Bigg Boss Bangla: মাঝরাতে ঘুম থেকে তুলে কান্না নন্দিনীর! বিগ বসের বাড়ি থেকে বেরিয়ে কার মুখোশ খুললেন দীপেন্দু? | Bigg Boss Bangla Secrets Revealed: Dipendu Biswas Exposes Fake Tears & Ultimate Survival Hacks
সকাল হচ্ছে নাকি রাত, বোঝার কোনও উপায় নেই। মোবাইল নেই, ঘড়ি নেই! ভাবুন তো, এমন অবস্থায় টানা ৩৯ দিন কাটাতে হলে আপনার কী অবস্থা হবে? আর যদি শোনেন, চিনি বাঁচানোর জন্য রসগোল্লার রস জমিয়ে চা বানানো হচ্ছে! আজ্ঞে হ্যাঁ, গল্প হলেও সত্যি। বিগ বস বাংলার (Bigg Boss Bangla) ঘর থেকে সদ্য বেরিয়ে এসেছেন ফুটবলার দীপেন্দু বিশ্বাস। আর বেরিয়েই ফাঁস করলেন একের পর এক চাঞ্চল্যকর সিক্রেট! বিগ বসের অন্দরে ঠিক কী কী ঘটে? কে সত্যি বন্ধু, আর কেই বা আড়ালে গেম খেলে? একটি সাক্ষাৎকারে দীপেন্দু উজার করে দিয়েছেন নিজের অভিজ্ঞতা।
সবচেয়ে মজার ব্যাপার হল বিগ বসের বাড়ির রান্নাঘর। লাক্সারি বাজেটে চিনি আর আলুর দাম আগুন! তাই প্রতিযোগীরা বুদ্ধি করে মাংস বা আলুর বদলে ডিমকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। গোটা ৪০ দিনে মাত্র দু’দিন জুটেছে চিকেন, আর একদিন ইলিশ মাছ। তবে আসল চমক হল চা। উইকেন্ডে যখন সঞ্চালক আসতেন, তখন মিষ্টি বা রসগোল্লা আসত। সেই রসগোল্লার রস সযত্নে জমিয়ে রাখা হত। আর পরের ৪-৫ দিন সেই রস দিয়েই চলত চা পর্ব! কফির ডিব্বা থেকে মেপে মেপে এক চামচ কফি নেওয়া হত। সারভাইভাল গেম একেই বলে!
ময়দানের মানুষ দীপেন্দু বরাবরই স্পোর্টসম্যান স্পিরিটে বিশ্বাসী। তাই জিতুর মিথ্যে বলাটা তাঁর কাছে সবচেয়ে খারাপ লেগেছে। দীপেন্দুর কথায়, এলিমিনেশনের দিন জিতু চোখে জল নিয়ে এসে বলেছিল সে নাকি দীপেন্দুকে ভোট দিয়েছে। অথচ আসল সত্যিটা ছিল ঠিক উল্টো! দীপেন্দুর মতে, “গেম খেলতে এসেছ খেলো, কিন্তু মিথ্যে কান্নার কোনও জায়গা নেই।” অন্যদিকে, তাঁর বিদায়ে সবচেয়ে বেশি ভেঙে পড়েছিল গায়ক দুর্নিবার।
বিগ বসের ঘরে স্ট্র্যাটেজির পাশাপাশি আবেগও কাজ করে। একদিন মাঝরাতে কাঁদতে কাঁদতে দীপেন্দুর কাছে ছুটে এসেছিলেন নন্দিনী। দীপেন্দু তখন বাইরে ঘুমোচ্ছিলেন। নন্দিনীকে ওই অবস্থায় দেখে তিনি শান্ত করেন। সৃজলার সঙ্গে নন্দিনীর কোনও একটি বিষয় নিয়ে ঝামেলা হয়েছিল। দীপেন্দু তাঁকে পরামর্শ দেন, সৃজলার কাছে গিয়ে বারবার ক্ষমা চাইতে। সৃজলা রেগে গেলেও নন্দিনীকে মাথা ঠান্ডা রাখার বুদ্ধি দিয়েছিলেন তিনি। আর দীপেন্দুর কথা মতো সেই কাজও করেছিলেন নন্দিনী।
বিগ বসের ঘরে নজর কাড়ার জন্য প্রতিযোগীরা কত কিছুই না করে! একবার অনুষ্কা ও আরও কয়েকজন মিলে ডাল ফেলে আর লঙ্কা ছড়িয়ে সকালে ঝামেলা পাকানোর প্ল্যান করেছিল। উদ্দেশ্য ছিল সকাল সকাল বড়সড় বচসা বাঁধানো। কিন্তু দীপেন্দু, মনামী আর সোনামণি মিলে কাকভোরে উঠে সব পরিষ্কার করে দেন। ফলস্বরূপ, অশান্তি পাকানোর সেই মাস্টারপ্ল্যান একেবারে জলে গিয়েছে! তাছাড়া বার্নার চুরি যাওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে, যা রান্নার পরিস্থিতি আরও কঠিন করে তুলেছিল।
৩৯ দিন পর হাতে ফোন পেয়ে কেমন অনুভূতি হয়েছিল? দীপেন্দু মজার ছলে জানান, হাতে ফোন পেয়ে তাঁর বিন্দুমাত্র আগ্রহ ছিল না! বাড়িতে শুধু একটা ফোন করে জানিয়েছিলেন তিনি ফিরছেন। তারপর বাইরের খাবার খেয়ে এক ঘুমে সোজা সকাল। দীপেন্দু খুব শান্ত স্বভাবের। ৩৯ দিনে অন্যান্য প্রতিযোগীদের সঙ্গে কাটানো মুহূর্তে মাত্র একবার রাজবীরের ওপর রেগে গিয়েছিলেন তিনি। বাকি সময়টা তাঁর কেটেছে চুপচাপ নজরদারি করে। বাড়ির এমন একটা নির্দিষ্ট চেয়ার ছিল, যেখানে বসলে গোটা বাড়ি দেখা যায়। সেখানেই জলের বোতল নিয়ে বসে সবার গেম দেখতেন তিনি। তাঁর স্পষ্ট কথা, বিগ বসে কখনও কারও প্রকৃত বন্ধু হওয়া সম্ভব নয়। আজ যে বন্ধু, কাল তাকেই নমিনেট করতে হতে পারে!