দিল্লিতে ধৃত ৩০০০ জনকে ছাড়ল পুলিশ, বাদ শুধু চার জন, ‘গণ-ডিটেনশন’ নিয়ে উদ্বেগ রাষ্ট্রপুঞ্জের
ককরোচ জনতা পার্টির ডাকা সমাবেশে দিল্লি পুলিশের অনুমতি ছিল না। দিনের শুরুটা থেকেই জমায়াতের বিরুদ্ধে চলে ধরপাকড়। দিনভর মোট ৩০০০ জনকে আটক করা হয়েছিল। সেই তালিকায় ছিলেন একাধিক রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও চার জন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। রাত এগারোটা পর্যন্ত পাওয়া খবর অনুযায়ী, যাঁদেরকে আটক করা হয়েছিল, তাঁদের সকলকেই প্রায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে ককরোচ জনতা পার্টির শীর্ষ নেতৃত্ব অভিজিৎ দীপকে, আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাস এবং ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিকে ছাড়া হয়নি বলে জানা গিয়েছে।
ককরোচ জনতা পার্টির নেতা অভিজিৎ দীপকে, আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাস এ দিন সকালেই বেঙ্গালুরু থেকে দিল্লি পৌঁছন। তবে ফ্লাইট থেকে নামার আগেই তাঁদের তিনজনকে আটক করা হয়। অন্য দিকে, গুরুগ্রাম থেকে আটক করা হয়েছিল ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিকেও। বেলা যত গড়াতে থাকে, একের পর এক রাজনৈতিক নেতৃত্বকেও আটক করা হয়। সেই তালিকায় ছিলেন কেরালার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন, পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার ও দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল।
#India: We are concerned by reports of mass detentions of demonstrators, protest leaders, members of civil society organisations, lawyers and journalists, before and during today’s large-scale demonstrations in Delhi.
We call on the authorities to ensure that the right to peaceful assembly is fully respected and fulfilled.
https://t.co/tqrQyZoXBJ
— UN Human Rights (@UNHumanRights) October 10, 2026
দিল্লির নানা প্রান্ত থেকে মোট ৩০০০ জনকে আটক করা হয় বলে খবর। ‘গণ-ডিটেনশন’ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছে রাষ্ট্রপুঞ্জ। রাষ্ট্রপুঞ্জ (হিউম্যান রাইটস)-এর এক্স হ্যান্ডল থেকে বলা হয়, ‘দিল্লিতে এ দিন বিক্ষোভ চলাকালীন একাধিক বিক্ষোভকারী, আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ, সামাজিক সংগঠনের সদস্য, আইনজীবী এবং সাংবাদিকদের গণহারে আটকের খবরে আমরা উদ্বিগ্ন। আমরা কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাই যেন শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকারের প্রতি পূর্ণ সম্মান প্রদর্শন নিশ্চিত করা হয়।’
এর পরিপ্রেক্ষিতে জেনেভার ভারতীয় রাষ্ট্রদূত-এর এক্স হ্যান্ডলে বলা হয়েছে, ‘শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার আমাদের সংবিধানে নিশ্চিত করা হয়েছে এবং শক্তিশালী প্রশাসন, স্বাধীন বিচার বিভাগ ও মুক্ত গণমাধ্যমের দ্বারা তা সুরক্ষিত।…সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আইন মেনেই কাজ করে এবং যে কোনও অভিযোগের প্রতিকার পাওয়ার জন্য আমাদের আদালত সবার জন্য উন্মুক্ত। তাই ওএইচসিএইচআর-এর (OHCHR ) ( রাষ্ট্রপুঞ্জের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের ) উদ্বেগ ভিত্তিহীন এবং তা ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত হস্তক্ষেপের সামিল। নিরপেক্ষতা ও পক্ষপাতহীনতার যে দায়িত্ব ওএইচসিএইচআর-এর রয়েছে, তার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিশ্বের অন্যান্য জায়গায় চলা বিক্ষোভের বিষয়টিতেও তাদের সমান মনোযোগ দেওয়া উচিত।’
রবিবারও যন্তর মন্তরে সমাবেশের ডাক দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি। সিজেপির তরফে ঘোষণা করা হয়েছে, যতদিন না মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে সরানো হচ্ছে, প্রতিদিন যন্তর মন্তরের দিকে মিছিল হবে। দিল্লি জুড়ে রবিবারেও কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হবে বলে জানিয়েছে দিল্লি পুলিশ। ইন্ডি জোটের তরফে সোমবার মহামিছিলের ডাক দেওয়া হয়েছে।