পাঁচ মাসে ৬০০ খুন! সরব কালীঘাট শিবির
এই সময়: মমতা তৃণমূলের প্রাক্তন সাংসদ সাকেত গোখলের আরটিআই–এর যে উত্তর রাজ্য সরকার দিয়েছে, তা–ই এখন হাতিয়ার কালীঘাটের। বিজেপি রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পরে গত পাঁচ মাসে অপরাধের তথ্য চেয়ে আরটিআই করেছিলেন সাকেত। ২৮ সেপ্টেম্বর রাজ্য সরকারের ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরোর তথ্য হাতে আসতেই শুভেন্দু অধিকারী সরকারের সমালোচনায় মুখর হয়েছে মমতা তৃণমূল।
মমতা তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বুধবার বিধানসভার গেটে বলেন, ‘বিজেপি সরকারের আমলে পশ্চিমবঙ্গে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে ২,৪৫৪টি। খুনের ঘটনা ৬০০। এর মধ্যে মে মাসে ১২৫, জুনে ১৩৪, জুলাইয়ে ১৩৩, অগস্টে ১১১ এবং সেপ্টেম্বরে খুনের অভিযোগ নথিভুক্ত হয়েছে ৯৭টি। খুনের চেষ্টার ঘটনা ১৩,১১৪টি এবং গুরুতর জখম করে দেওয়া হয়েছে ৩২,৩৪১ জনকে।’ এই পরিসংখ্যান তুলে ধরে কুণাল আলোচনার জন্য বিধানসভার জরুরি অধিবেশন ডাকার দাবি করেছেন। একই সঙ্গে ধর্ষণ, খুনের এই পরিসংখ্যান নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী তথা পুলিশমন্ত্রীর বিবৃতি দাবি করেছেন। রাজ্যপালের বিবৃতিও দাবি করছে কালীঘাট।
যদিও মমতা তৃণমূলের এই ব্যাখ্যা বিজেপি উড়িয়ে দিয়েছে। বিজেপির প্রধান মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার বলেন, ‘ঘটনাগুলির তারিখ দেখুন। তৃণমূলের সময়ে কোনও অভিযোগ নথিভুক্তই হতো না। এনসিআরবি–তে কোনও তথ্য পাঠানো হতো না। সুপ্রিম কোর্ট বলেছে ধর্ষণের বহু বছর পরেও এফআইআর করা যায়। অতীতে কারও উপরে অত্যাচার হলে তিনি এখন এফআইআরের সুযোগ পাচ্ছেন। তাই এই সব ঘটনাই বিজেপি আমলে ঘটেছে, এটা ডাহা মিথ্যে।’ তৃণমূল জমানার ঘটনার যে অভিযোগ দায়ের এখন হচ্ছে, তা মেনে নিয়েছেন মমতা তৃণমূলের আইনজীবী অর্ক নাগও। তিনি বলেন, ‘৯ মে থেকে দেখা যাচ্ছে ২০২১, ২০১৯, ২০১৮, ২০১৬–র ঘটনায় একাধিক অভিযোগ দায়ের হচ্ছে। যে দিন অভিযোগ করা হচ্ছে সেই দিনই এফআইআর হয়ে যাচ্ছে, সেই মুহূর্তেই হচ্ছে গ্রেপ্তার। যদিও যাঁরা গ্রেপ্তার হচ্ছেন, তাঁরা কিছু দিন পরেই হাইকোর্ট থেকে জামিন পাচ্ছেন।’
সাকেতের আরটিআই–এর তথ্য নিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এক্স হ্যান্ডলে লিখেছেন, ‘পশ্চিমবঙ্গে ডাবল ইঞ্জিন বিপর্যয় হয়েছে। প্রতি দিন ১৬টি ধর্ষণের কেস, খুনের ৪টি কেস, খুনের চেষ্টার ৮৭টি কেস, জখমের ২১৬টি কেস হয়েছে।’ ডায়মন্ড হারবারের সাংসদকে পাল্টা জবাব দিয়েছেন দেবজিৎ। তিনি বলেন, ‘তৃণমূল জমানায় মহিলাদের সম্মানের দাম ঠিক করেছিলেন মমতা। পার্ক স্ট্রিট ধর্ষণের সময়ে খদ্দেরের সঙ্গে ঝামেলার কথা বলা হয়েছিল। ধর্ষণের ঘটনায় বলা হতো ভালোবাসার সম্পর্ক ছিল। ওঁর পিসি বলেছিলেন রাত আটটার পরে মহিলারা বেরোবেন না। আর তাঁর ভাইপো এখন এই সব কথা বলবেন?’
সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তী বলেন, ‘এই আরটিআই–এর উত্তরে আগের জমানার গোপন থাকা তথ্য যোগ করা হয়েছে কি না জানি না। কিন্তু এই তথ্য ভয়াবহ। তৃণমূল এবং বিজেপির জমানায় আইনের শাসন নেই তার প্রমাণ।’ দেবজিৎ বলছেন, ‘তৃণমূল আমলে সিপিএম অথবা কংগ্রেসের যাঁরা অত্যাচারিত হয়েছিলেন তাঁরা এখন অভিযোগ নথিভুক্ত করার সুযোগ পেয়েছেন।’