Vivo Vision Discovery Edition ভারতে প্রদর্শিত, ৮K ডিসপ্লে ও ১২০ ফুট স্ক্রিন
ভারতে নিজেদের নতুন মিক্সড রিয়েলিটি প্রযুক্তির পরিচয় করাল ভিভো। মঙ্গলবার আয়োজিত Vivo NEXT 2026 ইভেন্টে সংস্থা তাদের Vivo Vision Discovery Edition মিক্সড রিয়েলিটি হেডসেট প্রদর্শন…
ভারতে নিজেদের নতুন মিক্সড রিয়েলিটি প্রযুক্তির পরিচয় করাল ভিভো। মঙ্গলবার আয়োজিত Vivo NEXT 2026 ইভেন্টে সংস্থা তাদের Vivo Vision Discovery Edition মিক্সড রিয়েলিটি হেডসেট প্রদর্শন করেছে। এটি মূলত একটি স্পেশাল কম্পিউটিং ডিভাইস, যেখানে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি এবং অগমেন্টেড রিয়েলিটির অভিজ্ঞতা একসঙ্গে পাওয়া যাবে।
হেডসেটটিতে রয়েছে ডুয়াল মাইক্রো-OLED ডিসপ্লে, আই-ট্র্যাকিং এবং হাত ও আঙুলের জেসচার কন্ট্রোল। ডিভাইসটি চালানোর জন্য ব্যবহার করা হয়েছে কোয়ালকমের স্ন্যাপড্রাগন XR2+ জেন ২ প্ল্যাটফর্ম এবং সফটওয়্যার হিসেবে রয়েছে মিক্সড রিয়েলিটির জন্য তৈরি OriginOS Vision।
ভারতে এই মুহূর্তে হেডসেটটির দাম বা বিক্রির তারিখ জানায়নি ভিভো। তবে দেশের বিভিন্ন ভিভো স্টোরে সাধারণ ক্রেতারা এই প্রযুক্তির অভিজ্ঞতা নিতে পারবেন।
৮K রেজোলিউশনের ডুয়াল মাইক্রো-OLED ডিসপ্লে
Vivo Vision Discovery Edition-এর অন্যতম বড় বৈশিষ্ট্য হল এর ডিসপ্লে। এতে রয়েছে ডুয়াল বিনোকুলার মাইক্রো-OLED ডিসপ্লে, যার মোট রেজোলিউশন ৮K। প্রতিটি চোখের জন্য ডিসপ্লের রেজোলিউশন ৩,৮৪০ x ৩,৫৫২ পিক্সেল। ডিসপ্লেগুলি DCI-P3 কালার গ্যামাটের ৯৪ শতাংশ কভার করে এবং Delta E-এর মান ২-এর কম। ফলে ভার্চুয়াল পরিবেশে তুলনামূলকভাবে নির্ভুল রঙ এবং উচ্চমানের ভিজ্যুয়াল পাওয়া যাবে বলে দাবি করছে সংস্থা। হেডসেটটির ওজন ৩৯৮ গ্রাম। এর উচ্চতা ৮৩mm এবং পুরুত্ব ৪০mm। ব্যবহারকারীর আরাম নিশ্চিত করতে এতে প্যাডেড হেডব্যান্ডের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের লাইট-সিল এবং ফোম প্যাডিংয়ের অপশন রয়েছে।
স্ন্যাপড্রাগন XR2+ জেন ২ প্ল্যাটফর্ম
Vivo Vision Discovery Edition-এর ভিতরে রয়েছে কোয়ালকম স্ন্যাপড্রাগন XR2+ জেন ২ প্ল্যাটফর্ম। ভিভোর দাবি, আগের প্রজন্মের প্ল্যাটফর্মের তুলনায় এই চিপসেট ২.৫ গুণ বেশি GPU পারফরম্যান্স এবং আট গুণ বেশি AI পারফরম্যান্স দিতে সক্ষম। মিক্সড রিয়েলিটি ডিভাইসে দ্রুত গ্রাফিক্স প্রসেসিং এবং AI-ভিত্তিক ট্র্যাকিং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই কারণেই হেডসেটের প্রসেসিং ক্ষমতাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে ভিভো।
চোখ ও হাতের ইশারায় নিয়ন্ত্রণ
Vivo Vision Discovery Edition-এ আলাদা কন্ট্রোলারের উপর সম্পূর্ণ নির্ভর করতে হবে না। ব্যবহারকারী চোখের দৃষ্টি এবং হাতের আঙুলের ইশারার মাধ্যমে ভার্চুয়াল অবজেক্টের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন। এর জন্য হেডসেটটিতে একাধিক ক্যামেরা এবং ডেপথ সেন্সর ব্যবহার করা হয়েছে। ভিভোর দাবি অনুযায়ী, আই-ট্র্যাকিং সিস্টেম ১.৫ ডিগ্রি প্রিসিশন দিতে পারে।
অন্যদিকে, হাত ও আঙুলের জেসচার রিকগনিশন সিস্টেমে ২৬ ডিগ্রি অফ ফ্রিডম সাপোর্ট রয়েছে। হেডসেটটির ভার্টিক্যাল ট্র্যাকিং রেঞ্জ ১৭৫ ডিগ্রি। এর ফলে ব্যবহারকারী হাত নাড়ানো বা পিঞ্চ জেসচারের মাধ্যমে ভার্চুয়াল এলিমেন্ট নির্বাচন ও নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন। অর্থাৎ, অনেক ক্ষেত্রেই আলাদা ফিজিক্যাল কন্ট্রোলারের প্রয়োজন হবে না।
OriginOS Vision ও ভার্চুয়াল সিনেমা
Vivo Vision Discovery Edition-এ ব্যবহার করা হয়েছে OriginOS Vision। মিক্সড রিয়েলিটি ডিভাইসের জন্য বিশেষভাবে তৈরি এই প্ল্যাটফর্মে বিনোদন এবং ভার্চুয়াল কনটেন্ট দেখার জন্য একাধিক ফিচার রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম Vivo Vision Cinema Mode। এই মোড ব্যবহার করে ব্যবহারকারী প্রায় ১২০ ফুটের সিনেমা হলের স্ক্রিনের সমতুল্য ভার্চুয়াল ডিসপ্লে তৈরি করতে পারবেন। শুধু সিনেমা দেখাই নয়, লাইভ স্পোর্টস এবং ই-স্পোর্টস দেখা, গেমিং এবং বিভিন্ন ধরনের বিনোদনমূলক অভিজ্ঞতার জন্যও হেডসেটটি ব্যবহার করা যাবে।
ভারতে কোথায় ব্যবহার করা যাবে?
Vivo Vision Discovery Edition এই মুহূর্তে ভারতে সাধারণ ক্রেতাদের জন্য বিক্রির ক্ষেত্রে উপলব্ধ নয়। তবে ভিভো জানিয়েছে, দেশের ১০টি শহরে ১৫টি এক্সপেরিয়েন্স জোনে এই মিক্সড রিয়েলিটি হেডসেট ব্যবহার করে দেখা যাবে। এই শহরগুলির মধ্যে রয়েছে দিল্লি, মুম্বই, বেঙ্গালুরু, কলকাতা, আহমেদাবাদ, কোয়েম্বাটোর, ইন্দোর, দেরাদুন, পাটনা এবং নাগপুর।
ফলে ভিভো এখনই Vivo Vision Discovery Edition-এর দাম বা বাণিজ্যিক বিক্রির ঘোষণা না করলেও, ভারতীয় বাজারে মিক্সড রিয়েলিটি এবং স্পেশাল কম্পিউটিংয়ের ক্ষেত্রে নিজেদের প্রযুক্তি দেখানোর ক্ষেত্রে এই ডিভাইসকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে সামনে আনছে।
Get your daily dose of tech news and insight. Follow us on X, Facebook, WhatsApp and Google News for instant updates. Catch all the action on our YouTube channel.