ড্রাইভিং স্কুল ফিরিয়েছিল, হার মানেননি, আজ অডি-ট্রাক চালিয়ে তাক লাগাচ্ছেন গ্র্যান্ডমা

সারাজীবন শিক্ষকতা করে কাটিয়ে দিয়েছেন বিদ্যা কৌর। প্রথমে শিক্ষক এবং পরে স্কুলের প্রিন্সিপাল হিসেবে দীর্ঘ চার দশকের বেশি সময় পড়াশোনা ও ছাত্রছাত্রীদের মেন্টরিংয়ের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি।

কিন্তু মনের সুপ্ত ইচ্ছে ছিল একটাই, নিজে গাড়ি চালাবেন। এই ইচ্ছে নিয়েই ৫৯ বছর বয়সে গাড়ি চালানো শেখার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

প্রথমে একটি স্থানীয় ড্রাইভিং স্কুলে যোগাযোগ করলেও, তাঁর বয়স বেশি এই অজুহাতে ব্যস্ত রাস্তায় গাড়ি সামলাতে পারবেন না বলে তাঁকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।

কিন্তু দমে যাওয়ার পাত্রী ছিলেন না তিনি। হাল না ছেড়ে নিজেই গাড়ি শেখার মনস্থির করেন এবং নিজের একটি গাড়ি কিনে ফেলেন। বর্তমানে ৭০-এর কোঠায় পৌঁছেছে বিদ্যা।

এক প্রতিবেশীর সাহায্য নিয়ে শুরু হয় তাঁর নিয়মিত অনুশীলন। ক্ল্যাচ, গিয়ার, ব্রেক আর স্টিয়ারিংয়ের সঙ্গে মানিয়ে নিতে কয়েক সপ্তাহ ধরে কঠোর প্র্যাকটিস করেন তিনি।

কোনও শর্টকাট না নিয়ে নিজেই হাত পাকান এবং মাত্র এক মাসের মধ্যে বেসিক ড্রাইভিং শিখে ফেলেন বিদ্যা।

এখন ৭০-এর কোঠায় পৌঁছে জম্মুর ব্যস্ত বাজারেও একা একা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে গাড়ি চালান তিনি। বন্ধুদের ঘুরিয়ে বেড়ানো থেকে শুরু করে প্যারালাল পার্কিংয়ের মতো কঠিন কাজও এখন তাঁর কাছে একেবারে জলভাত।

সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর একটি ভিডিয়ো দারুণ ভাইরাল হয়েছে। সেখানে তাঁকে প্রকাশ্যে দিব্যি একটি অডি কার ও ট্রাক চালাতে দেখা গিয়েছে। তাঁর এমন তাক লাগানো দক্ষতা দেখে নেটিজ়েনরা তাঁকে ভালোবেসে ‘কুল গ্র্যান্ডমা’ বলে ডাকছেন।

ভিডিয়োর কমেন্ট বক্সে উপচে পড়েছে প্রশংসার বন্যা। কেউ লিখেছেন, ‘সত্যিই স্বপ্নের কোনও বয়স হয় না।’ আবার কেউ লিখেছেন, ‘দাদী আর গাড়ি দু’জনেরই কাগজপত্রের মেয়াদ ফুরিয়েছে, কিন্তু তেজ একদম অটুট!’