নতুন Toyota Glanza বনাম পুরনো মডেল, ডিজাইন ও ইঞ্জিনে কী বদলাল? - 24 Ghanta Bangla News
Home

নতুন Toyota Glanza বনাম পুরনো মডেল, ডিজাইন ও ইঞ্জিনে কী বদলাল?

Spread the love

ভারতের বাজারে ২০২৬ টয়োটা গ্লানজা ফেসলিফ্ট লঞ্চ করেছে টয়োটা। নতুন মডেলে সামনের নকশায় পরিবর্তন, অতিরিক্ত ফিচার, উন্নত নিরাপত্তা প্রযুক্তি এবং নতুন জেড১২ই সিরিজের পেট্রল ইঞ্জিন যুক্ত হয়েছে। আগের মডেলের তুলনায় গাড়িটির প্রারম্ভিক এক্স-শোরুম দামও বেড়েছে। নতুন গ্লানজার দাম শুরু হচ্ছে ৬.৯৯ লক্ষ টাকা থেকে, যেখানে পুরনো মডেলের প্রারম্ভিক দাম ছিল ৬.৭৩ লক্ষ টাকা। তবে শুধু ডিজাইনের পরিবর্তন নয়, ইঞ্জিনের শক্তি, সিএনজি বিকল্প এবং গিয়ারবক্সের সুবিধাতেও গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে।

মারুতি সুজুকি ব্যালেনোর আপডেটেড সংস্করণের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নতুন গ্লানজাকে আরও আধুনিক করে তুলেছে টয়োটা। তবে গাড়িটির বাইরের নকশা ও কেবিনের বেশ কিছু পরিচিত বৈশিষ্ট্য আগের মতোই রয়েছে। নতুন ও পুরনো মডেলের মধ্যে প্রধান পার্থক্যগুলি জেনে নেওয়া যাক।

সামনের নকশায় সবচেয়ে বেশি পরিবর্তন

নতুন গ্লানজার সামনের অংশে বড় হানিকম্ব মেশ গ্রিল রয়েছে, যার চারপাশে গ্লস ব্ল্যাক ফিনিশ দেওয়া হয়েছে। গ্রিলের পাশে সিলভার ইনসার্ট এবং উপরের দিকে ক্রোম স্ট্রিপ গাড়িটির চেহারায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। টয়োটার লোগোও আগের অবস্থান থেকে উপরের দিকে বনেটের কাছে সরানো হয়েছে। পাশাপাশি, নতুন বাম্পার এবং এলইডি ফগ ল্যাম্প যুক্ত হয়েছে।

তবে এলইডি প্রজেক্টর হেডল্যাম্পের নকশা আগের মতোই রয়েছে। পুরনো গ্লানজার সামনের অংশ ছিল তুলনামূলকভাবে সাধারণ ও মার্জিত। নতুন মডেলে গ্রিল ও বাম্পারের পরিবর্তন গাড়িটিকে আরও দৃঢ় এবং আধুনিক চেহারা দিয়েছে। এই নতুন নকশা ক্রেতাদের কতটা আকর্ষণ করবে, তা অবশ্য বিক্রির পরিসংখ্যান থেকেই স্পষ্ট হবে।

পাশের অংশে বড় কোনও পরিবর্তন নেই

গাড়ির পাশ থেকে দেখলে নতুন ও পুরনো গ্লানজার মধ্যে খুব বেশি পার্থক্য চোখে পড়বে না। দুই মডেলেই পরিচিত হ্যাচব্যাকের গঠন, ক্রোম ডোর হ্যান্ডেল এবং জানলার চারপাশে ক্রোম স্ট্রিপ রয়েছে। ১৬ ইঞ্চির অ্যালয় হুইলের নকশাও অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

তবে নতুন মডেলে একটি উল্লেখযোগ্য সংযোজন হল শার্ক ফিন অ্যান্টেনা। পুরনো গাড়িতে প্রচলিত ধরনের অ্যান্টেনা থাকলেও ফেসলিফ্ট সংস্করণে ছাদের নকশাকে আরও আধুনিক দেখানোর জন্য এই পরিবর্তন করা হয়েছে।

পিছনের নকশা প্রায় আগের মতোই

২০২৬ সালের গ্লানজার পিছনের অংশে সামান্য সংশোধিত বাম্পার রয়েছে। তবে আগের মডেলের বড়সড় বাম্পারের গঠন বজায় রাখা হয়েছে। পিছনে সি-আকৃতির এলইডি টেলল্যাম্প, দুই আলোর মাঝখানে ক্রোম স্ট্রিপ এবং গাড়ির সঙ্গে যুক্ত স্পয়লার আগের মতোই রয়েছে।

অর্থাৎ, নতুন গ্লানজার বাইরের নকশায় প্রধান পরিবর্তনগুলি সামনের অংশেই সীমাবদ্ধ। পাশের ও পিছনের অংশে খুব বেশি পরিবর্তন না করে পরিচিত নকশা বজায় রেখেছে টয়োটা।

নতুন রঙের বিকল্প বেড়ে সাতটি

নতুন গ্লানজায় মোট সাতটি রঙের বিকল্প রয়েছে। পুরনো মডেলে পাঁচটি রং পাওয়া যেত। নতুন সংস্করণে ডিজিটাল টিল গ্রিন এবং ব্লুইশ ব্ল্যাক নামে দুটি রং যুক্ত হয়েছে।

নতুন গ্লানজা পুরনো গ্লানজা
ক্যাফে হোয়াইট ক্যাফে হোয়াইট
এনটিসিং সিলভার এনটিসিং সিলভার
গেমিং গ্রে গেমিং গ্রে
স্পোর্টিন রেড স্পোর্টিন রেড
ইনস্টা ব্লু ইনস্টা ব্লু
ডিজিটাল টিল গ্রিন উপলব্ধ ছিল না
ব্লুইশ ব্ল্যাক উপলব্ধ ছিল না

নতুন রঙের বিকল্পগুলি ক্রেতাদের পছন্দ অনুযায়ী গাড়ি বেছে নেওয়ার সুযোগ বাড়াবে। বিশেষ করে ডিজিটাল টিল গ্রিন এবং ব্লুইশ ব্ল্যাক নতুন মডেলের আলাদা পরিচিতি তৈরি করতে পারে।

কেবিনে বড় পরিবর্তন নেই, নতুন ফিচার যুক্ত

গাড়ির ভিতরের নকশায় নতুন ও পুরনো গ্লানজার মধ্যে খুব বেশি পার্থক্য নেই। দুই মডেলেই কালো ও বেইজ রঙের ডুয়াল-টোন কেবিন রয়েছে। ড্যাশবোর্ডে গ্লস ব্ল্যাক ইনসার্ট, মাঝখানে আলাদা করে বসানো টাচস্ক্রিন এবং তার নিচে অনুভূমিক এসি ভেন্ট ও নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

পিছনের আসনে পর্যাপ্ত জায়গা এবং তুলনামূলক খোলামেলা পরিবেশও আগের মতো রয়েছে। ফলে দৈনন্দিন যাতায়াতের পাশাপাশি দীর্ঘ যাত্রার জন্যও গাড়িটি ব্যবহারযোগ্য।

তবে ফিচারের ক্ষেত্রে নতুন মডেলে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন রয়েছে। এগুলি হল সামনের ভেন্টিলেটেড আসন, ছয়টি স্পিকার-সহ ক্ল্যারিয়ন সাউন্ড সিস্টেম এবং ওয়্যারলেস ফোন চার্জার। গরমের সময় ভেন্টিলেটেড আসন আরাম বাড়াতে পারে। অন্যদিকে, তার ছাড়াই ফোন চার্জ করার সুবিধা দৈনন্দিন ব্যবহারে বাড়তি সুবিধা দেবে।

নতুন গ্লানজায় আগের মডেলের অন্যান্য ফিচারও রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ৯ ইঞ্চির টাচস্ক্রিন ইনফোটেনমেন্ট ব্যবস্থা, ওয়্যারলেস অ্যান্ড্রয়েড অটো ও অ্যাপল কারপ্লে, অ্যানালগ ডায়াল-সহ মাল্টি-ইনফরমেশন ডিসপ্লে, হেড-আপ ডিসপ্লে, অটোমেটিক ক্লাইমেট কন্ট্রোল, চাবি ছাড়া প্রবেশের ব্যবস্থা, পুশ-বাটন স্টার্ট, ক্রুজ কন্ট্রোল, বৈদ্যুতিকভাবে নিয়ন্ত্রিত ও ভাঁজ করা যায় এমন বাইরের আয়না এবং সংযুক্ত গাড়ির প্রযুক্তি।

নিরাপত্তায় বড় সংযোজন লেভেল ২ এডিএএস

নতুন গ্লানজার নিরাপত্তা ব্যবস্থায় অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হল লেভেল ২ অ্যাডভান্সড ড্রাইভার অ্যাসিস্ট্যান্স সিস্টেম বা এডিএএস। এই ব্যবস্থায় অ্যাডাপটিভ ক্রুজ কন্ট্রোল, লেন কিপ অ্যাসিস্ট, লেন ডিপারচার ওয়ার্নিং, সামনের সংঘর্ষের সতর্কবার্তা এবং স্বয়ংক্রিয় জরুরি ব্রেকিংয়ের মতো সুবিধা রয়েছে।

এই প্রযুক্তিগুলি নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে চালককে সতর্ক করতে বা গাড়ি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে পারে। তবে এগুলি চালকের মনোযোগের বিকল্প নয়।

পুরনো মডেলের অন্যান্য নিরাপত্তা সরঞ্জামও নতুন গাড়িতে বজায় রাখা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ৩৬০ ডিগ্রি ক্যামেরা, ছয়টি এয়ারব্যাগ, এবিএস-সহ ইবিডি, ইলেকট্রনিক স্টেবিলিটি প্রোগ্রাম, হিল-হোল্ড কন্ট্রোল, টায়ার প্রেশার মনিটরিং সিস্টেম, অটোমেটিক ডিমিং আইআরভিএম এবং শিশুদের আসনের জন্য আইএসওফিক্স মাউন্ট।

নতুন গ্লানজার ভি(ও) ভ্যারিয়েন্টে এডিএএস যুক্ত হওয়ায় নিরাপত্তা প্রযুক্তি চাইছেন এমন ক্রেতাদের সামনে নতুন বিকল্প তৈরি হয়েছে। তবে কেনার আগে নির্দিষ্ট ভ্যারিয়েন্টে কোন কোন ফিচার রয়েছে, তা যাচাই করে নেওয়া উচিত।

নতুন ও পুরনো ইঞ্জিনের তুলনা

নতুন গ্লানজায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যান্ত্রিক পরিবর্তন এসেছে ইঞ্জিনে। পুরনো মডেলে ১.২ লিটারের চার-সিলিন্ডার কে-সিরিজ পেট্রল ইঞ্জিন ছিল। নতুন মডেলে তার পরিবর্তে ১.২ লিটারের তিন-সিলিন্ডার জেড১২ই সিরিজের পেট্রল ইঞ্জিন ব্যবহার করা হয়েছে।

বৈশিষ্ট্য নতুন গ্লানজা পুরনো গ্লানজা
পেট্রল ইঞ্জিন ১.২ লিটার, ৩ সিলিন্ডার ১.২ লিটার, ৪ সিলিন্ডার
পেট্রল শক্তি ৮৩ পিএস ৯০ পিএস
পেট্রল টর্ক ১১২ এনএম ১১৩ এনএম
সিএনজি শক্তি ৭০ পিএস ৭৭.৫ পিএস
সিএনজি টর্ক ১০২ এনএম ৯৮.৫ এনএম
পেট্রল গিয়ারবক্স ৫-স্পিড ম্যানুয়াল / ৫-স্পিড এএমটি ৫-স্পিড ম্যানুয়াল / ৫-স্পিড এএমটি
সিএনজি গিয়ারবক্স ৫-স্পিড ম্যানুয়াল / ৫-স্পিড এএমটি ৫-স্পিড ম্যানুয়াল

পরিসংখ্যান থেকে দেখা যাচ্ছে, নতুন পেট্রল ইঞ্জিনের সর্বোচ্চ শক্তি ৮৩ পিএস, যা পুরনো মডেলের ৯০ পিএসের তুলনায় কম। টর্কও ১১৩ এনএম থেকে কমে ১১২ এনএম হয়েছে। সিএনজি সংস্করণেও শক্তি ৭৭.৫ পিএস থেকে কমে ৭০ পিএস হয়েছে। তবে সিএনজি সংস্করণের টর্ক ৯৮.৫ এনএম থেকে বেড়ে ১০২ এনএম হয়েছে।

সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হল সিএনজি সংস্করণেও এখন এএমটি গিয়ারবক্সের বিকল্প পাওয়া যাচ্ছে। পুরনো মডেলে সিএনজি সংস্করণ কেবল ম্যানুয়াল গিয়ারবক্সে পাওয়া যেত। নতুন ব্যবস্থায় সিএনজির সম্ভাব্য কম চলার খরচের পাশাপাশি স্বয়ংক্রিয় গিয়ার পরিবর্তনের সুবিধাও পাওয়া যাবে।

তবে শুধু শক্তি ও টর্কের পরিসংখ্যান দেখে বাস্তবে কোন গাড়ি ভালো চলবে, তা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। চালানোর অভিজ্ঞতা, জ্বালানি দক্ষতা, ইঞ্জিনের প্রতিক্রিয়া এবং রক্ষণাবেক্ষণের খরচও বিবেচনা করা দরকার।

নতুন গ্লানজার দাম কত বেড়েছে?

নতুন টয়োটা গ্লানজার এক্স-শোরুম দাম ৬.৯৯ লক্ষ টাকা থেকে ১০.৪৯ লক্ষ টাকা পর্যন্ত। পুরনো মডেলের দাম ছিল ৬.৭৩ লক্ষ টাকা থেকে ৯.৯৯ লক্ষ টাকা পর্যন্ত।

মূল্য নতুন গ্লানজা পুরনো গ্লানজা
প্রারম্ভিক দাম ৬.৯৯ লক্ষ টাকা ৬.৭৩ লক্ষ টাকা
সর্বোচ্চ দাম ১০.৪৯ লক্ষ টাকা ৯.৯৯ লক্ষ টাকা

নতুন মডেলের প্রারম্ভিক দাম ২৬,০০০ টাকা বেশি। সর্বোচ্চ দাম বেড়েছে ৫০,০০০ টাকা। তবে নতুন গ্লানজায় অতিরিক্ত ফিচার, এডিএএস এবং নতুন ইঞ্জিন যুক্ত হওয়ায় দামের পার্থক্য বিচার করার সময় এই পরিবর্তনগুলিও বিবেচনায় রাখতে হবে।

কোন মডেল কেনা বেশি যুক্তিযুক্ত?

যাঁরা নতুন নিরাপত্তা প্রযুক্তি, ভেন্টিলেটেড আসন, ওয়্যারলেস ফোন চার্জার এবং সিএনজি-সহ এএমটি গিয়ারবক্সের সুবিধা চান, তাঁদের কাছে নতুন গ্লানজা বেশি আকর্ষণীয় হতে পারে। নতুন রং এবং সংশোধিত সামনের নকশাও বাড়তি সুবিধা।

অন্যদিকে, পুরনো গ্লানজার চার-সিলিন্ডার ইঞ্জিনের বেশি সর্বোচ্চ শক্তি এবং সামান্য বেশি টর্ক কিছু ক্রেতার কাছে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তবে পুরনো মডেল কেনার কথা ভাবলে গাড়ির অবস্থা, রক্ষণাবেক্ষণের ইতিহাস, মাইলেজ এবং বিক্রয়মূল্য আলাদা করে যাচাই করা দরকার।

২০২৬ টয়োটা গ্লানজা ফেসলিফ্টে বাইরের নকশার পরিবর্তনের চেয়ে নিরাপত্তা প্রযুক্তি, নতুন ফিচার এবং সিএনজি-এএমটি বিকল্পের সংযোজন বেশি গুরুত্বপূর্ণ। নতুন গাড়ি কেনার আগে নিজের বাজেট, দৈনিক যাতায়াত এবং জ্বালানির খরচের সঙ্গে এই পরিবর্তনগুলি মিলিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়াই ভালো।

Essential Business Intelligence, Sharp Market Insights, Practical Personal Finance Advice, Daily Fuel, Gold and Silver Prices and Latest Stories – On Kolkata24x7 Business

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *