টানা পঞ্চমবার অর্থনীতির ৭ % প্রবৃদ্ধি ধরে রাখল ভারত
নয়াদিল্লি: আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বা আইএমএফ ভারতের অর্থনৈতিক (India GDP)প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস বাড়িয়েছে। ২০২৬ ও ২০২৭ সালের জন্য ভারতের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশ ধরে রাখা হয়েছে।…
নয়াদিল্লি: আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বা আইএমএফ ভারতের অর্থনৈতিক (India GDP)প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস বাড়িয়েছে। ২০২৬ ও ২০২৭ সালের জন্য ভারতের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশ ধরে রাখা হয়েছে। এই পূর্বাভাসের ফলে ভারত টানা পঞ্চম বছর বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল প্রধান অর্থনীতির মর্যাদা ধরে রাখল। মহামারির পর থেকে এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত রয়েছে।
আইএমএফ-এর সর্বশেষ ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুকে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। সংস্থা জানিয়েছে, অভ্যন্তরীণ চাহিদা ও পরিষেবা খাতের শক্তিশালী কার্যক্রমের কারণেই এই উন্নত পূর্বাভাস। বিশ্বজুড়ে নানা চ্যালেঞ্জ থাকলেও ভারতের অর্থনীতি স্থিতিশীল রয়েছে। উন্নত অর্থনীতির দেশগুলোতে প্রবৃদ্ধি ১.১ থেকে ১.২ শতাংশের মতো ধীরগতির। অন্যদিকে ভারতের সূচক অনেক এগিয়ে।
আরও দেখুনঃ হাওড়া থেকে নয়াদিল্লি, আসতে চলেছে বন্দে ভারত স্লিপার
অর্থমন্ত্রকের নেতৃত্বে গৃহীত নীতিগুলো এই সাফল্যের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।(India GDP)পরিকাঠামো খাতে বিনিয়োগ, সংস্কার ও স্থিতিশীল নীতির ফলে বৈশ্বিক মন্দার প্রভাব থেকে ভারতীয় অর্থনীতি অনেকটাই সুরক্ষিত রয়েছে। “রেজিলিয়েন্ট, রিফর্মিং, রাইজিং” এই কাঠামোর আওতায় ধারাবাহিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আইএমএফ বলেছে, ভারতের প্রবৃদ্ধি শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ চাহিদা ও পরিষেবা খাতের ওপর ভর করে এগিয়ে চলেছে। উচ্চ তেলের দাম সত্ত্বেও এই গতি অব্যাহত। জনসংখ্যার সুবিধাজনক কাঠামো, বড় অভ্যন্তরীণ বাজার ও কাঠামোগত সংস্কার প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনাকে আরও বাড়িয়েছে।
বিশ্ব অর্থনীতির সামগ্রিক প্রবৃদ্ধি এ বছর ধীর হয়ে ৩.১ শতাংশে নেমে আসতে পারে বলে আইএমএফ জানিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা ও জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধি অনেক দেশকে প্রভাবিত করছে। কিন্তু ভারত সেই ধাক্কা সামলে উঠতে পেরেছে। সাম্প্রতিক ত্রৈমাসিকে ৭.৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি এই ধারাকে আরও শক্তিশালী করেছে।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এই পূর্বাভাস আন্তর্জাতিক মহলে ভারতের অবস্থানকে আরও মজবুত করবে। বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়বে। পরিকাঠামো উন্নয়ন, ডিজিটাল অর্থনীতি ও উৎপাদন খাতে গুরুত্ব দেওয়ার ফলেই এই ফল পাওয়া যাচ্ছে। সরকারি পুঁজি ব্যয় বাড়ানোর নীতি অভ্যন্তরীণ চাহিদাকে সচল রেখেছে।
তবে চ্যালেঞ্জও কম নয়। বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা, জ্বালানি মূল্য ও মুদ্রাস্ফীতির চাপ মোকাবিলা করতে হবে। আইএমএফ ভারতের মুদ্রাস্ফীতি ২০২৬ সালে ৫ শতাংশ এবং পরের বছর ৪.৪ শতাংশ ধরেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও সরকারের নীতি সমন্বয় এই চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ভারতের এই সাফল্য শুধু সংখ্যার খেলা নয়। (India GDP)কোটি মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দারিদ্র্য হ্রাসের সঙ্গেও যুক্ত। ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি দেশকে উন্নয়নের নতুন স্তরে নিয়ে যাচ্ছে। বিশ্বের অন্যান্য প্রধান অর্থনীতির তুলনায় ভারতের অবস্থান এখন অনেক শক্তিশালী।