নথির ঘাটতি, কম ফি! ইসি-র বিরুদ্ধে রাহুলদের পিটিশনে ধরা পড়ল ১৪টি ত্রুটি
নয়াদিল্লি: নির্বাচন কমিশনের (ECI) বিরুদ্ধে ভোটার তালিকা সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়া এবং নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী সহ ইন্ডিয়া (INDIA) জোটের…
নয়াদিল্লি: নির্বাচন কমিশনের (ECI) বিরুদ্ধে ভোটার তালিকা সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়া এবং নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী সহ ইন্ডিয়া (INDIA) জোটের শীর্ষ নেতাদের করা পিটিশনে বড়সড় আইনি হোঁচট। সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রি ওই যৌথ আবেদনে মোট ১৪টি ত্রুটি বা আপত্তি চিহ্নিত করেছে। যার মধ্যে রয়েছে প্রয়োজনীয় নথির ঘাটতি, ৯ জন আবেদনকারীর অসম্পূর্ণ অনুমোদনপত্র, কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের পরিচয়পত্রের ঝাপসা কপি এবং সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হলো, আদালতের ফি বাবদ ২২০ টাকার শর্টফল বা কম জমা পড়া!
আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী, এই ত্রুটিগুলি সংশোধন বা মিটিয়ে ফেলার পরেই মামলাটি শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত হতে পারবে। রেজিস্ট্রি সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রধানত যে ত্রুটিগুলির কারণে পিটিশনটি আটকে রয়েছে, তা হল-
নথি ও অনুমোদনের ঘাটতি: পিটিশনে একাধিক প্রয়োজনীয় নথি অনুপস্থিত এবং ৯ জন আবেদনকারীর পক্ষে যথাযথ বা সম্পূর্ণ অনুমোদনপত্র জমা দেওয়া হয়নি।
পরিচয়পত্রের মান: কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের পরিচয়পত্রের কপিটি ঝাপসা (blurred) হওয়ার কারণে তা স্পষ্ট নয়।
কোর্ট ফি-র গরমিল: মামলার জন্য নির্ধারিত কোর্ট ফি-র থেকে ২২ টাকা কম দেওয়া হয়েছে।
পিটিশন দায়েরের নেপথ্য কাহিনী
প্রধান বিচারপতি (CJI) সূর্য কান্ত পূর্বের দিন মামলাটি বিচারাধীন (Sub judice) এই যুক্তিতে রাহুল গান্ধীর সঙ্গে সাক্ষাতের আর্জি খারিজ করে দেওয়ার পরেই বিরোধীরা এই আইনি লড়াইয়ের পথ বেছে নেন। সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, কংগ্রেসের আইনি দল রাহুল গান্ধী আদালতে পৌঁছানোর এক-দু’ঘণ্টা আগেই আবেদনটি দাখিল করে। নির্ধারিত বিকেল সাড়ে চারটে ডেডলাইনের আগে রাহুল উপস্থিত হতে না পারায় আইনজীবী এস প্রসন্ন এটি ফাইল করেন।
এর আগে রাহুল গান্ধী, মল্লিকার্জুন খাড়গে, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, সমাজবাদী পার্টি প্রধান অখিলেশ যাদব, তৃণমূল কংগ্রেস প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদব সহ শত শত সমর্থক ও ইন্ডিয়া জোটের নেতারা সুপ্রিম কোর্ট অভিমুখে এক মেগা মিছিলে পা মেলান।
পিটিশনে বিরোধীদের ১০ দফা দাবি
নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে এই যৌথ আবেদনে মূলত ১০টি প্রধান বিষয়ের ওপর স্বস্তি বা নির্দেশ চাওয়া হয়েছে-
১. সমস্ত এসআইআর (SIR) রেকর্ড জমা: গত ২৪ জুন, ২০২৫ থেকে এই প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার সিদ্ধান্ত সংক্রান্ত ফাইল, মিটিংয়ের মিনিট, আপত্তি ও অ্যাক্সেস লগ আদালতের সামনে পেশ করা।
২. সিদ্ধান্ত খতিয়ে দেখা: এসআইআর সংক্রান্ত সিদ্ধান্তগুলি আইনসম্মত ও সংবিধানের ৩২৪ নম্বর ধারার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ কি না, তা পরীক্ষা করা এবং বেআইনি সিদ্ধান্ত খারিজ করা।
৩. কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ: নির্বাচনী বিধি লঙ্ঘনের সঙ্গে যুক্ত আধিকারিকদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া।
৪. অভিযোগের সুরাহা: ইসিআইকে সমস্ত অভিযোগ ও পিটিশন আইন মেনে রেকর্ড করে নিষ্পত্তি করতে হবে।
৫. অনলাইন ফর্ম ৬: ১৯৬০ সালের বিধি মেনেই অনলাইন ফর্মের বিন্যাস বজায় রাখা।
৬. স্বাধীন কমিটি বা অডিট: অবসরপ্রাপ্ত সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতির নেতৃত্বে একটি স্বাধীন কমিটি গঠন করে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়া, ইভিএমের প্রযুক্তিগত নকশা এবং সার্বিক বিষয় খতিয়ে দেখা।
৭. বাদ পড়া ভোটারদের বিবরণ: এসআইআর প্রক্রিয়ায় কোন কোন বুথ থেকে কাদের নাম বাদ গেছে, তার বিশদ তালিকা এবং লিঙ্গ ও বয়সভিত্তিক তথ্য প্রকাশ করা।
৮. নোটিশ ও শুনানির অধিকার: যথাযথ আইনি নোটিশ এবং শুনানির সুযোগ ছাড়া কোনো বৈধ ভোটারের নাম বাদ দেওয়া যাবে না।
৯. এসআইআর প্রক্রিয়ার ওপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ: সমস্ত রাজ্যে এই প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা।
১০. অন্যান্য নির্দেশ: নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা রক্ষার্থে আদালত প্রয়োজনীয় অন্য যেকোনো নির্দেশ দিতে পারে।
রেজিস্ট্রির আপত্তিগুলি মিটিয়ে ফেলার পরেই এই হাই-প্রোফাইল মামলার শুনানির দিন ধার্য হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
যন্তর মন্তরে নাটকীয় প্রতিবাদ, আটক সিজেপি নেতা সৌরভ-আশুতোষরা
হায়দরাবাদের সৈনিক স্কুলে মা দুর্গার মালা পরায় ক্লাসে ঢুকতে নিষেধ ছাত্রীদের