'ডিম থেরাপি'র মুখে পড়তেই হলো নেতাদের
এই সময়, আলিপুরদুয়ার: সোমবার বৈঠক না হওয়ায় বেঁচে গিয়েছিলেন। কিন্তু মঙ্গলবার পারলেন না। আলিপুরদুয়ার পুরসভার কংগ্রেস কাউন্সিলার শান্তনু দেবনাথ ও তৃণমূলের তিন কাউন্সিলারকে ডিম থেরাপি দেওয়া হলো। এদিন আলিপুরদুয়ার জেলা প্রেস ক্লাব চত্বরে সাংবাদিক বৈঠক করতে এসে ছোড়া ডিমের মুখোমুখি হন তাঁরা।
আলিপুরদুয়ার পুরসভা নিয়ে জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চের রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার বোর্ড অফ কাউন্সিলার্সের মিটিং ডাকেন শান্তনু-সহ মমতা তৃণমূলের তিন কাউন্সিলার। কিন্তু সে খবর পেতেই পুরসভার বাইরে ডিম নিয়ে অপেক্ষা করতে থাকেন বিজেপির কর্মী-সমর্থকরা। তারপর আর কাউন্সিলাররা পুরসভায় আসার ঝুঁকি নেননি। ফলে কোনও বিপত্তি ঘটেনি। এদিন বোর্ড গঠন নিয়ে সাংবাদিক বৈঠক ডাকেন কংগ্রেস ও মমতা তৃণমূলের কাউন্সিলাররা।
আলিপুরদুয়ার জেলা প্রেস ক্লাবে সাংবাদিক বৈঠক করে যখন তাঁরা দোতলা থেকে নীচে নামছিলেন তখন বেশ কিছু মহিলা ও যুবক তাঁদের লক্ষ্য করে ডিম ছোড়েন। ডিম লাগে কাউন্সিলার কংগ্রেসের শান্তনু দেবনাথ ও তৃণমূল কাউন্সিলার দীবাকর পালের গায়ে। শুরু হয় উত্তেজনা। সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে গালিগালাজ করা হয়। এই ঘটনার পর আলিপুরদুয়ার থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে।
শান্তনু বলেন, ‘আলিপুরদুয়ার পুরসভায় নতুন করে আমরা বোর্ড গঠন করি এটা চায় না বিজেপি। তাই ডিম নিয়ে এসে হামলা চালাল। আমরা ১৪ জন কাউন্সিলরের সাক্ষর করা চিঠি জমা দিয়েছি। আগামী ৯ অক্টোবর বোর্ড মিটিং হবে। তারপরই চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচন করা হবে। বিজেপি যতই চেষ্টা করুক, ডিম কিংবা পাথর বৃষ্টি করুক, আমরা কিছুতেই হাল ছাড়ছি না।
আদালতের রায় আমাদের সঙ্গে আছে।’ তবে বিজেপির টাউন মণ্ডল সভাপতি ইন্দ্রজিৎ রক্ষিত বলেন, ‘জেলা প্রেস ক্লাবের ঘটনার সঙ্গে বিজেপির কোনও সংযোগ নেই। যা ঘটেছে তার পুরটাই জনতার ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ।’ আলিপুরদুয়ার প্রেস ক্লাবের সম্পাদক অম্লানজ্যোতি ঘোষ বলেন, ‘প্রেস ক্লাবে দুর্বৃত্তরা ডিম থেরাপি করছে। সাংবাদিকদের গালিগালাজ করেছে। বিষয়টি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে জানানো হবে।’