ভারতে বাংলাদেশ-নেপালের মত পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা! গুরুতর অভিযোগ সলিসিটর জেনারেলের
ভারতের বিশিষ্ট আইনজীবী ও প্রাক্তন সলিসিটর জেনারেল হরিশ সালভে সম্প্রতি (Harish Salve)এক সাক্ষাৎকারে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ ও নেপালের মতো পরিস্থিতি ভারতেও তৈরি…
ভারতের বিশিষ্ট আইনজীবী ও প্রাক্তন সলিসিটর জেনারেল হরিশ সালভে সম্প্রতি (Harish Salve)এক সাক্ষাৎকারে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ ও নেপালের মতো পরিস্থিতি ভারতেও তৈরি করার চেষ্টা চলছে। এই প্রচেষ্টা বিদেশ থেকে অর্থায়ন ও উসকানি পেয়ে চালিত হচ্ছে বলে তাঁর দাবি। আইএএনএস-এর সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে সালভে স্পষ্ট করেছেন, কিছু বিদেশি শক্তি ভারতের উত্থানে অসন্তুষ্ট এবং তারা দেশের অভ্যন্তরে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে।
সালভে বলেন, “আমি বিশ্বাস করি, এই প্রচেষ্টাগুলোর জন্য বিদেশি অর্থায়ন হচ্ছে এবং এগুলো বিদেশ থেকে উসকানি দিয়ে চালানো হচ্ছে। এটি আমার অভিযোগ। (Harish Salve)কিছু বিদেশি দেশ, বিশেষ করে আমেরিকা, ভারত নিয়ে খুশি নয়।” তিনি প্রতিবেশী দেশগুলোর সাম্প্রতিক ঘটনাবলির উদাহরণ টানেন। নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশে যে রাজনৈতিক উত্থান-পতন দেখা গেছে, তার পেছনে বাইরের শক্তির ভূমিকা ছিল বলে তিনি মনে করেন। শেখ হাসিনাকে সরিয়ে দেওয়া এবং সেখানে নতুন প্রধানমন্ত্রী আনার পেছনেও বাইরের হাত ছিল বলে তাঁর অভিমত।
আরও দেখুনঃ ওমানে পেট্রো ডলফিনে ড্রোন হামলায় এখনও নিখোঁজ ২ ভারতীয় নাবিক
ভারতের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এখানেও কিছু ব্যক্তি প্রতিবাদের নেতা হিসেবে উঠে এসেছেন। তাঁদের মধ্যে কিছু ইউটিউবারও রয়েছেন। কেউ কেউ জার্মানিসহ অন্যান্য দেশে থাকেন। প্রতিবাদ সংগঠিত করতে টাকার প্রয়োজন হয়। সেই টাকা কোথা থেকে আসছে, সেই প্রশ্ন তুলেছেন সালভে।
তিনি গত ছয় থেকে আট মাসে একটা স্পষ্ট প্যাটার্ন দেখতে পাচ্ছেন বলে দাবি করেন। যখন সরকার হরমুজ সংকট মোকাবিলা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি ও স্যাটেলাইট সক্ষমতা বাড়ানোর দিকে মনোযোগ দিচ্ছে, তখন কিছু গোষ্ঠী সরকারকে এগোতে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে তাঁর অভিযোগ।
সালভের এই বক্তব্যে পশ্চিমা শক্তিগুলোর অসন্তোষের কথাও উঠে এসেছে। তিনি মনে করেন, ভারতের দ্রুত উত্থান কিছু দেশের কাছে সহজভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। (Harish Salve)অর্থমন্ত্রীর সাম্প্রতিক অবস্থানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, অন্যান্য দেশের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনা এগোলেও আমেরিকার সঙ্গে সম্পর্ক এক ধরনের স্থবির অবস্থায় পৌঁছেছে। এই প্রেক্ষাপটে বিদেশি হস্তক্ষেপের সম্ভাবনাকে উড়িয়ে দেওয়া যায় না বলে তিনি সতর্ক করেছেন।
প্রতিবাদের অধিকার গণতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অংশ। কিন্তু সালভের মতে, যখন সেই প্রতিবাদ বিদেশি অর্থ ও উসকানিতে চালিত হয়, তখন তা দেশের স্থিতিশীলতার জন্য বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। তিনি সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন, বিদেশি অর্থায়নের বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক। তাঁর মতে, এ ধরনের চেষ্টাকে উপেক্ষা করা যাবে না।
এই অভিযোগগুলো অবশ্য সালভের ব্যক্তিগত মত। এখনও কোনো স্বাধীন তদন্তে এগুলো প্রমাণিত হয়নি। তবে একজন শীর্ষ আইনজীবীর মুখ থেকে এমন কথা বেরোনোয় রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। কেউ কেউ তাঁর বক্তব্যকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন, আবার কেউ বলছেন এটি নিছক অভিযোগ। যাই হোক, বাংলাদেশ ও নেপালের সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে নতুন প্রশ্ন তুলেছে। সেই প্রেক্ষাপটে ভারতেও অনুরূপ চেষ্টার আশঙ্কা নিয়ে সতর্কতা জরুরি বলে মনে করছেন অনেকে।
হরিশ সালভে দীর্ঘদিন ধরে ভারতের আইনি ও সাংবিধানিক বিষয়ে সোচ্চার। তাঁর এই সাক্ষাৎকারে তিনি দেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা রক্ষার ওপর জোর দিয়েছেন। বিদেশি অর্থের প্রবাহ এবং তার সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে স্বচ্ছতা আনার কথাও বলেছেন। গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা করতে গিয়ে যাতে দেশের সার্বভৌমত্ব ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেদিকে নজর রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।