ইনকিলাব জিন্দাবাদ – ব্রজ সৌরভ চট্টোপাধ্যায়: ছোটগল্প
( ৫ )
ভবা এগোলে ধীরে সুস্থে বাড়তে থাকে রোদ। ভবা রোদের হাসির মতো, অভ্যেসের মতো এগোতে এগোতে পৌঁছয় সামনের লটারির দোকানে। এখানে ভাগ্য পরীক্ষা করে আপামর জনতা। প্রায় রোজই সকালে গাঁদা ফুলের মালা ঝোলে। লাল আর হলদেটে মালা একসঙ্গে পাঞ্চ হয়ে যেদিন মোটা করে ঝোলে, বুঝতে হবে আগের রাত্তিরে কেউ লাখপতি হয়েছে এই দোকান থেকে। লটারির প্রতি ভবার অমোঘ আকর্ষণ। দোকানে টনটনে করে টানানো লটারির রেজাল্টের পাতাটা বিড়বিড় করে ভবা পড়ে আর মনে মনে হিসেব করে বত্রিশ বাহান্ন তিনশো নয় সাতশো ছত্রিশ… লটারির লোকটা ভবাকে দেখামাত্রই বলে— কী রে ভবা, একবার ট্রাই কর। কতদিন আর পুরনো কম্বল জড়িয়ে ঘুরে মরবি ! ভবা ফের হাসে। বোকা বোকা ম্যাজিক শেষে বুড়ো ম্যাজিকওয়ালা যেমন ফোকলা হেসেও মন জিতে নেয় ছোটখাটো স্কুলের লেলামার্কা বাচ্চাদের, অমন হাসি হাসে ভবা। লটারিওয়ালা রোজ এক তাড়া পুরনো লটারির টিকিট ভবার ঝোলায় ফেলে দেয় ভিক্ষা দেওয়ার মতো। ভবা নিজের ডানহাতটা কপালে মিলিটারি লোকদের মতো ঠেকায় আর বিড়বিড় করে ওঠে— ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’। ভবা এগোতে থাকে।
( ৬ )
যে শহরে এই ভবা থাকে, সেখানে দুপুর নামে থতমত শুয়োরের মতো। দুপুরে ভর্তি পেট অথবা খালি পেটেই ভবা কোনো এক গাছতলা কিম্বা গাড়ি বারান্দার নীচে পেট চেপে শুয়ে ঝোলা উপুড় করে দেয়। ভবার ঝোলা থেকে উপচে পড়ে অনেককালের বাসি সমস্ত জিনিস। একটা ভাঙা চিরুনি। দুটো নষ্ট হওয়া ব্রাশ। একটা বহু পুরোনো ক্যালেন্ডার। চায়ের ভাঙা কাপ। উলাঝুলা একগাদা প্লাস্টিক। লজেন্সের মোড়ক। ছেঁড়া জামাকাপড়। জাতীয় পতাকা। সেসবের উগ্র গন্ধ…