Citroen 2 CV ফিরছে ২০২৮ সালে, দাম শুরু ১৫ হাজার ইউরো থেকে - 24 Ghanta Bangla News
Home

Citroen 2 CV ফিরছে ২০২৮ সালে, দাম শুরু ১৫ হাজার ইউরো থেকে

Spread the love

কলকাতা, ১৩ অক্টোবর ২০২৬: পুরনো দিনের জনপ্রিয় গাড়ির নকশায় আধুনিক বৈদ্যুতিক প্রযুক্তির ছোঁয়া। প্যারিস মোটর শো ২০২৬-এ নতুন ২ সিভি কনসেপ্ট প্রকাশ্যে এনে এমনই ইঙ্গিত দিল সিট্রোয়েন। সংস্থার ঐতিহাসিক ২ সিভি (Citroen 2 CV) মডেলের নকশা থেকে অনুপ্রাণিত এই নতুন কনসেপ্টটি ভবিষ্যতের ছোট ইলেকট্রিক হ্যাচব্যাকের রূপরেখা তুলে ধরেছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, এর উৎপাদন সংস্করণ ২০২৮ সালে বাজারে আসতে পারে। ইউরোপে গাড়িটির প্রারম্ভিক দাম হতে পারে ১৫,০০০ ইউরো।

১৯৪৮ সালে প্যারিস মোটর শোতেই প্রথমবার প্রদর্শিত হয়েছিল আসল সিট্রোয়েন ২ সিভি। দীর্ঘ ৭৮ বছর পর একই মোটর শো-তে এই নামের প্রত্যাবর্তন গাড়িপ্রেমীদের কাছে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। নতুন মডেলটি পুরনো গাড়ির পরিচিত নকশা ধরে রাখলেও তাতে যোগ হয়েছে আধুনিক ডিজাইন এবং বৈদ্যুতিক গাড়ির উপযোগী কেবিন।

আকারে ছোট, দৈনন্দিন ব্যবহারের উপযোগী ইলেকট্রিক গাড়ি

সিট্রোয়েন ২ সিভি কনসেপ্টের দৈর্ঘ্য ৩.৭৬ মিটার। অর্থাৎ, এটি মূল ২ সিভি মডেলের থেকেও ছোট। গাড়িটির ওজন এক টনের নিচে রাখার লক্ষ্য নিয়েছে সংস্থা। এর ফলে দৈনন্দিন যাতায়াতের উপযোগী এবং তুলনামূলক সাশ্রয়ী ব্যাটারি ব্যবহার করা সম্ভব হবে বলে মনে করছে সিট্রোয়েন।

সংস্থার পরিকল্পনা অনুযায়ী, উৎপাদন সংস্করণটি সিট্রোয়েনের আন্তর্জাতিক গাড়ির তালিকায় অ্যামি এবং সি৩ হ্যাচব্যাকের মাঝখানে জায়গা পাবে। অর্থাৎ, ছোট আকারের বৈদ্যুতিক গাড়ি খুঁজছেন এমন গ্রাহকদের জন্য এটি একটি নতুন বিকল্প হতে পারে।

তবে গাড়িটির ব্যাটারির ক্ষমতা, মোটরের শক্তি, চার্জিংয়ের সময় এবং একবার চার্জে কত দূর চলবে, সে সম্পর্কে এখনও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

citroen-2cv-electric-car-launch-2028-price-15000-euros

পুরনো ২ সিভির নকশায় আধুনিক পরিবর্তন

নতুন কনসেপ্টের সামনের অংশে রয়েছে গোলাকার নকশার এলইডি হেডল্যাম্প। প্রতিটি হেডল্যাম্পের চারপাশে রয়েছে অর্ধবৃত্তাকার ডিআরএল বা ডে-টাইম রানিং লাইট। সামনের গ্রিলটি বন্ধ রাখা হয়েছে এবং তার উপর রয়েছে সিট্রোয়েনের লোগো। বনেটের উপর উঁচু রেখার নকশাও পুরনো মডেলের কথা মনে করিয়ে দেয়।

গাড়ির উইন্ডস্ক্রিনে খোদাই করা রয়েছে ৪৮, ৯০ এবং ২৬, এই তিনটি সংখ্যা। এর মধ্যে ১৯৪৮ সাল মূল ২ সিভির আত্মপ্রকাশের বছর, ১৯৯০ সাল সেই মডেলের উৎপাদন বন্ধ হওয়ার বছর এবং ২০২৬ সাল নতুন কনসেপ্ট প্রকাশের বছরকে বোঝায়।

সামনের দিক থেকে দেখলে বনেটের ভি-আকৃতির নকশা এবং মোটা রুপোলি স্ট্রিপ পুরনো ২ সিভির সঙ্গে মিল তৈরি করে। পাশের অংশে রয়েছে বাঁকানো ছাদ, যা মসৃণভাবে পিছনের অংশের সঙ্গে মিশে গিয়েছে। গোলাকার হুইল আর্চে ব্যবহার করা হয়েছে চকচকে কালো ফিনিশ। সি-পিলারের উপর বসানো হয়েছে টার্ন ইন্ডিকেটর।

১৮ ইঞ্চির স্টিল হুইল ও বিশেষ টায়ার প্রযুক্তি

গাড়িটিতে রয়েছে ১৮ ইঞ্চির স্টিল হুইল, যার নকশাও মূল ২ সিভি থেকে অনুপ্রাণিত। টায়ারের সাইডওয়ালে রয়েছে মিশেলিনের নাম এবং সিট্রোয়েনের শেভরন প্যাটার্ন।

মিশেলিন তৈরি করেছে ‘ইউনিভার্সাল ডিজিটাল টুইন অব দ্য টায়ার’ নামে একটি প্রযুক্তি। সিট্রোয়েনের দাবি, এই প্রযুক্তি গাড়িকে তার পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে এবং টায়ারের অবস্থা নিয়মিত পর্যবেক্ষণে সাহায্য করবে।

পিছনের অংশে রয়েছে কালো টেলগেট, যা বাম্পারের দিকে প্রসারিত হয়েছে। পুরনো ২ সিভির নকশাতেও এমন বৈশিষ্ট্য ছিল। পাশাপাশি রয়েছে তিনটি অনুভূমিক রেখা, ছোট ওভারহ্যাং, টেলগেটের হাতল এবং দু’পাশে এলইডি লাইট। নম্বর প্লেটের জায়গায় ২ সিভির বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ডাকনামও তুলে ধরা হয়েছে। সামনের মতো পিছনেও রয়েছে মোটা রুপোলি স্ট্রিপ।

ড্যাশবোর্ড ছাড়াই আলাদা ধরনের কেবিন

সিট্রোয়েন ২ সিভি কনসেপ্টের কেবিনে সাদা ও হলুদ রঙের ব্যবহার বিশেষভাবে নজর কাড়ে। মেঝে, ড্যাশবোর্ডের অংশ এবং দরজার প্যানেলে এমন কাপড়ের ফিনিশ রয়েছে, যার নকশা বেতের ঝুড়ি বোনার ধরন থেকে অনুপ্রাণিত। বেঞ্চের মতো আসনগুলিতে ব্যবহার করা হয়েছে হলুদ টার্টান প্যাটার্নের আবরণ।

এই কনসেপ্টের কেবিনে প্রচলিত ধরনের ড্যাশবোর্ড নেই। তার বদলে রয়েছে একটি নলাকার কাঠামো, যার উপরে বসানো হয়েছে সিঙ্গল-স্পোক স্টিয়ারিং হুইল। এর সঙ্গে রয়েছে একটি কন্ট্রোল লিভার এবং আট ইঞ্চির টাচস্ক্রিন। টাচস্ক্রিনের গ্রাফিক্সে কমিক বইয়ের নকশার ছাপ রয়েছে। স্ক্রিনের নিচে রাখা হয়েছে টগল সুইচ।

উইন্ডস্ক্রিনের নিচে রয়েছে ডিজিটাল ড্রাইভার ডিসপ্লে। সাধারণ সেন্টার কনসোলের পরিবর্তে দেওয়া হয়েছে খুলে নেওয়া যায় এমন থ্রি-ডি প্রিন্টেড স্টোরেজ বাস্কেট। দরজার হাতল হিসেবেও ব্যবহার করা হয়েছে স্ট্র্যাপ।

আরও একটি অভিনব বৈশিষ্ট্য হল কাপড়ের তৈরি সানরুফ। পাশাপাশি রয়েছে ‘রেডিওয়েন’ নামে একটি রেডিও ইউনিট, যা গাড়ি থেকে খুলে নিয়ে আলাদা স্পিকার হিসেবেও ব্যবহার করা যাবে। অ্যাক্সিলারেটর ও ব্রেক প্যাডেলে খরগোশ এবং কচ্ছপের চিহ্নও রয়েছে, যা গাড়িটির নকশায় মজার একটি সংযোজন।

২০২৮ সালে বাজারে আসতে পারে উৎপাদন সংস্করণ

সিট্রোয়েন ২ সিভি কনসেপ্টের সম্পূর্ণ প্রযুক্তিগত বিবরণ এখনও প্রকাশ করেনি। তবে উৎপাদন সংস্করণটি ২০২৮ সালে আসার পরিকল্পনা রয়েছে এবং ইউরোপে এর প্রারম্ভিক দাম ১৫,০০০ ইউরো হতে পারে। গাড়িটির চূড়ান্ত দাম, ব্যাটারি, রেঞ্জ ও অন্যান্য বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে আরও তথ্য পরে জানা যাবে।

পুরনো ২ সিভির পরিচিত নকশাকে বৈদ্যুতিক গাড়ির যুগে ফিরিয়ে আনার এই উদ্যোগ সিট্রোয়েনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে। তবে কনসেপ্টের কতটা অংশ চূড়ান্ত গাড়িতে থাকবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। আপাতত ২০২৮ সালের সম্ভাব্য বাজারে আসার সময়সূচি এবং সংস্থার পরবর্তী ঘোষণার দিকেই নজর থাকবে।

Essential Business Intelligence, Sharp Market Insights, Practical Personal Finance Advice, Daily Fuel, Gold and Silver Prices and Latest Stories – On Kolkata24x7 Business

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *