Mercedes-Maybach S-Class ভারতে ৩.৩৫ কোটি টাকায় লঞ্চ, মাত্র ৩০টি ইউনিট - 24 Ghanta Bangla News
Home

Mercedes-Maybach S-Class ভারতে ৩.৩৫ কোটি টাকায় লঞ্চ, মাত্র ৩০টি ইউনিট

Spread the love

ভারতের বিলাসবহুল গাড়ির বাজারে নতুন সংযোজন করল মার্সিডিজ-বেঞ্জ।  সংস্থা ভারতে ২০২৬ মার্সিডিজ-মেবাখ (Mercedes-Maybach) এস-ক্লাস ফেসলিফ্ট লঞ্চ করেছে। গাড়িটির দাম রাখা হয়েছে ৩.৩৫ কোটি টাকা, এক্স-শোরুম। নতুন মেবাখ এস-ক্লাস ভারতে এস ৫৮০ই প্লাগ-ইন হাইব্রিড সংস্করণে এসেছে। এটি ভারতে প্রথম মেবাখ মডেল, যেখানে প্লাগ-ইন হাইব্রিড পাওয়ারট্রেন ব্যবহার করা হয়েছে।

প্রথম ধাপে এই গাড়ির মাত্র ৩০টি ইউনিট ভারতের জন্য বরাদ্দ করেছে মার্সিডিজ-বেঞ্জ। একই সঙ্গে এটি সংস্থার ভারতে তৃতীয় প্লাগ-ইন হাইব্রিড গাড়ি। এর আগে আপডেটেড এস-ক্লাস এবং এএমজি ই ৫৩ হাইব্রিডের মাধ্যমে এই প্রযুক্তি ভারতীয় বাজারে এসেছে।

দাম এবং সীমিত বরাদ্দ

নতুন মার্সিডিজ-মেবাখ এস ৫৮০ই-এর দাম ৩.৩৫ কোটি টাকা। কয়েক মাস আগে লঞ্চ হওয়া ‘রেগুলার’ এস-ক্লাস ম্যানুফ্যাক্টুর এএমজি লাইন-এর তুলনায় নতুন মেবাখের দাম ৯৭ লাখ টাকা বেশি।

মার্সিডিজ-বেঞ্জ জানিয়েছে, ভারতে তাদের এস-ক্লাস বিক্রির প্রায় ৫০ শতাংশই মেবাখ সংস্করণ থেকে আসে। ফলে নতুন এস ৫৮০ই-এর জন্য সীমিত সংখ্যক ইউনিট বরাদ্দ করলেও মডেলটির প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহের দিকে নজর রাখছে সংস্থা।

৩.০ লিটার প্লাগ-ইন হাইব্রিড পাওয়ারট্রেন

নতুন মেবাখ এস ৫৮০ই-এর অন্যতম বড় পরিবর্তন হল এর প্লাগ-ইন হাইব্রিড পাওয়ারট্রেন। আগের মডেলে ৪.০ লিটার ভি৮ ইঞ্জিন ব্যবহার করা হয়েছিল। নতুন মডেলে রয়েছে ৩.০ লিটার ইনলাইন-সিক্স পেট্রল ইঞ্জিন।

এই ইঞ্জিন সর্বোচ্চ ৪৪৩ হর্সপাওয়ার শক্তি এবং ৫৬০ এনএম টর্ক তৈরি করে। এর সঙ্গে রয়েছে ১৬০ হর্সপাওয়ার শক্তি এবং ৪৮০ এনএম টর্ক উৎপাদনকারী বৈদ্যুতিক মোটর। মোট সিস্টেম আউটপুট দাঁড়িয়েছে ৫৮৫ হর্সপাওয়ার এবং ৭৫০ এনএম টর্কে।

গাড়িতে রয়েছে ২২ কিলোওয়াটআওয়ার ব্যাটারি এবং অল-হুইল ড্রাইভ ব্যবস্থা স্ট্যান্ডার্ড হিসেবে দেওয়া হয়েছে। মার্সিডিজ-বেঞ্জের দাবি অনুযায়ী, শুধুমাত্র বৈদ্যুতিক শক্তিতে গাড়িটি সর্বোচ্চ ৯৮ কিলোমিটার পর্যন্ত চলতে পারে। বৈদ্যুতিক মোডে সর্বোচ্চ গতি ১৪০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা।

গাড়িটির ডব্লিউএলটিপি-প্রত্যয়িত জ্বালানি দক্ষতা ৩৪.৪৮ কিলোমিটার প্রতি লিটার।

তিনটি ড্রাইভ মোড এবং দ্রুত চার্জিং

মেবাখ এস ৫৮০ই-তে তিনটি ড্রাইভ মোড রয়েছে। এগুলি হল মেবাখ, ইলেকট্রিক এবং ব্যাটারি হোল্ড। গাড়িতে অ্যাডজাস্টেবল এনার্জি রিকুপারেশন ব্যবস্থাও রয়েছে। এর মধ্যে ওয়ান-পেডাল ড্রাইভিংয়ের সুবিধাও পাওয়া যায়।

চার্জিংয়ের জন্য গাড়িতে ১১ কিলোওয়াটের এসি অন-বোর্ড চার্জার দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সর্বোচ্চ ৬০ কিলোওয়াট ডিসি ফাস্ট চার্জিংয়ের সঙ্গেও গাড়িটি সামঞ্জস্যপূর্ণ।

এয়ার সাসপেনশন এবং রিয়ার-অ্যাক্সেল স্টিয়ারিংও স্ট্যান্ডার্ড সরঞ্জাম হিসেবে রয়েছে।

পিছনের আসনেই বিলাসিতার মূল আকর্ষণ

মেবাখ এস-ক্লাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্যগুলির একটি হল এর পিছনের কেবিন। নতুন এস ৫৮০ই চার-সিটের বিন্যাসে এসেছে। পিছনে রয়েছে এক্সিকিউটিভ সিট এবং পুরো দৈর্ঘ্যের বিজনেস কনসোল।

রিয়ার কমফোর্ট প্যাকেজ প্লাস স্ট্যান্ডার্ড হিসেবে পাওয়া যাচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে ভাঁজ করে বের করা যায় এমন ট্রে টেবিল, ওয়্যারলেস চার্জিং প্যাড, পিছনের কেবিনের অ্যাম্বিয়েন্ট লাইটিং এবং তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রিত কাপ হোল্ডার।

পিছনের আসন সর্বোচ্চ ৪৩ ডিগ্রি পর্যন্ত হেলানো যায়। সাধারণ এস-ক্লাসে এই কোণ ৩৮ ডিগ্রি। মেবাখের পিছনের আসনে হিটিং, ভেন্টিলেশন এবং ম্যাসাজ ফাংশনও রয়েছে।

আগের মডেলের ট্যাবলেট কন্ট্রোলারের পরিবর্তে এবার দুটি আলাদা স্মার্টফোন রিমোট দেওয়া হয়েছে। এগুলির মাধ্যমে পিছনের কেবিনের বিভিন্ন ফিচার নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

সামনে মেবাখের আলাদা প্রযুক্তি

সামনের ড্যাশবোর্ডের নকশা মূলত সাধারণ এস-ক্লাসের মতোই রাখা হয়েছে। এখানে রয়েছে এমবিইউএক্স সুপারস্ক্রিন, যার মধ্যে কেন্দ্রীয় ডিসপ্লের পাশাপাশি সামনের যাত্রীর জন্য আলাদা ডিসপ্লে রয়েছে। এই ডিসপ্লেতে প্রাইভেসি ফাংশনও রয়েছে।

চালকের জন্য রয়েছে ফ্রিস্ট্যান্ডিং থ্রিডি ডিসপ্লে। সব স্ক্রিনে মেবাখের নিজস্ব গ্রাফিক্যাল থিম ব্যবহার করা হয়েছে। কেবিনে রোজ গোল্ড অ্যাকসেন্টও রয়েছে।

ফিচারের তালিকায় রয়েছে অগমেন্টেড রিয়েলিটি হেড-আপ ডিসপ্লে এবং নেভিগেশন, ৩১-স্পিকার বার্মেস্টার ৪ডি সারাউন্ড সাউন্ড সিস্টেম এবং পিছনের যাত্রীদের জন্য দুটি এন্টারটেইনমেন্ট স্ক্রিন। সঙ্গে রয়েছে ওয়্যারলেস হেডসেট।

মেবাখের বিশেষ কেবিন এবং বাহ্যিক নকশা

কেবিনে মেবাখ-এক্সক্লুসিভ নাপ্পা লেদার ব্যবহার করা হয়েছে। এর রঙ ক্রিস্টাল হোয়াইট এবং সিলভার গ্রে পার্ল। সঙ্গে রয়েছে ম্যানুফ্যাক্টুর পিয়ানো ল্যাকার ট্রিম, ক্রিস্টাল হোয়াইট নাপ্পা লেদারের ম্যানুফ্যাক্টুর রুফ লাইনার এবং ম্যানুফ্যাক্টুর সিট ব্যাকরেস্ট ট্রিম।

বাইরের নকশায় সাধারণ এস-ক্লাস ফেসলিফ্টের সঙ্গে মিল থাকলেও মেবাখের নিজস্ব কিছু পরিবর্তন রয়েছে। নতুন গাড়ির গ্রিল আগের তুলনায় ২০ শতাংশ বড়। গ্রিলের চারপাশে এলইডি ইলুমিনেশন রয়েছে এবং বনেটের উপরে আলোকিত মার্সিডিজ স্টার দেওয়া হয়েছে।

তবে মেবাখ সংস্করণে গ্রিলে রয়েছে সিগনেচার ভার্টিক্যাল স্ল্যাট এবং তার উপরে আলোকিত ‘মেবাখ’ ওয়ার্ডমার্ক। হেডল্যাম্পও নতুন ও আগের তুলনায় বড়। এতে মার্সিডিজের সর্বশেষ ডিজিটাল লাইট প্রযুক্তি এবং থ্রি-পয়েন্টেড স্টার ডিআরএল রয়েছে।

চাকার ক্ষেত্রে ভারতীয় সংস্করণে ২০-ইঞ্চি ফোর্জড মেবাখ হুইল দেওয়া হয়েছে। চাকায় কাউন্টারওয়েটেড মার্সিডিজ লোগো রয়েছে, যা গাড়ি চলার সময়ও সোজা অবস্থায় থাকে। ডি-পিলারের মেবাখ লোগো আলোকিত করা হয়েছে এবং পিছনের টেল-ল্যাম্পে থ্রি-পয়েন্টেড স্টার এলইডি সিগনেচার রয়েছে।

মেবাখ এস-ক্লাস লং-হুইলবেস এস-ক্লাসের তুলনায় ১৮০ মিলিমিটার বেশি লম্বা। নতুন এস ৫৮০ই-তে শক্তিশালী হাইব্রিড প্রযুক্তি, দীর্ঘ বৈদ্যুতিক রেঞ্জ এবং আরও বিলাসবহুল পিছনের কেবিন একসঙ্গে পাওয়া যাচ্ছে। ভারতে মাত্র ৩০টি ইউনিটের প্রথম বরাদ্দ এই মডেলটিকে আরও সীমিত এবং বিশেষ করে তুলেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *