যোগী রাজ্যের সীতাপুরে জিয়াউল উলুম মসজিদকে সরকারি নোটিস! চলবে বুলডোজার
লখনউ: উত্তরপ্রদেশের সীতাপুর জেলার তাম্বৌর এলাকায় জিয়াউল উলুম ( Ziaul Uloom)মসজিদকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। রাজস্ব বিভাগ সম্প্রতি মসজিদ কর্তৃপক্ষকে সাত দিনের…
লখনউ: উত্তরপ্রদেশের সীতাপুর জেলার তাম্বৌর এলাকায় জিয়াউল উলুম ( Ziaul Uloom)মসজিদকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। রাজস্ব বিভাগ সম্প্রতি মসজিদ কর্তৃপক্ষকে সাত দিনের আলটিমেটাম দিয়েছে। নোটিশে বলা হয়েছে, সরকারি জমিতে অবৈধভাবে নির্মিত স্থাপনা সাত দিনের মধ্যে নিজেরাই সরিয়ে ফেলতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ না হলে প্রশাসন বুলডোজার চালিয়ে জোরপূর্বক উচ্ছেদ করবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
লাহারপুর তহসিলের রাজস্ব পরিদর্শক সুন্দর লাল রাস্তোগি এই নোটিশ জারি করেছেন। নোটিশটি মসজিদের মোতাওয়াল্লি বা ব্যবস্থাপক মাওলানা শাহিদ আলির নামে পাঠানো হয়েছে। প্রশাসনের দাবি, আহমেদাবাদ গ্রামের গাটা নম্বর ৫৪১-এর জমি সরকারি নথিতে কবরস্থান বা গ্রামসভার সম্পত্তি হিসেবে নথিভুক্ত। এই জমির প্রায় ০.০৩১৮ হেক্টর অংশে স্থায়ী দোকান ও মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছে, যা অবৈধ দখল বলে গণ্য করা হচ্ছে। এর আগে মে মাসে তহসিলদার আদালতের এক আদেশেও এই জমি খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
আরও দেখুনঃ যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করল দিল্লি পুলিশ, বিকল্প হিসেবে ঘোষণা ৩টি নতুন স্থান
প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, সরকারি জমি রক্ষা করা তাদের দায়িত্ব। ( Ziaul Uloom)জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রাজা গণপতি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এবং বলেছেন, অবৈধ দখল সরাতে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নোটিশে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে স্বেচ্ছায় স্থাপনা না সরালে কোনো অতিরিক্ত নোটিশ ছাড়াই জোরপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং খরচ জমি রাজস্ব হিসেবে আদায় করা হবে।
মসজিদ কর্তৃপক্ষ অবশ্য এই নোটিশের বিরোধিতা করেছে। তাঁদের দাবি, বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন। আল্লাহাবাদ হাইকোর্টের লখনউ বেঞ্চে মামলা চলছে এবং নভেম্বরের শুরুতে পরবর্তী শুনানি নির্ধারিত রয়েছে। মোতাওয়াল্লি মাওলানা শাহিদ আলি বলেছেন, তাঁরা আদালতের সিদ্ধান্ত মেনে চলবেন। স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে এই নোটিশ নিয়ে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকে বলছেন, এটি শুধু একটি স্থাপনা নয়, তাঁদের ধর্মীয় স্থান ও শতাব্দী প্রাচীন কবরস্থানের সঙ্গে জড়িত।
উত্তরপ্রদেশে সাম্প্রতিক সময়ে অবৈধ নির্মাণ ও সরকারি জমি দখলের অভিযোগে একাধিক স্থাপনায় বুলডোজার অভিযান চালানো হয়েছে। প্রশাসনের যুক্তি, আইন সবার জন্য সমান এবং সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। অন্যদিকে সমালোচকরা বলছেন, ধর্মীয় স্থাপনাগুলোর ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন এবং আদালতের রায় না আসা পর্যন্ত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত নয়।
তাম্বৌর এলাকার বাসিন্দারা এখন দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন। ( Ziaul Uloom)মসজিদটি স্থানীয় মানুষের ধর্মীয় ও সামাজিক জীবনের কেন্দ্রবিন্দু। সেখানে নামাজ পড়া হয়, মাদ্রাসার কার্যক্রম চলে এবং আশপাশে ছোটখাটো ব্যবসাও রয়েছে। নোটিশ পাওয়ার পর মসজিদ কর্তৃপক্ষ আইনি পরামর্শ নিচ্ছেন এবং আদালতে ত্রাণ চেয়ে আবেদন করার কথা ভাবছেন।
প্রশাসন বলছে, তাঁরা শুধু আইন মেনে চলছেন। জমি যদি সত্যিই সরকারি হয় এবং অবৈধ নির্মাণ প্রমাণিত হয়, তাহলে ব্যবস্থা নেওয়াই স্বাভাবিক। তবে স্থানীয় নেতারা দাবি করছেন, বিষয়টি আরও স্বচ্ছভাবে তদন্ত করা দরকার এবং আদালতের চূড়ান্ত রায়ের অপেক্ষা করা উচিত।