গোপনাঙ্গে লাথি, কানে বধির! দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ NSUI নেত্রীদের
নয়াদিল্লি: মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আয়োজিত বিক্ষোভ কর্মসূচিতে গিয়ে দিল্লি পুলিশের হাতে আক্রান্ত হওয়ার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুললেন এনএসইউআই (NSUI)-এর ছাত্রনেত্রীরা। বুধবার লোকসভার…
নয়াদিল্লি: মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আয়োজিত বিক্ষোভ কর্মসূচিতে গিয়ে দিল্লি পুলিশের হাতে আক্রান্ত হওয়ার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুললেন এনএসইউআই (NSUI)-এর ছাত্রনেত্রীরা। বুধবার লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর সঙ্গে একটি যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে যোগ দিয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে শারীরিক নির্যাতন ও হেনস্থার বিস্ফোরক অভিযোগ সামনে আনেন তাঁরা। এই বৈঠকে নিগৃহীতা এক ছাত্রনেত্রীকে ‘আমাদের শেরনি’ বলে সম্বোধন করে রাহুল গান্ধী জানান, ভয় কিংবা ঘৃণার কাছে আত্মসমর্পণ না করে তাঁরা অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়ছেন।
সাংবাদিক বৈঠকে উপস্থিত দুই ছাত্রী পুলিশি বর্বরতার রোমহর্ষক বর্ণনা দেন। তাঁদের অভিযোগ, গতকাল শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ চলাকালীন পুলিশ তাঁদের জোর করে তিনটি বাসে তুলে আটক করে। প্রতিটি বাসে ৩০-৪০ জন বিক্ষোভকারী ছিলেন। এক ছাত্রনেত্রীর অভিযোগ, বাসের মধ্যে চঞ্চল যাদব নামের এক মহিলা কনস্টেবল তাঁকে অত্যন্ত নির্মমভাবে আক্রমণ করেন।
নিগৃহীতা ছাত্রীর কথায়, বাস থেকে নেমে পুনরায় প্রতিবাদ চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করায় ওই মহিলা পুলিশকর্মী তাঁর গলা টিপে ধরে সজোরে সিটের ওপর ফেলে দেন। এমনকি নখ দিয়ে তাঁর মুখ ও কানের আশপাশে আঁচড়ে দেওয়া হয় এবং প্রতিবাদ করায় সজোরে চড় মারা হয়।
অন্যদিকে, কেরালা থেকে আসা এবং দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠরতা অন্য এক এনএসইউআই কর্মী আথিরা অভিযোগ করেন, কনট প্লেস থানার সামনে পৌঁছানোর পর তাঁকে পুলিশের পক্ষ থেকে বেধড়ক মারধর করা হয়। তাঁর দাবি, পুলিশকর্মীদের আঘাতে তাঁর চোখের চারপাশে আঘাত লেগেছে এবং কানের মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে। রাহুল গান্ধী এই প্রসঙ্গে উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, পুলিশের মারধরের জেরে আথিরা একটি কানে শোনার ক্ষমতা পুরোপুরি হারিয়ে ফেলেছেন। এক কানে তিনি এখন বধির।
প্রমাণ সংরক্ষণের নির্দেশ রাহুলের
পুলিশের এই কথিত বর্বরতার বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়ে রাহুল গান্ধী শিক্ষার্থীদের সমস্ত ভিডিও ও প্রমাণ সুরক্ষিত রাখার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি বলেন, “আমি সমস্ত ছাত্রছাত্রীদের বলব, পুলিশের এই কর্মকাণ্ডের ভিডিও রেকর্ড করে রাখুন এবং সেই প্রমাণ আমাদের কাছে পাঠান। এই পুরো ঘটনার আইনি লড়াইয়ে সমস্ত প্রমাণ ব্যবহার করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহ, জ্ঞানেশ কুমার থেকে শুরু করে যে কনস্টেবল আমাদের বাচ্চাদের গায়ে হাত তুলেছেন, প্রত্যেককে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হবে এবং শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।”
সাংবাদিক বৈঠকের শেষ পর্বে এক ছাত্র প্রতিবাদের অংশ হিসেবে বাঁশিতে জনপ্রিয় ভজন ‘বৈষ্ণব জন তো’ পরিবেশন করেন। শিক্ষার্থীরা জানান, তাঁরা ঘৃণার জবাব ভালোবাসা ও অহিংসার মাধ্যমেই দেবেন। তবে পুলিশি নির্যাতনের এই অভিযোগগুলির বিষয়ে দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
ভারত-ব্রিটেন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির প্রথম মাসেই বাজিমাত! বাণিজ্য বাড়ল ১৫%