নির্বাচন ঘোষণা হলে বিজেপির পতাকা ধরবেন অন্তত ২৫ বিধায়ক! কর্নাটকে টলমল কংগ্রেস মসনদ - 24 Ghanta Bangla News
Home

নির্বাচন ঘোষণা হলে বিজেপির পতাকা ধরবেন অন্তত ২৫ বিধায়ক! কর্নাটকে টলমল কংগ্রেস মসনদ

Spread the love

বেঙ্গালুরু: কর্ণাটকের রাজনৈতিক মহলে সোমবার যেন একটা বড়সড় ঝড় উঠে গেল(Karnataka Congress)। কর্ণাটক বিজেপির রাজ্য সভাপতি বি.ওয়াই. বিজয়েন্দ্র এক চাঞ্চল্যকর দাবি করে বসেছেন। তিনি বলেছেন,…

বেঙ্গালুরু: কর্ণাটকের রাজনৈতিক মহলে সোমবার যেন একটা বড়সড় ঝড় উঠে গেল(Karnataka Congress)। কর্ণাটক বিজেপির রাজ্য সভাপতি বি.ওয়াই. বিজয়েন্দ্র এক চাঞ্চল্যকর দাবি করে বসেছেন। তিনি বলেছেন, আজই যদি বিধানসভা নির্বাচন ঘোষণা করা হয়, তাহলে কংগ্রেসের অন্তত ২৫ জন বিধায়ক, যাদের মধ্যে মন্ত্রীরাও আছেন, দল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিতে প্রস্তুত। এই কথায় রাজ্যের রাজনৈতিক আবহাওয়ায় এখন ঝড় ওঠার আগের নিস্তব্ধতা।

বিজয়েন্দ্র বেঙ্গালুরুতে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছিলেন। প্রশ্ন উঠেছিল, বিজেপি কি সরকারি মন্ত্রীদের টানার চেষ্টা করছে কিনা। (Karnataka Congress)সেই প্রসঙ্গেই তিনি এই কথা বলেন। “আমাদের কাউকে প্রলোভন দেখানোর কোনো প্রয়োজন নেই। কিন্তু আমি রাজ্য সভাপতি হিসেবে স্পষ্ট করে বলছি, আগামীকালই যদি নির্বাচন ঘোষণা হয়, তাহলে ডি.কে. শিবকুমারের মন্ত্রিসভার সদস্যদের সহ ২৫ জন কংগ্রেস বিধায়ক বিজেপিতে চলে আসবেন। এমন রাজনৈতিক পরিবেশ ইতিমধ্যেই তৈরি হয়ে গেছে,”।

আরও দেখুনঃ পুজোয় উড়ালপুল রাঙানোর উদ্যোগ! ড্রাইভিংয়ে ভিশন সমস্যা নিয়ে কী বলছে ট্রাফিক পুলিশ?

তিনি আরও বলেন, কংগ্রেসের বিধায়করা বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী ডি.কে. শিবকুমারের উপর আস্থা হারিয়েছেন। দলের ভিতরে অসন্তোষ চরমে। আগের নির্বাচনে কংগ্রেস কিছু আসন পেয়েছিল মানুষকে বিভ্রান্ত করে। কিন্তু পরেরবার সেই অবস্থা আর থাকবে না। বিজেপি ২০২৮ সালে ক্ষমতায় ফিরবে বলে তিনি আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেন। বিএস ইয়েদুরাপ্পা ও বাসভরাজ বোম্মাইয়ের শাসনকালের কথা মনে করিয়ে তিনি বলেন, তখন কৃষক, শোষিত শ্রেণি ও সব অংশের মানুষের কল্যাণে কাজ হয়েছিল।

এই দাবির জবাব দিতে দেরি করেননি মুখ্যমন্ত্রী ডি.কে. শিবকুমার। নয়াদিল্লিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি বিজয়েন্দ্রকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন। (Karnataka Congress)“বিজয়েন্দ্র এখনই কংগ্রেসের সেই বিধায়কদের স্বাগত জানান যারা বিজেপিতে যোগ দিতে চান। অপেক্ষা করবেন না,” এভাবেই তিনি ব্যঙ্গ করে বলেন। তিনি আরও বলেন, “আগে তাদের দলে নিয়ে নিন। দেরি করবেন না।” শিবকুমারের এই প্রতিক্রিয়ায় স্পষ্ট যে তিনি বিজয়েন্দ্রের দাবিকে হালকাভাবে নিচ্ছেন এবং রাজনৈতিক মারপ্যাঁচ হিসেবে দেখছেন।

কর্ণাটকের রাজনীতিতে ‘অপারেশন কমল’ বা দলত্যাগের আলোচনা নতুন কিছু নয়। আগেও বিজেপি ক্ষমতায় আসার জন্য কংগ্রেস ও অন্য দলের বিধায়কদের নিজেদের দলে টানার চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এবারও সেই পুরনো ছবিই ফিরে এসেছে। বিজয়েন্দ্র অবশ্য বলেছেন, তারা কাউকে টানছেন না। পরিস্থিতি এমন যে কংগ্রেসের নেতারা নিজেরাই চলে আসতে চাইছেন।

একই সঙ্গে বিজয়েন্দ্র কংগ্রেসের বিরুদ্ধে আরও কয়েকটি অভিযোগও করেন। তিনি বলেন, কংগ্রেস দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার মতো ঘটনার কথা উল্লেখ করে তরুণদের উসকানি দেওয়ার অভিযোগও আনেন তিনি। নির্বাচনী তালিকা সংশোধন (এসআইআর) নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা চলাকালীন ইন্ডিয়া জোটের প্রধান বিচারপতির সঙ্গে দেখা করার চেষ্টাকেও তিনি অশোভন বলে অভিহিত করেন।

অন্যদিকে কংগ্রেস নেতারা এই দাবিকে পুরোপুরি অস্বীকার করছেন। তাদের মতে, এটা বিজেপির রাজনৈতিক কৌশল মাত্র। দলের ভিতরে কোনো বড় অসন্তোষ নেই এবং সবাই ঐক্যবদ্ধ। তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, কর্ণাটকে স্থানীয় নির্বাচন ও অন্যান্য রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের মধ্যে এই ধরনের দাবি দলত্যাগের জল্পনা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

বিজয়েন্দ্র আরও বলেন, সত্যি কী ঘটবে তা আগামী দিনে স্পষ্ট হবে। তিনি পদযাত্রা করে সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার কথাও বলেন। শিবকুমারের চ্যালেঞ্জের পর এখন সবাই তাকিয়ে আছে, বিজেপি কি সত্যিই কোনো কংগ্রেস বিধায়ককে দলে নেবে কিনা। নাকি এটা শুধুই রাজনৈতিক যুদ্ধের অংশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *