গণধর্ষণে ফাঁসি, তিন জনের আমৃত্যু সাজা
এই সময়, আলিপুরদুয়ার: দু’বছর আগে জয়গাঁয় সাত বছরের নাবালিকাকে গণধর্ষণের পরে খুনের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত বাবলু মিয়াঁকে ফাঁসির সাজা শোনাল আলিপুরদুয়ার জেলা আদালতের ফার্স্ট ট্র্যাক কোর্ট। বাকি তিন জনকে আমৃত্যু কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
নাবালিকার পরিবারকে ৬ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য রাজ্য সরকারকে নির্দেশ দিয়েছে আদালত। মামলায় সাক্ষ্য দেন ২২ জন। বিচার চলাকালীন মারা যান নাবালিকার বাবা। তিনি পক্ষাঘাতে আক্রান্ত ছিলেন।
সাজা ঘোষণার পরে ওই নাবালিকার মা বলেন, ‘মেয়ে ও স্বামীর মৃত্যুর পরে সব আশা ছেড়ে দিয়েছিলাম। সোমবার আদালত যে রায় দিয়েছে তাতে মেয়ের আত্মা শান্তি পাবে।’ সরকারি পক্ষের আইনজীবী দেবরঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘নৃশংস ও ঘৃণ্যতম অপরাধ।’
২০২৪-এর ১৫ অক্টোবর নিখোঁজ হয় নাবালিকা। পরের দিন জয়গাঁ থানায় মামলা রুজু হয়। পরিত্যক্ত একটি গোডাউন থেকে উদ্ধার হয় তার বিবস্ত্র ও ঝলসানো মৃতদেহ। তদন্তে নেমে পুলিশ শহরের সিসিটিভি ফুটেজের সূত্র ধরে বাবলুকে শিলিগুড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে। সেই সময়ে সে নেপালে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল বলে অভিযোগ।
তাকে জেরা করে ঘটনার সময়ে থাকা জাইদুল ইসলাম, মনির হোসেন ও মজিবুল শেখকে গ্রেপ্তার করা হয়। চাউমিন খাওয়ানোর লোভ দেখিয়ে ওই নাবালিকাকে ডেকে নিয়ে গিয়েছিল বাবলু। মামলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন তদন্তকারী অফিসার সুবিমল বর্মন। পুলিশ ডিএনএ প্রোফাইলিং, সিসিটিভি ফুটেজ, ভিডিয়ো রেকর্ডিং এবং গেট প্যাটার্ন অ্যানালাইসিস (চলাফেরার ভঙ্গি) এর মতো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রমাণ হিসেবে আদালতে পেশ করে। যদিও আগুন লাগিয়ে দেহ পুড়িয়ে দেওয়ার বিষয়টি আদালতে প্রমাণিত হয়নি।