মনের শান্তির জন্য রোজ কড়া ডোজ়ের অ্যাসপিরিন খান ট্রাম্প, এই অভ্যাসে কী ক্ষতি হয় জানেন?
প্রচণ্ড মাথাব্যথা! হাতের কাছে কোনও ওষুধ নেই। কী করবেন? একটা অ্যাসপিরিন খেয়ে নিলেন। মধ্যরাতে হঠাৎ দাঁতে যন্ত্রণা। চেনা অস্ত্র সেই অ্যাসপিরিন। হার্টে ব্লকেজ থাকলে, রক্ত পাতলা করার প্রয়োজন হলেও চিকিৎসকরা অ্যাসপিরিন জাতীয় ওষুধ খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। এই ধরনের ওষুধের যে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে, তা-ও অনেকেই জানেন। তবে সম্প্রতি আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি বিগত ২৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে প্রতিদিন বেশ কড়া ডোজ়ের অ্যাসপিরিন ওষুধ খাচ্ছেন।
সবচেয়ে অদ্ভুত বিষয় হলো, শারীরিক কোনও সমস্যার জন্য তিনি এই ওষুধ খান না। ওহিওতে এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প প্রকাশ্যেই স্বীকার করেছেন যে, কিছুটা ‘মনস্তাত্ত্বিক’ এবং কিছুটা কুসংস্কারের বশবর্তী হয়েই তিনি অ্যাসপিরিন খাওয়ার অভ্যাস করেছেন। ট্রাম্প প্রতিদিন নিয়ম করে ৩২৫ মিলিগ্রামের ট্যাবলেট খান। ট্রাম্পের এই অভ্যাস সম্পর্কে অবগত হওয়ার পরে সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন জেগেছে, প্রতিদিন অ্যাসপিরিন খাওয়া কি আদৌ নিরাপদ?
অ্যাসপিরিন-এর কাজ কী?
অ্যাসপিরিনকে সচরাচর ‘ব্লাড থিনার’ বা রক্ত পাতলা করার ওষুধ বলা হলেও হৃদরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে এটি মূলত একটি অ্যান্টি-প্লেটলেট এজেন্ট।
-
রক্তজমাট বাঁধতে দেয় না: এটি রক্তের প্লেটলেট বা অনুচক্রিকাকে একে অপরের সঙ্গে জমাট বাঁধতে দেয় না।
-
হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোক প্রতিরোধ: রক্ত জমাট না বাঁধায় এটি হার্ট অ্যাটাক বা ইস্কেমিক স্ট্রোকের ঝুঁকি কমায়।
-
সমস্যা: রক্ত পাতলা করার এই প্রক্রিয়ার কারণে শরীরে কোথাও রক্তপাত শুরু হলে তা সহজে বন্ধ হতে চায় না।
অ্যাসপিরিন কারা খেতে পারেন?
-
সেকেন্ডারি প্রিভেনশন: যাদের একবার হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক হয়েছে। হার্টে স্টেন্ট বসেছে, তাঁদের পুনরায় রক্ত জমাট বাঁধা রোধে ডাক্তাররা প্রতিদিন অ্যাসপিরিন খাওয়ার পরামর্শ দেন।
-
প্রাইমারি প্রিভেনশন: সুস্থ ব্যক্তিদের প্রতিদিন অ্যাসপিরিন-জাতীয় ওষুধ খাওয়া একেবারেই উচিত নয়। আমেরিকার হেলথ টাস্কফোর্সের নির্দেশিকা অনুযায়ী, ৬০ বছর বা তার বেশি বয়সি সুস্থ ব্যক্তিদের হার্ট অ্যাটাক এড়াতে ইচ্ছেমতো অ্যাসপিরিন খাওয়া বিপজ্জনক।
মুঠো মুঠো অ্যাসপিরিন খেলে কী বিপদ হতে পারে?
-
পাকস্থলী ও অন্ত্রের রক্তপাত: পাকস্থলীতে আলসার বা গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা থাকলে, তা গুরুতর আকার ধারণ করতে পারে। এমনকী অভ্যন্তরীণ রক্তপাতের আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
-
সহজে কালশিটে পড়া: সামান্য আঘাতেই ত্বকের নীচে রক্ত জমে কালশিটে দাগ পড়ে যেতে পারে।