বিচার ব্যবস্থা থেকে সেনা বাহিনীকে আক্রমণ! রাহুলকে গদ্দার বলে সরব বিজেপি
নয়াদিল্লি: বিজেপি ইন্ডি জোটের সাংসদদের নির্বাচন কমিশনে (Rahul Gandhi)প্রতিবাদ মিছিলকে তীব্র সমালোচনা করেছে। দলের নেতারা বলছেন, রাহুল গান্ধী বিদেশে গিয়ে ভারতের নিজস্ব প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে অভিযোগ…
নয়াদিল্লি: বিজেপি ইন্ডি জোটের সাংসদদের নির্বাচন কমিশনে (Rahul Gandhi)প্রতিবাদ মিছিলকে তীব্র সমালোচনা করেছে। দলের নেতারা বলছেন, রাহুল গান্ধী বিদেশে গিয়ে ভারতের নিজস্ব প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন। এতে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয়। শুধু তাই নয় রাহুল গান্ধীকে দেশের শত্রু, গদ্দার বলেও কটাক্ষ করেছে বিজেপি।
মঙ্গলবার দিল্লিতে সংসদ থেকে নির্বাচন কমিশনের সদর দফতরের দিকে ইন্ডি জোটের সাংসদরা মিছিল করেছিলেন। তারা বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর নিয়ে অভিযোগ তুলে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করেন। পুলিশ বাধা দিলে রাহুল গান্ধীসহ অনেকে ধরনায় বসেন এবং পরে আটক হন। এই ঘটনার জবাবে বিজেপি কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।
আরও দেখুনঃ
দলের জাতীয় মুখপাত্র সুধাংশু ত্রিবেদী প্রশ্ন তুলেছেন, কংগ্রেস এখন পর্যন্ত কতগুলো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছে। এক ডজন, অর্ধ ডজন, নাকি দুই ডজন? (Rahul Gandhi)তিনি বলেন, ভারতীয় সেনাবাহিনী থেকে শুরু করে বিমানবাহিনী, দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, এলআইসি, এইচএএল, এসবিআই, সেবি, টিকা, বিচারব্যবস্থা এমনকি ভারতীয় গণমাধ্যম কংগ্রেস বিশেষ করে রাহুল গান্ধী কতগুলো প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্য করেছেন, সে নিয়ে কুইজ প্রতিযোগিতা হওয়া উচিত।
বিজেপির অভিযোগ, রাহুল গান্ধী বিদেশ সফরে গিয়ে ভারতের নিজস্ব প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন। দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোকে প্রশ্নবিদ্ধ করেন। এতে আন্তর্জাতিক মহলে ভারতের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দলের নেতারা বলছেন, নির্বাচনে পরাজয়ের হতাশা থেকেই এই ধরনের প্রতিবাদ। ভোট চুরির অভিযোগকে তারা ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু বলেছেন, কংগ্রেস বিশেষ করে রাহুল গান্ধী ও তাঁর সহযোগীরা নির্বাচন কমিশন ও সুপ্রিম কোর্টের মতো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রতিদিন নাটক সাজাচ্ছেন। ২০১৪ সাল থেকে এই নাটক চলছে। কতদিন চলবে? তিনি প্রশ্ন করেন, নির্বাচন কমিশন, সুপ্রিম কোর্ট ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আক্রমণ করে নাটক সাজানোর কী প্রয়োজন? এতে গণতন্ত্র মজবুত হবে না, কংগ্রেসের জনসমর্থনও বাড়বে না।
বিজেপির অন্য নেতারাও একই সুরে কথা বলেছেন। (Rahul Gandhi)তাঁরা বলছেন, রাস্তায় অরাজকতা সৃষ্টি করে রাজনৈতিক ফায়দা তোলার চেষ্টা চলছে। নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যেই জানিয়েছে, কোনো দল সাক্ষাৎ চেয়ে আবেদন করেনি। তা সত্ত্বেও মিছিল করে প্রতিবাদ দেখানো হয়েছে। দলের মতে, এতে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের প্রতি সম্মানবোধের অভাব প্রকাশ পায়।
সুধাংশু ত্রিবেদী আরও বলেছেন, রাহুল গান্ধী কামচোর। ভোট চুরির অভিযোগ তুলে আসলে নিজের দলের পরাজয় ঢাকতে চাইছেন। কোনো নির্বাচনী রাজ্যে এক সপ্তাহ বা দুই সপ্তাহ ক্যাম্প করে প্রচার করেননি। তার বদলে প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিশানা করে রাজনীতি চালাচ্ছেন।
বিজেপির এই সমালোচনায় জোর দিয়ে বলা হয়েছে, কংগ্রেস ক্ষমতায় থাকাকালীন যেসব প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছিল, এখন সেগুলোকেই প্রশ্নবিদ্ধ করছে। সেনাবাহিনী, প্রতিরক্ষা, অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান, বিচারব্যবস্থা সবকিছুকেই কোনো না কোনো সময় লক্ষ্য করা হয়েছে। রাহুল গান্ধী বিদেশে গিয়েও এই ধরনের মন্তব্য করেন বলে দলের অভিযোগ।
ইন্ডিয়া জোটের প্রতিবাদ মিছিলকে বিজেপি দৈনন্দিন নাটক ও রাস্তার অরাজকতা বলে বর্ণনা করেছে। দলের নেতারা মনে করেন, এতে গণতন্ত্রের কোনো উপকার হবে না। (Rahul Gandhi)বরং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি জনগণের আস্থা নষ্ট করার চেষ্টা চলছে। নির্বাচন কমিশন নিজেই বলেছে, এসআইআর সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত সর্বসম্মতিক্রমে নেওয়া হয়েছে। অভিযোগগুলো অস্বীকার করা হয়েছে।
রাজনৈতিক মহলে এই বিতর্ক চলছে। বিজেপি বলছে, পরাজয়ের হতাশা থেকেই কংগ্রেস ও জোটের নেতারা প্রতিষ্ঠানগুলোকে আক্রমণ করছেন। রাহুল গান্ধীর বিদেশ সফর ও সেখানে করা মন্তব্য নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। দলের মতে, দেশের প্রতিষ্ঠানগুলোকে সম্মান জানানো উচিত। অভিযোগ তোলার আগে নিজের দলের কাজকর্ম দেখা দরকার।
এই সমালোচনায় বিজেপি স্পষ্ট করেছে, ভারতের সেনা, বিমানবাহিনী, প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, বীমা ও ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান, নিয়ন্ত্রক সংস্থা, টিকা কর্মসূচি, আদালত ও গণমাধ্যম সবকিছুকেই কোনো না কোনোভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে। এখন নির্বাচন কমিশনও সেই তালিকায় যুক্ত হয়েছে। কংগ্রেসের এই ধারাবাহিক আক্রমণ নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিজেপি বলেছে, এমন কুইজ প্রতিযোগিতা হলে উত্তর মিলবে কতগুলো প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্য করা হয়েছে।