Mita Chatterjee: 'পালকিতে বউ চলে যায়' গাওয়ার পরেই বন্ধ হয়ে যায় ক্যাসেট কোম্পানি! কী ঘটেছিল মিতা চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে? | Mita chatterjee palkite bou chole jay song story interview - 24 Ghanta Bangla News
Home

Mita Chatterjee: ‘পালকিতে বউ চলে যায়’ গাওয়ার পরেই বন্ধ হয়ে যায় ক্যাসেট কোম্পানি! কী ঘটেছিল মিতা চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে? | Mita chatterjee palkite bou chole jay song story interview

Spread the love

নয়ের দশকের মাঝামাঝি সময়ে বাংলা সংগীতের দুনিয়ায় যে কয়েকটি গান ঝড় তুলেছিল, তার মধ্যে অন্যতম নস্ট্যালজিক ও জনপ্রিয় হল ‘পালকিতে বউ চলে যায়’। বিয়ের আসর হোক কিংবা পারিবারিক অনুষ্ঠান—আজও বাঙালি মনকে উদাস করে দিতে এই গানের জুরি মেলা ভার। এই একটিমাত্র গান রাতারাতি খ্যাতির আলোয় নিয়ে এসেছিল গায়িকা মিতা চট্টোপাধ্যায়কে। তবে এই কালজয়ী গানটি শ্রোতাদের মনে পাকাপাকি জায়গা করে নেওয়ার নেপথ্যে রয়েছে এক অবাক করা ইতিহাস, বেশ কয়েকবছর আগে এক সাক্ষাৎকারে নিজেই ফাঁস করেছেন খোদ শিল্পী।

মিতা চট্টোপাধ্য়ায় মানেই দুর্গাপুজোর দুপুরে প্যান্ডেলে বাজানো সেই কালজয়ী গান। নাহ, শুধুই আশা কণ্ঠী নয়, বরং নিজেই নিজের গানের ঘরানা তৈরি করেছিলেন মিতা। গোল্ড প্রিন্টের শাড়ি তো এখনও পুজোয় আলাদা আমেজ তৈরি করে। কিন্তু মিতার পালকিতে বউ চলে যায় গানটি যেন সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছিল।

নয়ের দশকের নস্ট্যালজিয়া উসকে দিয়ে মিতা চট্টোপাধ্যায় জানিয়ে ছিলেন, এই গানটি যখন প্রথমবার বাজারে এসেছিল, তখন কিন্তু আজকের মতো এমন আকাশছোঁয়া সাফল্য পায়নি। ১৯৯৩ সালে মুক্তি পাওয়ার পর গানটি সেভাবে নজর কাড়তে ব্যর্থ হয়। আর সবথেকে অদ্ভুত বিষয় হল, গানটি যে কোম্পানির ব্যানারে প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল, তা সুপারহিট হওয়ার আগেই চিরতরে বন্ধ হয়ে যায়!

তবে নিয়তির অন্য পরিকল্পনা ছিল। এরপর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে ২০০০ সালে অন্য একটি রেকর্ড লেবেলের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হন মিতা। সেই নতুন কোম্পানির মাধ্যমেই গানটিকে ফের নতুন করে বাজারে আনা হয়। ব্যস, আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি! দ্বিতীয় দফায় রিলিজ হওয়ার পরেই দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে গানটি এবং বাংলা সংগীতের ইতিহাসে এক নতুন মাইলফলক তৈরি করে।

এই সুপারহিট গানটির সাফল্যের সুবাদে কেরিয়ারে নতুন মোড় আসলেও, এর আগে মিতা চট্টোপাধ্যায় সংগীতমহলে পরিচিত ছিলেন ‘আশাকণ্ঠী’ হিসেবে। কিংবদন্তি আশা ভোঁসলের বাংলা গান অত্যন্ত নিপুণভাবে গেয়ে সেসময়ে রীতিমতো সাড়া ফেলে দিয়েছিলেন তিনি। তবে এই ট্যাগ বা সিলমোহর কি আদতে উপভোগ করতেন তিনি?

এই প্রশ্নের উত্তরে গায়িকা স্পষ্ট জানিয়ে ছিলেন, “আশাজির গান গাই, এতে অপমানের কিছু নেই। তবে ওই যে একটা নির্দিষ্ট স্ট্যাম্প বা তকমা সেঁটে দেওয়া হতো, সেটা কেমন যেন লাগত। আমি কখনওই ওঁর কণ্ঠ নকল করি না, শুধু ওঁর গানের স্টাইলটা অনুসরণ করি।” তবে ‘পালকিতে বউ চলে যায়’ মানুষের মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়ার পর তাঁর সেই পরিচিতি পুরোপুরি বদলে যায়। আর কেউ তাঁকে কেবল ‘আশাকণ্ঠী’ বলে ডাকেন না, বরং নিজের স্বকীয় গায়কী ও অদম্য প্রতিভাতেই বাংলা সংগীত জগতে চিরস্থায়ী আসন করে নিয়েছেন মিতা চট্টোপাধ্যায়। তবে বেশ কয়েক বছর ধরে গানের থেকে দূরেই রয়েছেন মিতা চট্টোপাধ্যায়। তবে নিজের গানের স্কুলে নিয়মিত হাজিরা তাঁর। আর তা নিয়েই মেতে রয়েছেন মিতা চট্টোপাধ্যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *