৬.৯৯ লক্ষ টাকায় নতুন Toyota Glanza, বদলাল ডিজাইন ও ইঞ্জিন - 24 Ghanta Bangla News
Home

৬.৯৯ লক্ষ টাকায় নতুন Toyota Glanza, বদলাল ডিজাইন ও ইঞ্জিন

Spread the love

ভারতের গাড়ির বাজারে নতুন ২০২৬ টয়োটা গ্লানজা ফেসলিফ্ট লঞ্চ করল টয়োটা। গাড়িটির প্রারম্ভিক এক্স-শোরুম দাম ৬.৯৯ লক্ষ টাকা। নতুন মডেলে সামনের অংশের নকশায় পরিবর্তন, একাধিক নতুন ফিচার এবং নতুন জেড-সিরিজ পেট্রল ইঞ্জিন যুক্ত করেছে সংস্থা। পাশাপাশি, নিরাপত্তার দিকেও বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে টয়োটা। নতুন গ্লানজায় লেভেল ২ অ্যাডভান্সড ড্রাইভার অ্যাসিস্ট্যান্স সিস্টেম বা এডিএএস এবং টায়ার প্রেশার মনিটরিং সিস্টেমের মতো প্রযুক্তি পাওয়া যাবে। মারুতি সুজুকি ব্যালেনোর সাম্প্রতিক আপডেটের পর টয়োটাও নিজেদের এই হ্যাচব্যাককে নতুনভাবে সাজিয়ে বাজারে আনল।

নতুন গ্লানজা মোট পাঁচটি ভ্যারিয়েন্টে পাওয়া যাবে। এগুলি হল ই, এস, জি, ভি এবং ভি(ও)। পেট্রল ও পেট্রল-সিএনজি, দুই ধরনের জ্বালানির বিকল্প থাকছে। বুকিং শুরু হয়েছে ১১,০০০ টাকা দিয়ে। সংস্থার ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী সপ্তাহ থেকে গাড়িটির ডেলিভারি শুরু হবে।

২০২৬ টয়োটা গ্লানজার দাম কত?

নতুন গ্লানজার দাম ভ্যারিয়েন্ট, জ্বালানি এবং গিয়ারবক্সের ধরন অনুযায়ী আলাদা। ম্যানুয়াল ও এএমটি, দুই ধরনের ট্রান্সমিশন বিকল্প রয়েছে। তবে সিএনজি সংস্করণ কেবল এস এবং জি ভ্যারিয়েন্টে পাওয়া যাবে।

ভ্যারিয়েন্ট পেট্রল ম্যানুয়াল পেট্রল এএমটি পেট্রল-সিএনজি ম্যানুয়াল পেট্রল-সিএনজি এএমটি
ই ৬.৯৯ লক্ষ টাকা উপলব্ধ নয় উপলব্ধ নয় উপলব্ধ নয়
এস ৭.৭১ লক্ষ টাকা ৮.৩১ লক্ষ টাকা ৮.৭৬ লক্ষ টাকা ৯.৩১ লক্ষ টাকা
জি ৮.৭৩ লক্ষ টাকা ৯.৩৩ লক্ষ টাকা ৯.৬৮ লক্ষ টাকা ১০.২৩ লক্ষ টাকা
ভি ৯.৯৯ লক্ষ টাকা ১০.৫৯ লক্ষ টাকা উপলব্ধ নয় উপলব্ধ নয়
ভি(ও) ১০.৪৯ লক্ষ টাকা ১০.৯৮ লক্ষ টাকা উপলব্ধ নয় উপলব্ধ নয়

উল্লেখিত সমস্ত দাম প্রাথমিক এক্স-শোরুম মূল্য। গাড়ির অন-রোড দাম জানতে বিমা, রেজিস্ট্রেশন এবং অন্যান্য প্রযোজ্য খরচ যোগ করতে হবে।

সামনের নকশায় বড় পরিবর্তন

নতুন গ্লানজার বাইরের নকশায় সবচেয়ে বেশি পরিবর্তন দেখা যাবে সামনের অংশে। গাড়িটিতে বড় হানিকম্ব মেশ গ্রিল দেওয়া হয়েছে। টয়োটার লোগো এখন উপরের দিকে, একটি ক্রোম স্ট্রিপের মাঝখানে অবস্থান করছে। নতুন বাম্পারের নকশাও আগের তুলনায় আরও ধারালো। সিলভার অ্যাকসেন্ট গাড়িটির সামনের অংশকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে।

পাশ থেকে দেখলে গাড়িটির পরিচিত গোলাকার গঠন অনেকটাই আগের মতো রয়েছে। তবে সামনের ফেন্ডারে নতুন ক্রোম গার্নিশ এবং শার্ক ফিন অ্যান্টেনা যুক্ত হয়েছে। গাড়িটিতে আগের মতোই ১৬ ইঞ্চির অ্যালয় হুইল রয়েছে, যদিও তার নকশায় স্পোর্টি ভাব বজায় রাখা হয়েছে।

পিছনের অংশে বড় কোনও পরিবর্তন করেনি সংস্থা। এখানে আগের মতো সি-আকৃতির এলইডি টেলল্যাম্প, বড় বাম্পার এবং টেলগেটে ক্রোম স্ট্রিপ রয়েছে।

নতুন গ্লানজা মোট সাতটি রঙে পাওয়া যাবে। রঙগুলি হল স্পোর্টিন রেড, ক্যাফে হোয়াইট, এনটিসিং সিলভার, গেমিং গ্রে, ইনস্টা ব্লু, ব্লুইশ ব্ল্যাক এবং ডিজিটাল টিল গ্রিন।

কেবিনে কী কী পরিবর্তন হয়েছে?

গাড়ির ভিতরের অংশে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যায় না। নতুন গ্লানজায় আগের মতোই বেইজ ও কালো রঙের ডুয়াল-টোন কেবিন রয়েছে। মারুতি সুজুকি ব্যালেনোর কালো ও নীল রঙের কেবিনের তুলনায় এই রঙের বিন্যাস গ্লানজাকে আলাদা পরিচিতি দেয়।

ড্যাশবোর্ডে রয়েছে আলাদা করে বসানো টাচস্ক্রিন ইনফোটেনমেন্ট ব্যবস্থা, তিন-স্পোক স্টিয়ারিং হুইল এবং গ্লস ব্ল্যাক ইনসার্ট। পিছনের যাত্রীদের সুবিধার জন্য মাঝের আসনে সামঞ্জস্য করা যায় এমন হেডরেস্ট যুক্ত হয়েছে। পাশাপাশি পিছনের সারিতে এসি ভেন্ট এবং ইউএসবি চার্জিং পোর্টও রয়েছে।

পেট্রল সংস্করণে ৩১৮ লিটারের বুট স্পেস পাওয়া যাবে। তবে সিএনজি সংস্করণের বুট স্পেসের পরিমাণ এখনও জানায়নি টয়োটা। সিএনজি সিলিন্ডার রাখার কারণে এই সংস্করণে লাগেজ রাখার জায়গা কম হবে বলে অনুমান করা যায়।

ওয়্যারলেস চার্জার, ভেন্টিলেটেড সিট ও নতুন সাউন্ড সিস্টেম

ফিচারের তালিকায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন করেছে টয়োটা। নতুন গ্লানজায় ওয়্যারলেস ফোন চার্জার, সামনের ভেন্টিলেটেড সিট এবং ক্ল্যারিয়ন সাউন্ড সিস্টেম রয়েছে। দীর্ঘ সময় গাড়ি চালানোর সময় সামনের আসনে ভেন্টিলেশনের সুবিধা বিশেষভাবে কাজে আসতে পারে।

এ ছাড়া গাড়িটিতে ৯ ইঞ্চির টাচস্ক্রিন ইনফোটেনমেন্ট ব্যবস্থা, হেড-আপ ডিসপ্লে, অটোমেটিক ক্লাইমেট কন্ট্রোল, ওয়্যারলেস অ্যান্ড্রয়েড অটো এবং অ্যাপল কারপ্লে রয়েছে। চালকের আসনের উচ্চতা সামঞ্জস্য করা যায় এবং অটোমেটিক হেডল্যাম্পও পাওয়া যাবে।

এই ফিচারগুলি দৈনন্দিন যাতায়াতের পাশাপাশি দীর্ঘ যাত্রাতেও চালক ও যাত্রীদের সুবিধা বাড়াতে পারে। বিশেষ করে ওয়্যারলেস স্মার্টফোন সংযোগ এবং হেড-আপ ডিসপ্লে চালকের কাছে প্রয়োজনীয় তথ্য পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে কাজে আসে।

নিরাপত্তায় লেভেল ২ এডিএএস

নতুন গ্লানজার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হল লেভেল ২ এডিএএস। এই প্রযুক্তির আওতায় গাড়ির নির্দিষ্ট সংস্করণ ও ফিচার অনুযায়ী চালককে সহায়তা করার বিভিন্ন ব্যবস্থা থাকতে পারে। তবে নির্দিষ্ট কোন কোন এডিএএস ফিচার কোন ভ্যারিয়েন্টে থাকছে, তা কেনার আগে যাচাই করা উচিত।

এ ছাড়া গাড়িটিতে টায়ার প্রেশার মনিটরিং সিস্টেম রয়েছে, যা টায়ারের বাতাসের চাপ সম্পর্কে তথ্য দিতে সাহায্য করে। আগের মডেলের অন্যান্য নিরাপত্তা সরঞ্জামের মধ্যে রয়েছে ৩৬০ ডিগ্রি ক্যামেরা, পিছনের পার্কিং সেন্সর, ছয়টি এয়ারব্যাগ, ইলেকট্রনিক স্টেবিলিটি কন্ট্রোল, হিল-হোল্ড অ্যাসিস্ট এবং শিশুদের আসন বসানোর জন্য আইএসওফিক্স অ্যাঙ্কর।

তবে নতুন গ্লানজা এখনও ভারত এনসিএপি-র ক্র্যাশ টেস্টে পরীক্ষিত হয়নি। আগের ব্যালেনো চার তারকার নিরাপত্তা রেটিং পেয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু সেই রেটিংকে নতুন গ্লানজার নিজস্ব পরীক্ষার ফল হিসেবে ধরা যাবে না। নতুন মডেলের নিরাপত্তা সম্পর্কে নিশ্চিত হতে হলে তার নিজস্ব পরীক্ষার ফল এবং প্রযোজ্য নিরাপত্তা সরঞ্জামের বিবরণ দেখা জরুরি।

নতুন জেড-সিরিজ ইঞ্জিনে কত শক্তি?

নতুন গ্লানজার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যান্ত্রিক পরিবর্তন হল পুরনো কে-সিরিজ ইঞ্জিনের পরিবর্তে ১.২ লিটারের জেড-সিরিজ পেট্রল ইঞ্জিন। প্রাকৃতিকভাবে বাতাস গ্রহণকারী এই ইঞ্জিন পেট্রল এবং পেট্রল-সিএনজি, দুই ধরনের সংস্করণেই পাওয়া যাবে।

বৈশিষ্ট্য পেট্রল পেট্রল-সিএনজি
ইঞ্জিন ১.২ লিটার জেড-সিরিজ ১.২ লিটার জেড-সিরিজ
সর্বোচ্চ শক্তি ৮৩ পিএস ৭০ পিএস
সর্বোচ্চ টর্ক ১১২ এনএম ১০২ এনএম
গিয়ারবক্স ৫-স্পিড ম্যানুয়াল / ৫-স্পিড এএমটি ৫-স্পিড ম্যানুয়াল / ৫-স্পিড এএমটি
ঘোষিত জ্বালানি দক্ষতা ম্যানুয়াল: ২৩.৮০ কিমি/লিটার; এএমটি: ২৪.৭৭ কিমি/লিটার ম্যানুয়াল: ৩৩.৬১ কিমি/কেজি; এএমটি: ৩৪.৪৭ কিমি/কেজি

এই পরিসংখ্যান অনুযায়ী, পেট্রল সংস্করণে সর্বোচ্চ শক্তি ৮৩ পিএস এবং টর্ক ১১২ এনএম। সিএনজি সংস্করণে শক্তি ৭০ পিএস এবং টর্ক ১০২ এনএম। সংস্থার ঘোষিত জ্বালানি দক্ষতা অনুযায়ী, ম্যানুয়াল পেট্রল সংস্করণ প্রতি লিটারে ২৩.৮০ কিলোমিটার এবং এএমটি সংস্করণ প্রতি লিটারে ২৪.৭৭ কিলোমিটার চলতে পারে।

অন্যদিকে, সিএনজি সংস্করণের ঘোষিত দক্ষতা ম্যানুয়ালে ৩৩.৬১ কিলোমিটার প্রতি কেজি এবং এএমটিতে ৩৪.৪৭ কিলোমিটার প্রতি কেজি। এগুলি এআরএআই-ঘোষিত পরিসংখ্যান। বাস্তবে গাড়ি চালানোর ধরন, রাস্তার অবস্থা, যানজট এবং রক্ষণাবেক্ষণের উপর জ্বালানি দক্ষতা নির্ভর করবে।

নতুন গ্লানজা কাদের জন্য?

৬.৯৯ লক্ষ টাকার প্রারম্ভিক দামে নতুন গ্লানজা এমন ক্রেতাদের আকর্ষণ করতে পারে, যাঁরা শহরের দৈনন্দিন যাতায়াতের জন্য হ্যাচব্যাক খুঁজছেন। একাধিক ভ্যারিয়েন্ট, পেট্রল ও সিএনজি বিকল্প এবং ম্যানুয়াল ও এএমটি গিয়ারবক্সের সুবিধা ক্রেতাদের সামনে বেছে নেওয়ার সুযোগ রাখছে।

নতুন ইঞ্জিন, অতিরিক্ত ফিচার এবং এডিএএসের সংযোজন গাড়িটিকে আগের সংস্করণের তুলনায় আরও আধুনিক করেছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট ভ্যারিয়েন্টের ফিচার, অন-রোড দাম, সিএনজি সংস্করণের ব্যবহারিক বুট স্পেস এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত তথ্য যাচাই করা উচিত। বুকিংয়ের জন্য ১১,০০০ টাকা লাগবে এবং সংস্থার ঘোষণা অনুযায়ী আগামী সপ্তাহ থেকে ডেলিভারি শুরু হবে।

Essential Business Intelligence, Sharp Market Insights, Practical Personal Finance Advice, Daily Fuel, Gold and Silver Prices and Latest Stories – On Kolkata24x7 Business

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *