'ছল ছল নয়নে' রাজনৈতিক অবসর ঘোষণা হুমায়ূনের - 24 Ghanta Bangla News
Home

‘ছল ছল নয়নে’ রাজনৈতিক অবসর ঘোষণা হুমায়ূনের

Spread the love

মুর্শিদাবাদ: রেজিনগর উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষ হতেই রাজনীতি (Humayun Kabir)থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা করলেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টি (AJUP)-র প্রধান হুমায়ুন কবীর। বুধবার, ৭ অক্টোবর, সংবাদমাধ্যমের…

মুর্শিদাবাদ: রেজিনগর উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষ হতেই রাজনীতি (Humayun Kabir)থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা করলেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টি (AJUP)-র প্রধান হুমায়ুন কবীর। বুধবার, ৭ অক্টোবর, সংবাদমাধ্যমের সামনে কার্যত আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন তিনি।

কান্নাভেজা চোখে জানান, রাজনীতি থেকে এবার স্বেচ্ছাবসর নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আগামী দিনে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি সমস্ত কিছু থেকেই নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার ইঙ্গিতও দিয়েছেন তিনি। তাঁর এই ঘোষণাকে ঘিরে মুর্শিদাবাদ তথা রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।

আরও দেখুনঃ নাম পরিবর্তন হবেই, বিধানসভায় বিল এনেই ওয়েস্ট বেঙ্গল হবে পশ্চিমবঙ্গ! ঘোষণা শুভেন্দুর

রেজিনগর উপনির্বাচনের আগের কয়েক দিন ধরেই হুমায়ুন কবীরকে ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। ভোটের দিন অর্থাৎ ৬ অক্টোবর পুলিশের সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়েন তিনি। (Humayun Kabir)ভোটগ্রহণ চলাকালীন তাঁকে আটক করে পুলিশ। পরে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের বিরুদ্ধে সরব হন AJUP প্রধান। তাঁর অভিযোগ ছিল, পুলিশ ও প্রশাসন তাঁর দল এবং কর্মীদের সঙ্গে একতরফা আচরণ করছে। এর আগেও ভোটের প্রচার থেকে সরে দাঁড়ানোর সময় তিনি পুলিশি হয়রানির অভিযোগ তুলেছিলেন।

ভোটের দিনও পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। নিজের ভোট দেওয়ার পর দলের কার্যালয়ের দিকে যাওয়ার সময় পুলিশ তাঁকে আটক করে। পুলিশ ও হুমায়ুনের মধ্যে তর্কাতর্কির পরিস্থিতি তৈরি হয়। পরে তাঁকে সেখান থেকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। (Humayun Kabir)এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রেজিনগরের ভোটের পরিবেশ নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও বেড়ে যায়। বিরোধীদের একাংশ ভোটে অনিয়ম এবং পুলিশি হস্তক্ষেপের অভিযোগ তোলে। যদিও বিজেপি ভোটপ্রক্রিয়া নিয়ে ওঠা অভিযোগ খারিজ করেছে।

এরই মধ্যে বুধবার হুমায়ুন কবীরের রাজনীতি থেকে অবসরের ঘোষণা নতুন মাত্রা যোগ করেছে। সংবাদমাধ্যমের সামনে তিনি জানান, মানুষের কাছে তাঁর আর কোনও দাবি নেই। একইসঙ্গে নওদা ও রেজিনগরের মানুষের কাছে ক্ষমাও চান তিনি। এতদিনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য মানুষের কাছে ক্ষমা চাওয়ার সময় তাঁকে যথেষ্ট আবেগপ্রবণ দেখায়। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়ে ওঠে, সাম্প্রতিক ঘটনাবলির অভিঘাত তাঁর সিদ্ধান্তে বড় ভূমিকা নিয়েছে।

শুধু অবসরের ঘোষণাই নয়, এদিন রেজিনগর উপনির্বাচনের ফল নিয়েও বড় দাবি করেন হুমায়ুন। তাঁর বক্তব্য, বিজেপি এই নির্বাচনে বড় ব্যবধানে জয় পেতে পারে। যদিও ভোটের ফল এখনও প্রকাশিত হয়নি। রেজিনগরে ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে এবং গণনা হওয়ার কথা ৯ অক্টোবর। ফলে তাঁর এই দাবি শেষ পর্যন্ত কতটা বাস্তব হয়, সেদিকেও নজর থাকবে রাজনৈতিক মহলের।

সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্যটি আসে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে নিয়ে। হুমায়ুন কবীর স্পষ্ট ভাষায় জানান, যতদিন শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে থাকবেন, ততদিন তিনি আর বিধানসভায় পা রাখবেন না। এই মন্তব্য ঘিরেও স্বাভাবিকভাবেই জোর চর্চা শুরু হয়েছে। (Humayun Kabir)কারণ রেজিনগর উপনির্বাচনের আগে হুমায়ুনের সঙ্গে রাজ্য সরকারের সম্পর্ক নিয়ে একাধিকবার রাজনৈতিক টানাপোড়েন দেখা গিয়েছিল। এমনকি রেজিনগরের উন্নয়ন নিয়েও শুভেন্দুর সঙ্গে তাঁর প্রকাশ্য রাজনৈতিক বাকযুদ্ধ হয়েছে।

রেজিনগর উপনির্বাচনকে ঘিরে হুমায়ুন কবীরের রাজনৈতিক অবস্থান অবশ্য শুরু থেকেই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তিনি রেজিনগর এবং নওদা দুই আসনেই জয়ী হন। পরে একটি আসন ছেড়ে দেওয়ায় রেজিনগরে উপনির্বাচনের প্রয়োজন হয়। তাঁর দল AJUP সেখানে তাঁর ছেলে গোলাম নবী আজাদকে প্রার্থী করে। ফলে ভোটের ময়দানে সরাসরি প্রার্থী না হলেও হুমায়ুনই ছিলেন প্রচারের অন্যতম প্রধান মুখ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *