দিল্লিতে সিজেপির ‘লহরা দো তিরঙ্গা’, ছোট জমায়েতে অনুমতির ভাবনা
দিল্লির কনট প্লেসে ১৬ অক্টোবর ককক্রোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ‘লহরা দো তিরঙ্গা’ (Lahra Do Tiranga) কর্মসূচি ঘিরে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ার জন্য…
দিল্লির কনট প্লেসে ১৬ অক্টোবর ককক্রোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ‘লহরা দো তিরঙ্গা’ (Lahra Do Tiranga) কর্মসূচি ঘিরে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ার জন্য একটি ছোট জমায়েতের অনুমতি দিতে পারে দিল্লি পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নির্দিষ্ট একটি উপযুক্ত স্থানে বেছে নেওয়া কয়েকজনকে জমায়েতের অনুমতি দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষকে ওই কর্মসূচিতে ভিড় না করার আবেদন জানানো হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে চলা রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যেই এই কর্মসূচির ডাক দিয়েছে সিজেপি।
বিকেল ৫টায় সেন্ট্রাল পার্কে জমায়েতের ডাক
দিল্লি পুলিশের জনসংযোগ আধিকারিক ডেপুটি কমিশনার অফ পুলিশ নেহা যাদব জানিয়েছেন, সিজেপি শুক্রবার বিকেল ৫টায় কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্কে জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে জমায়েতের আবেদন জানিয়েছে। দলের তরফে সাধারণ মানুষকে এই কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। আম আদমি পার্টিও তাদের কর্মী, সমর্থক এবং সাধারণ মানুষকে ওই জমায়েতে অংশ নেওয়ার আবেদন জানিয়েছে বলে জানান নেহা যাদব।
তবে পুলিশ এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীদের সংখ্যা সীমিত রাখার বিষয়টি বিবেচনা করছে। নির্দিষ্ট একটি উপযুক্ত স্থানে ছোট একটি দলকে জাতীয় পতাকা ওড়ানো এবং জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ার সুযোগ দেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে সেখানে ভিড় এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পুলিশের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এবং জমায়েতের অনুমতির শর্ত সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনও স্পষ্ট নয়।
ALSO READ | ‘জ্ঞানেশ কুমারকে বাঁচাতে নাগরিকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ!’ মোদী-শাহকে তীব্র আক্রমণ দীপকের
‘একজনকে বাঁচাতেই আটক’, অভিযোগ অভিজিৎ দীপকের
এদিকে, বৃহস্পতিবার এক সাংবাদিক বৈঠকে সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, গত ১০ অক্টোবর সিজেপির নেতৃত্বে হওয়া বিক্ষোভে পুলিশের পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য ছিল মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে রক্ষা করা। দীপকের অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরে মতপার্থক্য নিয়ে একটি সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পর থেকেই সরকার জ্ঞানেশ কুমারকে রক্ষা করতে প্রশাসনিক ব্যবস্থা ও সরকারি পরিকাঠামো ব্যবহার করছে।
দীপকে বলেন, গত কয়েক দিন ধরে দিল্লির রাস্তায় বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন ও যুবকরা প্রতিবাদ করছেন। তাঁর অভিযোগ, জ্ঞানেশ কুমারকে রক্ষা করার উদ্দেশ্যেই আন্দোলনকারীদের রাস্তায় টেনে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তবে এগুলি দীপকের বক্তব্য ও অভিযোগ। এই দাবির সমর্থনে স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনও প্রমাণ এখানে উল্লেখ করা হয়নি। একইভাবে, এই অভিযোগের বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকার বা দিল্লি পুলিশের বিস্তারিত প্রতিক্রিয়াও এই প্রতিবেদনে পাওয়া তথ্যের মধ্যে নেই।
ALSO READ | ‘কেউ ভয় দেখাতে পারে না!’ সুপ্রিম কোর্টে রাজনৈতিক মিছিল নিয়ে হুঙ্কার প্রধান বিচারপতির
রেল ও মেট্রো পরিষেবা বন্ধ নিয়েও প্রশ্ন
১০ অক্টোবরের বিক্ষোভে পুলিশের পদক্ষেপের প্রসঙ্গ তুলে দীপকে রেল ও মেট্রো পরিষেবা বন্ধ রাখার বিষয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর দাবি, ওই সময় রেল পরিষেবা বন্ধ করা হয়েছিল এবং পরে দিল্লির বিভিন্ন মেট্রো স্টেশনও বন্ধ রাখা হয়। তিনি অভিযোগ করেন, এতেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার ব্যবস্থা সম্পূর্ণ হয়নি বলে আরও বাহিনী আনা হয়েছিল।
দীপকের বক্তব্য অনুযায়ী, জমায়েত নিয়ন্ত্রণের জন্য জম্মু ও কাশ্মীর থেকেও বাহিনী আনা হয়েছিল। তিনি এই পদক্ষেপগুলিকে জ্ঞানেশ কুমারকে রক্ষা করার প্রচেষ্টার সঙ্গে যুক্ত করেছেন। তবে রেল ও মেট্রো পরিষেবা বন্ধের কারণ, কতগুলি স্টেশন বন্ধ ছিল এবং বাহিনী মোতায়েনের সরকারি ব্যাখ্যা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এই বিবৃতিতে পাওয়া যায়নি। তাই তাঁর অভিযোগকে প্রতিষ্ঠিত তথ্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে বিতর্কের মধ্যে কর্মসূচি
সিজেপির ‘লহরা দো তিরঙ্গা’ কর্মসূচি এমন সময়ে হচ্ছে, যখন নির্বাচন কমিশনের কাজ, ভোটার তালিকা সংশোধন এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের ভূমিকা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক চলছে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে জাতীয় পতাকা ও জাতীয় সঙ্গীতকে সামনে রেখে জমায়েতের আহ্বান জানিয়েছে দলটি। আম আদমি পার্টিও কর্মী ও সমর্থকদের অংশ নেওয়ার আবেদন জানিয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
শুক্রবারের কর্মসূচিতে কতজনকে অংশ নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে, জমায়েতের জন্য শেষ পর্যন্ত কোন স্থান নির্ধারিত হবে এবং পুলিশ কী কী শর্ত আরোপ করবে, তা চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। আপাতত পুলিশের বার্তা হল, জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ার জন্য ছোট জমায়েতের অনুমতি বিবেচনা করা হলেও সাধারণ মানুষ যেন সেখানে ভিড় না করেন।