার গভীরে থাকতে পারে বলে দাবি করেছেন বিশেষজ্ঞেরা। তবে সেখানে ঠিক কী ধরনের পরমাণু সরঞ্জাম রয়েছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।
সেপ্টেম্বরের ৯ তারিখে প্রকাশিত ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা সংস্থা CSIS-এর বিশ্লেষণে সুড়ঙ্গের প্রবেশপথ শক্তিশালী করা এবং সংযোগকারী রাস্তার উন্নয়নের মতো নির্মাণকাজের উল্লেখ রয়েছে। অন্যদিকে, Institute for Science and International Security-এর ১৭ সেপ্টেম্বরের বিশ্লেষণেও সুড়ঙ্গের মুখে অতিরিক্ত মাটি জমা করার বিষয়টি উঠে এসেছে।
কেন ব্যর্থ হতে পারে হামলা?
MOAB-এর মূল শক্তি বিস্তীর্ণ এলাকায় ধ্বংস ঘটানো। কিন্তু পাহাড়ের গভীরে প্রবেশ করে সুরক্ষিত কক্ষ ধ্বংস করার জন্য এই বোমা তৈরি হয়নি। ফলে বিস্ফোরণে সুড়ঙ্গের মুখ, রাস্তা কিংবা উপরের স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও ভূগর্ভস্থ মূল পরিকাঠামো অক্ষত থাকার আশঙ্কা রয়েছে।
এই ধরনের লক্ষ্যবস্তুর জন্য আমেরিকার কাছে রয়েছে GBU-57 Massive Ordnance Penetrator। প্রায় ১৩,৬০০ কেজি ওজনের এই বোমা মাটি ও শক্ত কাঠামো ভেদ করে গভীরে বিস্ফোরণ ঘটানোর উদ্দেশ্যে তৈরি। ২০২৫ সালের জুনে ইরানের ফোর্দো ও নাতানজ পরমাণু স্থাপনায় মার্কিন হামলায় এই অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছিল। তা সত্ত্বেও পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনের মতো গভীর ভূগর্ভস্থ স্থাপনা পুরোপুরি ধ্বংস করা কতটা সম্ভব, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।
পরমাণু হুমকি কি শেষ হবে?
পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনের ভিতরে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ চলছে কি না, কিংবা সেখানে সেন্ট্রিফিউজ সরানো হয়েছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত প্রমাণ এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। ফলে হামলা চালিয়ে প্রবেশপথ ধ্বংস করলেও ইরানের পরমাণু সক্ষমতা পুরোপুরি নির্মূল করা যাবে কি না, তা স্পষ্ট নয়।
CNN-কে হোয়াইট হাউসের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, ইরান যাতে কখনও পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে ট্রাম্প সব বিকল্প খোলা রাখছেন। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু বোমাবর্ষণ দিয়ে সমস্যার স্থায়ী সমাধান নাও হতে পারে। শেষ পর্যন্ত কূটনৈতিক সমঝোতাই ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
শিকাগোর হিন্দু মন্দিরে কিশোরের নৃশংস হামলার ছক কী ভাবে ভেস্তে দিল পুলিশ?
নবী মহম্মদকে অপমান করা শ্রীলঙ্কান যুবকের মৃত্যদন্ড বাতিল করল সৌদি সুপ্রিমকোর্ট