ভারতে লঞ্চ E sprinto G1 ইলেকট্রিক স্কুটার, দাম শুরু ৮৯,৯৯৯ টাকা
ভারতের বৈদ্যুতিক দু’চাকার বাজারে নতুন বিকল্প নিয়ে এল ইভি নির্মাতা ই-স্প্রিন্টো (E sprinto)। সংস্থাটি তাদের নতুন ফ্যামিলি ইলেকট্রিক স্কুটার জি১ লঞ্চ করেছে। স্কুটারটির প্রারম্ভিক এক্স-শোরুম দাম ৮৯,৯৯৯ টাকা। ক্রেতাদের জন্য তিনটি ব্যাটারি প্যাকের বিকল্প রাখা হয়েছে, যার মধ্যে সর্বোচ্চ ৩ কিলোওয়াট আওয়ার ব্যাটারিযুক্ত মডেলে একবার চার্জে ১৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত চলার দাবি করা হচ্ছে।
পারিবারিক ব্যবহারের কথা মাথায় রেখে তৈরি এই স্কুটারে রয়েছে চারটি রঙের বিকল্প, রিমুভেবল ব্যাটারি, তিনটি রাইডিং মোড এবং একাধিক নিরাপত্তা ফিচার। শহরের দৈনন্দিন যাতায়াতের জন্য ইলেকট্রিক স্কুটার কেনার পরিকল্পনা করছেন যাঁরা, তাঁদের কাছে ই-স্প্রিন্টো জি১ একটি নতুন বিকল্প হতে পারে।
ই-স্প্রিন্টো জি১-এর ডিজাইন কেমন?
ই-স্প্রিন্টো জি১-এ রয়েছে পরিচিত ফ্যামিলি স্কুটারের ডিজাইন। সামনের দিকে রয়েছে বড় অ্যাপ্রন, যার সঙ্গে সূক্ষ্ম ক্রোমের ব্যবহার স্কুটারটিকে কিছুটা প্রিমিয়াম চেহারা দিয়েছে। হ্যান্ডেলবারের সঙ্গে যুক্ত এলইডি হেডলাইট এবং গোলাকার ক্রোম রিয়ারভিউ মিরর এর ক্লাসিক ডিজাইনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
পিছনের অংশে রয়েছে কিছুটা প্রসারিত সাইড প্যানেল এবং মসৃণ বডি ডিজাইন। ফলে প্রচলিত ইলেকট্রিক স্কুটারের তুলনায় আলাদা স্টাইলিংয়ের ছাপ দেওয়ার চেষ্টা করেছে সংস্থাটি।
রঙের ক্ষেত্রে ক্রেতারা চারটি বিকল্প পাবেন। সেগুলি হল হরাইজন ব্লু, চারকোল ব্ল্যাক, পাইন গ্রিন এবং স্লেট গ্রে। ফলে নিজের পছন্দ অনুযায়ী রঙ বেছে নেওয়ার সুযোগ থাকছে।
তিনটি ব্যাটারি প্যাক, দাম কত?
ই-স্প্রিন্টো জি১ মোট তিনটি ব্যাটারি বিকল্পে পাওয়া যাচ্ছে। ব্যাটারির ক্ষমতা অনুযায়ী স্কুটারের দাম এবং দাবি করা রেঞ্জেও পার্থক্য রয়েছে।
| ব্যাটারির ক্ষমতা | একবার চার্জে দাবি করা রেঞ্জ | এক্স-শোরুম দাম |
| ২.০ কিলোওয়াট আওয়ার | ৮০ কিমি | ৮৯,৯৯৯ টাকা |
| ২.৫ কিলোওয়াট আওয়ার | ১০০ কিমি | ৯৪,৯৯৯ টাকা |
| ৩.০ কিলোওয়াট আওয়ার | ১৪০ কিমি | ৯৯,৯৯৯ টাকা |
উল্লেখিত সমস্ত দাম দিল্লির এক্স-শোরুম মূল্য। রেজিস্ট্রেশন, বিমা এবং অন্যান্য খরচ যোগ হলে অন-রোড দাম বাড়তে পারে।
সর্বোচ্চ ৩ কিলোওয়াট আওয়ার ব্যাটারিযুক্ত মডেলে ১৪০ কিলোমিটার আইডিসি রেঞ্জের দাবি করা হয়েছে। আইডিসি বা ইন্ডিয়ান ড্রাইভিং কন্ডিশনস পরীক্ষার ভিত্তিতে এই পরিসংখ্যান দেওয়া হয়। বাস্তবে রাস্তার অবস্থা, চালানোর ধরন, যাত্রীর ওজন এবং আবহাওয়ার মতো বিষয়গুলির কারণে রেঞ্জ কমবেশি হতে পারে।
ব্যাটারি, মোটর ও চার্জিংয়ের সুবিধা
ই-স্প্রিন্টো জি১-এ রয়েছে রিমুভেবল এলএফপি বা লিথিয়াম আয়রন ফসফেট ব্যাটারি। ব্যাটারিটি আইপি৬৭ রেটিংপ্রাপ্ত। এই রেটিং নির্দিষ্ট পরীক্ষার শর্তে ধুলো প্রবেশের বিরুদ্ধে সুরক্ষা এবং নির্দিষ্ট সময় ও গভীরতা পর্যন্ত জলে নিমজ্জনের প্রতিরোধক্ষমতা নির্দেশ করে।
স্কুটারটিতে ব্যবহার করা হয়েছে ১.২ কিলোওয়াটের হাব মোটর। এর সর্বোচ্চ পাওয়ার আউটপুট ১.৫ কিলোওয়াট এবং টর্ক ৮২ এনএম বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
ব্যাটারির ক্ষমতা অনুযায়ী চার্জ হতে আনুমানিক ৪ থেকে সাড়ে ৪ ঘণ্টা সময় লাগতে পারে বলে দাবি করা হয়েছে। তবে চার্জিংয়ের প্রকৃত সময় ব্যাটারির অবস্থা এবং চার্জারের মতো বিষয়ের উপর নির্ভর করতে পারে।
ওয়ারেন্টির ক্ষেত্রেও রয়েছে উল্লেখযোগ্য সুবিধা। ব্যাটারি এবং মোটরের জন্য পাঁচ বছর অথবা ৬০,০০০ কিলোমিটার পর্যন্ত ওয়ারেন্টি দেওয়া হচ্ছে, যেটি আগে পূর্ণ হবে। কেনার আগে ওয়ারেন্টির নির্দিষ্ট শর্ত ও কভারেজ ডিলারের কাছ থেকে যাচাই করে নেওয়া ভালো।
তিনটি রাইডিং মোড ও ৫০ কিমি প্রতি ঘণ্টা সর্বোচ্চ গতি
ই-স্প্রিন্টো জি১-এ তিনটি রাইডিং মোড রয়েছে। সেগুলি হল ইকো, সিটি এবং স্পোর্ট। নির্বাচিত মোড অনুযায়ী স্কুটারের পাওয়ার আউটপুট ও সর্বোচ্চ গতির সীমা পরিবর্তিত হয়।
- ইকো মোড: সর্বোচ্চ গতি ২৮ কিমি প্রতি ঘণ্টা।
- সিটি মোড: সর্বোচ্চ গতি ৩৮ কিমি প্রতি ঘণ্টা।
- স্পোর্ট মোড: সর্বোচ্চ গতি ৫০ কিমি প্রতি ঘণ্টা।
ব্যাটারির ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে রাখতে ইকো মোড কাজে আসতে পারে। অন্যদিকে, শহরের সাধারণ যাতায়াতের জন্য সিটি মোড এবং তুলনামূলক বেশি গতির প্রয়োজন হলে স্পোর্ট মোড ব্যবহার করা যাবে।
স্কুটারটিতে ডিজিটাল ডিসপ্লে রয়েছে, যেখানে স্পিডোমিটার, ওডোমিটার-সহ প্রয়োজনীয় তথ্য দেখা যাবে। পাশাপাশি, সামনের অ্যাপ্রনে রয়েছে ইউএসবি চার্জিং পোর্ট। এর মাধ্যমে যাত্রাপথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ডিভাইস চার্জ করা সম্ভব।
টাইট পার্কিং স্পেস থেকে স্কুটার বের করার সুবিধার জন্য রয়েছে রিভার্স মোড। এছাড়া ঐচ্ছিক সাবস্ক্রিপশন প্যাকেজের মাধ্যমে টার্ন-বাই-টার্ন নেভিগেশনের মতো ফিচার পাওয়া যাবে বলে জানানো হয়েছে।
নিরাপত্তার জন্য কী কী ফিচার রয়েছে?
ই-স্প্রিন্টো জি১-এ নিরাপত্তার জন্য রয়েছে কম্বাইন্ড ব্রেকিং সিস্টেম বা সিবিএস। এই ব্যবস্থা ব্রেক করার সময় সামনে ও পিছনের ব্রেকের কার্যকারিতা সমন্বয় করতে সাহায্য করে।
এছাড়া রয়েছে অ্যান্টি-থেফট অ্যালার্ম এবং ফাইন্ড মাই ভেহিকল মোড। স্কুটারটি কোথায় রয়েছে, তা শনাক্ত করতে এই ধরনের ফিচার সহায়ক হতে পারে। পাশাপাশি, সাইড-স্ট্যান্ড কাট-অফ সেন্সর দেওয়া হয়েছে। সাইড-স্ট্যান্ড নামানো থাকলে মোটরের কার্যক্রম বন্ধ রাখার মতো নিরাপত্তা সুবিধা দিতে পারে এই ব্যবস্থা। স্কুটারটির সঙ্গে রয়েছে ফিজিক্যাল কী এবং কী-ফব। এর মাধ্যমে দূর থেকে স্কুটার লক ও আনলক করার সুবিধা পাওয়া যাবে।
সাসপেনশন, ব্রেক ও স্টোরেজ
ই-স্প্রিন্টো জি১-এর সামনে ও পিছনে ১২ ইঞ্চির চাকা রয়েছে। সাসপেনশনের দায়িত্ব সামলাচ্ছে সামনের দিকে টেলিস্কোপিক ফর্ক এবং পিছনে ডুয়াল শক অ্যাবজরবার। ব্রেকিংয়ের জন্য দুই চাকাতেই ড্রাম ব্রেক ব্যবহার করা হয়েছে।
স্কুটারটির সিটের উচ্চতা ৭৯০ মিলিমিটার। ফলে বিভিন্ন উচ্চতার চালকদের জন্য এটি ব্যবহার করা তুলনামূলক সহজ হতে পারে। ১৬৫ মিলিমিটারের গ্রাউন্ড ক্লিয়ারেন্স শহরের সাধারণ রাস্তার পরিস্থিতিতে কাজে আসতে পারে।
স্টোরেজের ক্ষেত্রেও রয়েছে ২৮ লিটারের আন্ডার-সিট স্পেস। দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র রাখার পাশাপাশি উপযুক্ত মাপের একটি ফুল-ফেস হেলমেট রাখার মতো জায়গা রয়েছে বলে সংস্থার দাবি।
কাদের জন্য উপযুক্ত হতে পারে ই-স্প্রিন্টো জি১?
৮৯,৯৯৯ টাকা প্রারম্ভিক এক্স-শোরুম দাম এবং তিনটি ব্যাটারি বিকল্পের কারণে ই-স্প্রিন্টো জি১ শহরের দৈনন্দিন যাতায়াতের জন্য ইলেকট্রিক স্কুটার খুঁজছেন এমন ক্রেতাদের নজরে আসতে পারে। রিমুভেবল ব্যাটারি, রিভার্স মোড, ইউএসবি চার্জিং এবং অ্যান্টি-থেফট ফিচার ব্যবহারিক সুবিধা যোগ করেছে।
তবে কেনার আগে নিজের দৈনিক যাতায়াতের দূরত্ব, বাড়ি বা কর্মস্থলে চার্জ দেওয়ার ব্যবস্থা এবং বাস্তবে কতটা রেঞ্জ প্রয়োজন, তা বিবেচনা করা জরুরি। ১৪০ কিলোমিটারের রেঞ্জটি সর্বোচ্চ ব্যাটারি ভ্যারিয়্যান্টের দাবি করা আইডিসি পরিসংখ্যান, বাস্তব ব্যবহারে একই ফল নাও পাওয়া যেতে পারে।
তিনটি ব্যাটারি প্যাক, একাধিক রাইডিং মোড এবং পারিবারিক ব্যবহারের উপযোগী ডিজাইন নিয়ে ই-স্প্রিন্টো জি১ ভারতের ইলেকট্রিক স্কুটার বাজারে নতুন বিকল্প হিসেবে এসেছে।
Essential Business Intelligence, Sharp Market Insights, Practical Personal Finance Advice, Daily Fuel, Gold and Silver Prices and Latest Stories – On Kolkata24x7 Business