‘আমরা ঘরে ঢুকে মেরেছি, আগের সরকার…’, কেন দেশে সন্ত্রাসের বাড়বাড়ন্ত? ব্যাখ্যা প্রধানমন্ত্রীর
প্রশাসক হিসেবে জনসেবায় ২৫ বছর পূরণ নরেন্দ্র মোদীর। এমন ঐতিহাসিক মুহূর্তে দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী স্টেডিয়াম আয়োজিত অনুষ্ঠান থেকে নিজের রাজনৈতিক জীবনের নানা দিক তুলে ধরার পাশাপাশি সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় গত আড়াই দশকে দেশের পরিবর্তনের কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রী। নাম না করে পাকিস্তানে ঢুকে সন্ত্রাসকে নাশ করার লক্ষ্যে ‘অপারেশন সিঁদুর’ থেকে সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের কথা মনে করিয়ে দিলেন তিনি। বলেন, ‘হামনে ঘর মে ঘুসকে মারা।’ তাঁর ভাষণে, উঠে এল ৩৭০ ধারা প্রত্যাহার থেকে মাওবাদ মুক্ত ভারতের কথা।
বুধবার মোদীর বক্তব্যে বিশেষ ভাবে গুরুত্ব পায় সন্ত্রাসবাদের প্রসঙ্গ। অতীতের সরকারের সঙ্গে বর্তমান সরকারের নীতির তুলনা টেনে তিনি দাবি করেন, একসময় দেশে ধারাবাহিক বিস্ফোরণ ও জঙ্গি হামলা কার্যত নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে উঠেছিল। প্রধানমন্ত্রীর কথায়, ‘একটা সময় ছিল, যখন দেশে ধারাবাহিক বিস্ফোরণ সাধারণ ঘটনা হয়ে গিয়েছিল।’ ২০০৮ সালের দিল্লি বিস্ফোরণ এবং তার পরের ২৬/১১ মুম্বই হামলার কথাও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।
সন্ত্রাসে ‘জ়িরো টলারেন্স’
সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় মোদী সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এখন ভারত সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে জ়িরো-টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে। একটা সময়ে জঙ্গিরা নির্ভয়ে দেশে ঘুরে বেড়াত। একের পর এক সন্ত্রাসবাদী হামলা হলেও কোনও সুরাহা ছিল না। মানুষ ধরেই নিয়েছিল এর সমাধান হবে না। এটাই ভবিতব্য। তবে এখন সময় বদলে গিয়েছে। সন্ত্রাসবাদীদের কোমর ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এখন এক শক্তিশালী ভারত দেখছে বিশ্ব। যেখানে আমরা ঘরে ঢুকে মেরেছি। নতুন ভারতে সন্ত্রাসের কোনও জায়গা নেই।’ তাঁর দাবি, বালাকোট এয়ারস্ট্রাইক থেকে শুরু করে অপারেশন সিঁদুর—প্রতিটি পদক্ষেপের মাধ্যমে ভারত স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে দেশের উপর সন্ত্রাসী হামলা হলে তার উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে।
এর আগে লোকসভাতেও একই প্রসঙ্গে কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন পূর্ববর্তী সরকারগুলিকে নিশানা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ ছিল, ‘দুর্বল কংগ্রেস সরকারের কারণে দেশকে এত মানুষের প্রাণ হারাতে হয়েছে।’ তাঁর দাবি, ২০০৪ থেকে ২০১৪ সালের তুলনায় পরবর্তী সময়ে জঙ্গি হামলার ঘটনা উল্লেখযোগ্য ভাবে কমেছে। পাশাপাশি মাওবাদী, নকশাল মুক্ত ভারতের কথাও উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি, ‘এখন নকশালদেরও কোমর ভেঙে গিয়েছে।’
তবে ২৫ বছরের রাজনৈতিক সফরকে শুধুমাত্র নিজের সাফল্য হিসেবে দেখেন না বলে জানালেন মোদী। তিনি বলেন, এই দীর্ঘ যাত্রার পিছনে রয়েছে সাধারণ মানুষের আস্থা ও সমর্থন। তাঁর কথায়, ‘আজ আমি ২৫ বছরের নিরবচ্ছিন্ন জনসেবার কাজ সম্পূর্ণ করেছি। এটি মানুষের নিরন্তর আশীর্বাদ ও সমর্থনের ফল।’ এদিকে, তাঁর ২৫ বছরের প্রশাসনিক যাত্রা উপলক্ষে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভাও একটি প্রস্তাব গ্রহণ করেছে। সেখানে সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলার পাশাপাশি সার্জিক্যাল স্ট্রাইক, বালাকোট এয়ারস্ট্রাইক এবং ২০২৫ সালের অপারেশন সিঁদুরকে জাতীয় নিরাপত্তা নীতির গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।