অমিত শাহের সঙ্গে জরুরি বৈঠক! বিকেলেই দিল্লি উড়ে গেলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী
কলকাতা ও নয়াদিল্লি: দুর্গাপুজোর ঠিক প্রাক্কালে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সফরে রাজধানী গেলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে তিনটের বিশেষ বিমানে কলকাতার নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু…
কলকাতা ও নয়াদিল্লি: দুর্গাপুজোর ঠিক প্রাক্কালে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সফরে রাজধানী গেলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে তিনটের বিশেষ বিমানে কলকাতার নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে দিল্লির উদ্দেশ্যে রওনা দেন তিনি। সূত্রের খবর, আজ বিকেলেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-সহ বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে এক জরুরি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বসার কথা রয়েছে তাঁর। দেশের ও দিল্লির বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং রাজ্যের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে এই বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা।
দিল্লি যাওয়ার আগে এদিন নদিয়ার রানাঘাট চারের পল্লীর একটি দুর্গাপুজোর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী। পুজোর মণ্ডপে দাঁড়িয়ে নদীয়ার সাধারণ মানুষকে শারদোৎসবের শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি বলেন, “প্রভু চৈতন্যদেবের পুণ্যভূমি নদিয়ার রানাঘাটে মা দুর্গার অসংখ্য ভক্তকে অভিনন্দন জানাই।” এরপর ভিড়েভাট্টার মাঝেই নিজের কর্মসূচির কথা ঘোষণা করে তিনি বলেন, “আমার সাড়ে তিনটের ফ্লাইট রয়েছে দিল্লির।”
রানাঘাটের পুজোমঞ্চ থেকেই এদিনের বক্তব্যে কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে রাজ্য সরকারের উদ্যোগে হওয়া বর্ণাঢ্য পুজো উদ্বোধনের প্রসঙ্গও তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, মহালয়ার দিন মাতৃপক্ষে ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে মাথায় রেখেই ইডেন গার্ডেন্সে দুর্গাপুজোর আনুষ্ঠানিক সূচনা করা হয়েছিল। এপ্রসঙ্গে বিগত বছরগুলির কথা তুলে ধরে তাঁর দাবি, রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর থেকে প্রতি বছরই দুর্গাপুজোর অনুদান এবং পুজো অনুমোদনের সংখ্যা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমান সরকারের আমলে নতুন করে প্রায় ১২,৪০০টি পুজোকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
উন্নয়ন ও আধ্যাত্মিক সার্কিটের বার্তা
রাজ্যের আগামী দিনের পথচলা এবং পরিকাঠামো উন্নয়ন প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় জানান, বাংলায় উন্নয়নের গতি যেমন অব্যাহত থাকবে, তেমনই কর্মসংস্থানের নতুন নতুন দিগন্তও উন্মোচিত হবে। সাধারণ মানুষের সমস্ত প্রত্যাশা পূরণে সরকার বদ্ধপরিকর বলে জানান তিনি।
পাশাপাশি রাজ্যজুড়ে আধ্যাত্মিক পর্যটনের প্রসারের ওপর বিশেষ জোর দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রভু চৈতন্যদেব থেকে শুরু করে স্বামী বিবেকানন্দের মতো মহান মনীষীদের আদর্শকে সামনে রেখে বাংলায় আধ্যাত্মিক উন্নয়ন ঘটানো হবে। এই উদ্দেশ্যে গোটা বাংলা জুড়ে একটি সুসংহত ‘তীর্থক্ষেত্র সার্কিট’ বা ট্যুরিজম সার্কিট তৈরি করা হবে।
এদিন তাঁর বক্তব্যে শারদোৎসবের পাশাপাশি আসন্ন উৎসবগুলির শান্তিরক্ষার বার্তাও উঠে আসে। রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় দুর্গাপুজো অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে ও সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয় উল্লেখ করে তিনি জানান, আগামী দিনে আসছে রাস উৎসব। সেই রাস উৎসবও যেন পুরোপুরি ঘটনাভিন ও শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপিত হয়, তার জন্য মায়ের চরণে শান্তি প্রার্থনা করেছেন তিনি। এখন সকলের নজর রয়েছে বিকেলের দিল্লি বৈঠক এবং সেখানে কোন রাজনৈতিক সমীকরণ উঠে আসে, তার ওপর।
পুজোয় উড়ালপুল রাঙানোর উদ্যোগ! ড্রাইভিংয়ে ভিশন সমস্যা নিয়ে কী বলছে ট্রাফিক পুলিশ?
এবার ট্রিপল ইঞ্জিন! উপনির্বাচনের সাফল্যের পর পুরভোট নিয়ে হুঙ্কার মুখ্যমন্ত্রীর