Luna থেকে ইলেকট্রিক স্কুটার, বইয়ে ভারতের অটো ইতিহাস - 24 Ghanta Bangla News
Home

Luna থেকে ইলেকট্রিক স্কুটার, বইয়ে ভারতের অটো ইতিহাস

Spread the love

ভারতের অটোমোবাইল শিল্পের ইতিহাসে Kinetic Engineering একটি গুরুত্বপূর্ণ নাম। একসময় Luna-র মতো জনপ্রিয় মোপেড থেকে শুরু করে Kinetic Honda DX স্কুটার, বিভিন্ন উদ্ভাবনী উদ্যোগের মাধ্যমে সংস্থাটি দেশের দুই চাকার গাড়ির বাজারে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলেছিল। সেই যাত্রা, সাফল্য, ব্যর্থতা এবং নতুন করে বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজারে ফিরে আসার পরিকল্পনা উঠে এসেছে আদিল জাল দারুখানাওয়ালার লেখা বই ‘Kinetic’s Electric Energy’-তে।

প্রায় ১৭০ পৃষ্ঠার এই বইটি শুধু একটি সংস্থার ব্যবসায়িক ইতিহাস নয়। বরং কীভাবে Kinetic Engineering সাধারণ মানুষের যাতায়াতের ধরন বদলানোর চেষ্টা করেছিল, কীভাবে বিপণনের অভিনব কৌশল ব্যবহার করেছিল এবং কীভাবে নতুন প্রযুক্তি নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছিল, তারও বিস্তারিত বিবরণ রয়েছে এতে।

Luna থেকে শুরু Kinetic-এর যাত্রার গল্প

বইটির শুরুতে রয়েছে Kinetic Honda DX স্কুটারের পরিচিতি। এরপর লেখক ফিরে গিয়েছেন সংস্থার গোড়ার দিকে, যখন Luna মোপেডের সাফল্য Kinetic-কে পরিচিতি এনে দিয়েছিল। সীমিত খরচে মোটরচালিত যাতায়াতের সুযোগ তৈরি করে Luna বহু ভারতীয়ের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল।

দারুখানাওয়ালা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেছেন, কীভাবে সংস্থাটি মোপেডকে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে নানা উদ্যোগ নিয়েছিল। সেই সময়ে সাইকেল থেকে মোটরচালিত যানবাহনে পরিবর্তনের ক্ষেত্রে Luna-র ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য।

বইটির ‘Lunacy on the Luna’ অধ্যায়ে রয়েছে সংস্থার একটি অভিনব বিপণন উদ্যোগের কাহিনি। ১৯৮২ সালে পাঁচজন কলেজপড়ুয়া যুবককে স্পনসর করেছিল Kinetic। নিজেদের নাম দিয়েছিল ‘Lunatix’। তাঁরা Luna মোপেডে প্রায় ৯০ দিনে ১৮,০০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত ঘুরেছিলেন। এই অভিযান শুধু একটি প্রচারমূলক উদ্যোগ ছিল না, বরং Luna-র সক্ষমতা ও নির্ভরযোগ্যতা তুলে ধরারও চেষ্টা ছিল।

kinetics-electric-energy-adil-jal-darukhanawala-book-indian-automobile-history

চারটি Luna-র সঙ্গে Deccan Queen-এর দৌড়

বইটির আরেকটি আকর্ষণীয় অধ্যায়ের নাম ‘Beating the Queen – Kinetic Luna takes on the Indian Railways’। এখানে উঠে এসেছে ১৯৯০ সালের একটি ব্যতিক্রমী ঘটনার কথা। চারটি Luna এবং সেগুলির চালকেরা মুম্বই-পুনে রুটের Deccan Queen এক্সপ্রেস ট্রেনকে টক্কর দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন।

এই ঘটনা Kinetic-এর বিপণন কৌশলের অভিনব দিকটি তুলে ধরে। সাধারণ একটি মোপেডকে ঘিরেও কীভাবে এমন প্রচার তৈরি করা যায়, যাতে মানুষের আগ্রহ বাড়ে, তার উদাহরণ এই অধ্যায়। লেখক ঘটনাটিকে শুধু বিজ্ঞাপনের গল্প হিসেবে দেখাননি, বরং সংস্থার উদ্ভাবনী মানসিকতার অংশ হিসেবেও তুলে ধরেছেন।

বিশ্বের দ্রুততম Luna-র গল্প

Kinetic-এর সাফল্যের পিছনে শুধু বিপণন ছিল না। প্রতিযোগিতার মাধ্যমে নিজেদের পণ্যকে প্রমাণ করার চেষ্টাও ছিল। বইটির ‘Satish Apte and the World’s Fastest Luna’ অধ্যায়ে সেই দিকটি উঠে এসেছে।

এখানে পুনের একটি ছোট দলের কথা বলা হয়েছে, যারা নিজেদের উদ্ভাবনী চিন্তাভাবনা এবং দৃঢ় সংকল্পের সাহায্যে হোসুরের প্রতিষ্ঠিত নির্মাতার ফ্যাক্টরি টিমকে পরাস্ত করেছিল বলে বইটিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এই কাহিনি দেখায়, সীমিত পরিকাঠামো থাকলেও প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও সৃজনশীলতার মাধ্যমে কীভাবে বড় প্রতিযোগীর বিরুদ্ধে লড়াই করা সম্ভব।

Honda-র সঙ্গে অংশীদারিত্ব ও গিয়ারলেস স্কুটারের জনপ্রিয়তা

Kinetic Engineering-এর ইতিহাসে Honda-র সঙ্গে অংশীদারিত্ব ছিল গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়। Kinetic Honda DX স্কুটারের মাধ্যমে ভারতীয় বাজারে গিয়ারলেস স্কুটারের জনপ্রিয়তা বাড়ানোর ক্ষেত্রে সংস্থাটি উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেছিল।

বইটিতে ‘Kinetic & Honda – Unfulfilled Promise’ অধ্যায়ে এই অংশীদারিত্বের উত্থান ও সীমাবদ্ধতা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। অংশীদারিত্ব দীর্ঘস্থায়ী না হলেও, Kinetic-এর পণ্য নির্ভরযোগ্যতা ও সাশ্রয়ী দামের জন্য পরিচিতি তৈরি করতে পেরেছিল।

লেখক এই পর্বের মাধ্যমে দেখিয়েছেন, কীভাবে প্রযুক্তিগত সহযোগিতা একটি সংস্থার বাজারে অবস্থান শক্তিশালী করতে পারে। একই সঙ্গে অংশীদারিত্বের সীমাবদ্ধতা ও অপূর্ণ সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরা হয়েছে।

হাইব্রিড স্কুটার ও ছোট গাড়ির অভিনব পরিকল্পনা

বইটির আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হল Kinetic-এর উদ্ভাবনী চিন্তাভাবনা। সংস্থাটি একসময় হাইব্রিড স্কুটার এবং ছোট শহুরে গাড়ির ধারণা নিয়ে কাজ করেছিল। যদিও এই প্রকল্পগুলি শেষ পর্যন্ত উৎপাদনের পর্যায়ে পৌঁছয়নি, তবুও সেগুলি ছিল সময়ের তুলনায় ব্যতিক্রমী উদ্যোগ।

ভারতের গাড়ির বাজার যখন ধীরে ধীরে আধুনিক প্রযুক্তির দিকে এগোচ্ছিল, তখন Kinetic কিছু ক্ষেত্রে বড় পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করেছিল। বইটিতে সেই ধারণা ও প্রকল্পগুলিকে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট অধ্যায়গুলির সঙ্গে রয়েছে প্রচুর ছবি ও চিত্রায়ণ, যা পাঠককে সংস্থার প্রযুক্তিগত ভাবনার জগতে নিয়ে যায়।

একবিংশ শতকে চ্যালেঞ্জ, এবার লক্ষ্য ইলেকট্রিক স্কুটার

বিংশ শতাব্দীতে Kinetic-এর ব্যবসা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছিল। কিন্তু একবিংশ শতাব্দীতে সংস্থার যাত্রা ততটা মসৃণ হয়নি। প্রচলিত পেট্রলচালিত স্কুটারের উৎপাদন কমে আসা এবং Motoroyale-এর সুপারবাইক ব্যবসা প্রত্যাশিত সাফল্য না পাওয়ার মতো বিষয় সংস্থার গতিকে প্রভাবিত করেছে।

তবে বইটির শেষের দিকের আলোচনা বর্তমান সময়ের Kinetic-কে ঘিরে। নতুন করে DX ইলেকট্রিক মডেলের মাধ্যমে সংস্থাটি বাজারে নিজেদের পুরনো পরিচিতি ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে। লক্ষ্য, ইলেকট্রিক দুই চাকার গাড়ির বাজারে প্রতিষ্ঠিত প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে সরাসরি প্রতিযোগিতা করা।

এই প্রসঙ্গে বইটি শুধু অতীতের সাফল্য স্মরণ করিয়ে দেয় না, ভবিষ্যতের সম্ভাবনার দিকেও নজর দেয়। Kinetic-এর পুরনো অভিজ্ঞতা নতুন বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজারে কতটা কাজে লাগবে, তা সময়ই বলবে।

কারা পড়বেন ‘Kinetic’s Electric Energy’?

আদিল জাল দারুখানাওয়ালা ভারতের অটোমোবাইল শিল্পের ইতিহাস নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন। তাঁর এই বইয়ে তথ্যের বিস্তারিত উপস্থাপনার পাশাপাশি রয়েছে প্রচুর ছবি ও ঐতিহাসিক বিবরণ। ফলে এটি শুধু গাড়িপ্রেমীদের জন্য নয়, ভারতের শিল্প ও ব্যবসার ইতিহাসে আগ্রহী পাঠকদের কাছেও আকর্ষণীয় হতে পারে।

বিশেষ করে যারা Luna, Kinetic Honda DX এবং দেশের দুই চাকার গাড়ির বাজারের বিবর্তন সম্পর্কে জানতে চান, তাঁদের জন্য বইটি গুরুত্বপূর্ণ। অতীতের বিপণন কৌশল, প্রযুক্তিগত পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং ব্যবসায়িক সিদ্ধান্তের বিবরণ বইটিকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।

‘Kinetic’s Electric Energy’ একটি গাড়ি নির্মাতা সংস্থার উত্থান, পরিবর্তন ও নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টার দলিল। ভারতের অটোমোবাইল ইতিহাসে Kinetic Engineering-এর অবদান বুঝতে চাইলে আদিল জাল দারুখানাওয়ালার এই বইটি সংগ্রহে রাখার মতো।

Essential Business Intelligence, Sharp Market Insights, Practical Personal Finance Advice, Daily Fuel, Gold and Silver Prices and Latest Stories – On Kolkata24x7 Business

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *