মায়ের পূজায় সুন্দরবনের ১৬০ শিশুর মুখে হাসি ফোটাল স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘আশ্বাস’
নিজস্ব সংবাদদাতা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: উৎসবের আনন্দ তখনই পূর্ণতা পায়, যখন সেই আনন্দের ভাগ পৌঁছে যায় সমাজের প্রান্তিক মানুষের কাছেও। শারদোৎসবের আবহে মানবিকতার সেই বার্তাই…
নিজস্ব সংবাদদাতা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: উৎসবের আনন্দ তখনই পূর্ণতা পায়, যখন সেই আনন্দের ভাগ পৌঁছে যায় সমাজের প্রান্তিক মানুষের কাছেও। শারদোৎসবের আবহে মানবিকতার সেই বার্তাই তুলে ধরল স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘আশ্বাস: দ্য হেল্পিং হ্যান্ডস’। দক্ষিণ ২৪ পরগনার পাথরপ্রতিমা ব্লকের পশ্চিম দ্বারকাপুরের একটি আদিবাসী গ্রামে সংগঠনের উদ্যোগে ১৬০ জন অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুর হাতে তুলে দেওয়া হল পুজোর নতুন পোশাক। নতুন জামাকাপড় পেয়ে শিশুদের মুখে ফুটে উঠল আনন্দের হাসি। আর সেই হাসিই হয়ে উঠল সংগঠনের সদস্য ও সহযোগীদের কাছে এই উদ্যোগের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।
পুজোর আনন্দ ভাগ করে নিল ‘আশ্বাস’
শারদোৎসব মানেই নতুন পোশাক, আনন্দ আর পরিবারের সঙ্গে উৎসব উদ্যাপনের মুহূর্ত। কিন্তু সমাজের অনেক প্রান্তিক পরিবারের কাছে উৎসবের সময় শিশুদের জন্য নতুন জামাকাপড় কেনা কঠিন হয়ে ওঠে। সেই বাস্তবতার কথা মাথায় রেখেই সুন্দরবনের প্রত্যন্ত এলাকার শিশুদের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নেয় ‘আশ্বাস’।
পশ্চিম দ্বারকাপুরের আদিবাসী গ্রামের ১৬০ জন শিশুর হাতে নতুন পোশাক তুলে দেওয়ার মাধ্যমে সংগঠনটি তাদের উৎসবের আনন্দে সামিল করার চেষ্টা করেছে। এই কর্মসূচির ফলে শিশুদের মুখে হাসি ফোটার পাশাপাশি উৎসবের আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার একটি মানবিক বার্তাও সামনে এসেছে।
সংগঠনের এই উদ্যোগ শুধু বস্ত্র বিতরণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর মধ্য দিয়ে সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং তাঁদের সঙ্গে উৎসবের আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার প্রচেষ্টাও স্পষ্ট হয়েছে।
২০১৮ সাল থেকে সমাজসেবায় ‘আশ্বাস’
নিমতা থেকে পথচলা শুরু করা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘আশ্বাস’ ২০১৮ সাল থেকে বিভিন্ন সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত। অসহায় মানুষের সাহায্য, শিশুদের কল্যাণ এবং সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোই সংগঠনের অন্যতম লক্ষ্য।
সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই ধারাবাহিকভাবে কাজ করে চলেছে সংগঠনটি। সুন্দরবনের প্রত্যন্ত অঞ্চলে পুজোর নতুন পোশাক বিতরণের এই কর্মসূচি তাদের সামাজিক দায়বদ্ধতার আরও একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ।
উৎসবের মরশুমে শিশুদের মুখে হাসি ফোটানোর পাশাপাশি সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের মধ্যে সহযোগিতা ও সহমর্মিতার সম্পর্ক গড়ে তোলাও এ ধরনের উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য। প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের কাছে পৌঁছে গিয়ে তাঁদের প্রয়োজনের পাশে দাঁড়ানোর এই প্রচেষ্টা সংগঠনের দীর্ঘদিনের কাজের ধারাকেই এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।
সহযোগীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানালেন প্রতিষ্ঠাতা
সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা গৌরব দেব জানিয়েছেন, মানুষের ভালোবাসা, সহযোগিতা এবং বিশ্বাসই ‘আশ্বাস’-এর এগিয়ে চলার প্রধান শক্তি। তাঁর বক্তব্য, এই ধরনের কর্মসূচি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সংগঠনের সদস্যদের পাশাপাশি যাঁরা আর্থিক সাহায্য, মূল্যবান পরামর্শ এবং অন্যান্যভাবে সহযোগিতা করেছেন, তাঁদের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এই উদ্যোগ সফল করে তুলতে যাঁরা পাশে দাঁড়িয়েছেন, তাঁদের প্রত্যেকের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে ‘আশ্বাস’ পরিবার। সম্মিলিত সহযোগিতা ছাড়া এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হতো না বলেও জানিয়েছেন সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা।
গৌরব দেবের মতে, ২০১৮ সালে যে মানবিক সংকল্প নিয়ে সংগঠনের পথচলা শুরু হয়েছিল, আগামী দিনেও সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই কাজ চালিয়ে যাওয়া হবে। সমাজের অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর প্রচেষ্টা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
উৎসবের বাইরেও মানুষের পাশে থাকার বার্তা
‘আশ্বাস’-এর এই উদ্যোগ একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা সামনে এনেছে। উৎসবের আনন্দ সবার সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার পাশাপাশি সমাজের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোও প্রত্যেকের সামাজিক দায়িত্ব। বিশেষ করে শিশুদের মুখে হাসি ফোটানোর মতো উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
সংগঠনের লক্ষ্য শুধু পুজোর সময় নতুন পোশাক বিতরণ করা নয়, বরং সারা বছর মানুষের প্রয়োজনে পাশে থাকার চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া। সেই ভাবনা থেকেই আগামী দিনেও সমাজসেবামূলক কাজ অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার করেছে ‘আশ্বাস’।
সুন্দরবনের প্রত্যন্ত গ্রামের ১৬০ শিশুর হাতে নতুন পোশাক তুলে দেওয়ার এই কর্মসূচি তাই নিছক একটি বস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠান নয়। এটি মানুষের প্রতি মানুষের ভালোবাসা, সহমর্মিতা এবং সম্মিলিত উদ্যোগের এক মানবিক দৃষ্টান্ত। আগামী দিনেও এই প্রচেষ্টা আরও মানুষের জীবনে আনন্দের আলো ছড়িয়ে দিক, এমনটাই প্রত্যাশা।