অচেনা জায়গায় GPS ছাড়া গতি নেই, জানেন কী ভাবে তৈরি হলো এই প্রযুক্তি?

নতুন জায়গায় বেড়াতে যাবেন? কিংবা শহরের মধ্যেই কোনও জায়গায় রাস্তা খুঁজে পাচ্ছেন না? এক মুহূর্তেই মুশকিল আসান হতে পারে ফোনের GPS-এর একটি সার্চ। কিন্তু, কী ভাবে আবিষ্কার হলো এই প্রযুক্তি?

১৯৩০ সালে আমেরিকার রিচমন্ডে ভার্জিনিয়া ফার্মস এলাকায় জন্মেছিলেন গ্লেডিস মে ব্রাউন। অ্যাফ্রো-আমেরিকান জনজাতির গ্লেডিসের পরিবার পেশায় ছিল ভাগচাষি। চার ভাইবোনের মধ্যে দ্বিতীয় সন্তান ছিলেন গ্লেডিস। কৃষক পরিবার জন্ম হওয়ায় ছোট বেলার একটা বড় অংশ কৃষিকাজ করেই কাটিয়েছেন গ্লেডিস।

কৃষক পরিবারে জন্ম হওয়ায় আর্থিক ভাবে কখনই খুব একটা স্বচ্ছল অবস্থা ছিল না গ্লেডিসের পরিবারের। কলেজে পড়াশোনা করার জন্য প্রয়োজনীয় খরচ বহন করার মতো অবস্থা ছিল না তাঁদের।

তবে, পড়াশোনা করার এক অদম্য ইচ্ছে ছিল গ্লেডিসের মধ্যে। সেই কারণে কলেজে পড়াশোনা করার জন্য অর্থ জমানোর চেষ্টা করেন তিনি। তবে, প্রয়োজনীয় অর্থ সংগ্রহ শেষ হওয়ার আগেই গ্লেডিসের এক শিক্ষক তাঁকে জানান যে, সরকারের তরফে গ্লেডিসের স্কুলের দু’জন মেধাবী পড়ুয়াকে স্কলারশিপ দেওয়া হবে।

পড়াশোনায় বরাবরই ভালো ছিলেন গ্লেডিস। ফলে, সেই স্কলারশিপ পেয়ে সহজেই তিনি কলেজের পড়াশোনা শুরু করেন। ভার্জিনিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে অঙ্ক নিয়ে স্নাতক স্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ১৯৫৬ সালে Naval Proving Ground-এ কম্পিউটার প্রোগ্রামার পদে কাজ শুরু করেন তিনি। সেখানে স্যাটেলাইটের তথ্য তুল্যমূল্য বিচার করাই তাঁর কাজ ছিল।

ওই সংস্থায় কাজ করতে করতেই একটি বিশেষ প্রযুক্তির আবিষ্কার করেন গ্লেডিস। সেই সময়ে গ্লেডিস একটি IBM 7030 Stretch Computer ব্যবহার করে পৃথিবীর পরিমাপ করার একটি পদ্ধতি আবিষ্কার করেন। এই কম্পিউটারে ছিল এক রকমের বিশেষ Transistor। এর মাধ্যমে সমুদ্রের গভীরতা এবং বিস্তারও পরিমাপ করা সম্ভব হতো।

পরবর্তীকালে এই সিস্টেম ব্যবহার করেই GPS প্রযুক্তি তৈরি করা শুরু হয়। ১৯৯০-এর দশকের শুরুর দিকে ধীরে ধীরে GPS ডিভাইস বাজারে আসতে শুরু করে। এই ডিভাইসগুলি গ্লেডিসের এই সিস্টেমের উপরে ভিত্তি করে তৈরি করা হয়। তাঁর সিস্টেমের মাধ্যমেই ধীরে ধীরে গ্রিডভিত্তিক GPS সিস্টেমের প্রত্যাবর্তন হয়।

তবে, এই কাজের জন্য খুব একটা প্রচার পাননি গ্লেডিস। এমনকী, তিনি নিজেও এই বিষয়ে খুব একটা প্রচার করেননি। পরবর্তী কালে ২০১৬ সালে ‘Hidden Figures’ নামে একটি সিনেমায় গ্লেডিসের জীবন তুলে ধরা হয়। ২০১৮ সালে তিনি আমেরিকার বায়ু সেনার Hall of Fame-এও জায়গা পান।

প্রসঙ্গত, গ্লেডিস যে সংস্থায় কাজ করতেন সেখানে তিনি ছাড়া আর একজন কৃষ্ণাঙ্গ কর্মী ছিলেন। সেই নিয়ে একাধিক বার সামাজিক বিড়ম্বনার মুখেও পড়েছেন তিনি। এ নিয়ে তিনি বলেছেন, ‘একজন মহিলা হিসেবে আমি গর্বিত। তবে, একজন কৃষ্ণাঙ্গ মহিলা হিসেবে আমায় নিজেকে সমাজে আলাদা ভাবে নিজেকে প্রমাণ করতে হয়েছে।’