শনিবার শেষ পিরিয়ডে বাংলার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে আর্থিক শিক্ষার ক্লাস
কলকাতা: স্কুলপড়ুয়াদের ছোট বয়স থেকেই আর্থিক বিষয়ে সচেতন করে তুলতে নতুন উদ্যোগ নিল রাজ্যের স্কুল শিক্ষা দফতর। ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির পড়ুয়াদের জন্য আর্থিক শিক্ষার…
কলকাতা: স্কুলপড়ুয়াদের ছোট বয়স থেকেই আর্থিক বিষয়ে সচেতন করে তুলতে নতুন উদ্যোগ নিল রাজ্যের স্কুল শিক্ষা দফতর। ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির পড়ুয়াদের জন্য আর্থিক শিক্ষার (Financial Education) বিভিন্ন কার্যক্রম চালু করতে স্কুলগুলিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শনিবার স্কুলের শেষ পিরিয়ডে এই কার্যক্রম আয়োজন করতে বলা হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গ সমগ্র শিক্ষা মিশনের সাম্প্রতিক একটি মেমোয় জেলা শিক্ষা আধিকারিকদের এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাঁদের অধীনে থাকা উচ্চ প্রাথমিক, মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের সমস্ত স্কুলে ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক বা আরবিআইয়ের আর্থিক শিক্ষা সংক্রান্ত মডিউল পৌঁছে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে পড়ুয়াদের দৈনন্দিন জীবনে অর্থের ব্যবহার, সঞ্চয়, ডিজিটাল লেনদেন এবং বিভিন্ন আর্থিক পরিষেবা সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করা হবে।
ALSO READ – বাংলাদেশি পাটপণ্যে শুল্ক বাড়াল মোদী সরকার! সর্বোচ্চ ৪৪৫ ডলার প্রতি টনে
শনিবারের শেষ পিরিয়ডে আর্থিক শিক্ষার কার্যক্রম
স্কুলগুলিকে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির পড়ুয়াদের জন্য শনিবারের শেষ পিরিয়ডে আর্থিক শিক্ষা সংক্রান্ত কার্যক্রম আয়োজন করতে বলা হয়েছে। শনিবারের শেষ পিরিয়ডে সাধারণত আনন্দ পরিসর-এর মতো বিভিন্ন কার্যক্রম হয়। সেখানে ছবি আঁকা, ছবি রং করা, গান এবং নাটকের মতো বিভিন্ন সৃজনশীল কার্যক্রমের আয়োজন করা হয়। এবার সেই সময়ের মধ্যেই আর্থিক শিক্ষা সংক্রান্ত কার্যক্রম যুক্ত করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। মডিউলের বিষয়বস্তু ব্যবহার করে কুইজ এবং আলোচনা সভার আয়োজন করার পরামর্শ দিয়েছে শিক্ষা দফতর। তবে এই বিষয়টিকে আপাতত আনুষ্ঠানিক পরীক্ষার অংশ করা হচ্ছে না। স্কুলগুলিকে মডিউলের বিষয়বস্তু অতিরিক্ত এবং মূল্যায়ন-বহির্ভূত পড়ার উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করতে বলা হয়েছে।
আরবিআইয়ের মডিউলেই হবে পাঠদান
পশ্চিমবঙ্গ সমগ্র শিক্ষা মিশন জেলা শিক্ষা আধিকারিকদের মাধ্যমে আরবিআইয়ের আর্থিক শিক্ষা সংক্রান্ত মডিউল স্কুলগুলিতে পৌঁছে দিচ্ছে। এই একই মডিউল আগে সিবিএসই স্কুলগুলির জন্য তৈরি করা হয়েছিল। ২০২২ সালে সিবিএসই তাদের পাঠ্যক্রমে আর্থিক শিক্ষাকে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেয়। এবার সেই মডিউলই রাজ্যের স্কুলগুলিতে ব্যবহার করার জন্য পাঠানো হয়েছে। শিক্ষা দফতরের এক আধিকারিকের বক্তব্য অনুযায়ী, আর্থিক সচেতনতা ২১ শতকের একটি গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতা। এর মাধ্যমে পড়ুয়াদের প্রাথমিক গণিতের দক্ষতা এবং দৈনন্দিন জীবনের আর্থিক পরিস্থিতিতে সেই জ্ঞান প্রয়োগের ক্ষমতা বাড়তে পারে।
ALSO READ – সরকারের বড় পদক্ষেপে কোচবিহার পাচ্ছে ১০০০ শয্যার নয়া হাসপাতাল
ছোট বয়স থেকেই আর্থিক সিদ্ধান্তের সঙ্গে পরিচয়
বর্তমানে শিশুরা কর্মজীবনে প্রবেশের অনেক আগেই বিভিন্ন আর্থিক পরিষেবার সঙ্গে পরিচিত হচ্ছে। ডিজিটাল পেমেন্ট, অনলাইন কেনাকাটা, ব্যাঙ্কিং পরিষেবা এবং বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে তারা অল্প বয়স থেকেই অর্থ সংক্রান্ত বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছে। এই কারণেই স্কুল পর্যায় থেকেই আর্থিক বিষয়ে প্রাথমিক ধারণা তৈরি করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে বলে শিক্ষা দফতরের আধিকারিক জানিয়েছেন। তাঁর মতে, আর্থিক সিদ্ধান্ত এখন অনেক ক্ষেত্রেই অল্প বয়স থেকেই শুরু হচ্ছে। ফলে পড়ুয়াদের বাস্তব জীবনে অর্থ ব্যবহারের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে সচেতন করা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
বার্টার থেকে ডিজিটাল পেমেন্ট
প্রস্তাবিত পড়াশোনার উপকরণে আর্থিক ব্যবস্থার বিস্তৃত পরিসরের বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বার্টার বা পণ্য বিনিময় ব্যবস্থা থেকে শুরু করে তার বিবর্তন এবং বর্তমান সময়ের ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা পর্যন্ত বিভিন্ন বিষয় এতে রয়েছে। অর্থাৎ পড়ুয়ারা শুধু টাকা বা ব্যাঙ্কিং পরিষেবা সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা পাবে না, অর্থনৈতিক লেনদেনের পদ্ধতি কীভাবে সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হয়েছে, সেই বিষয়েও ধারণা তৈরি করতে পারবে। স্কুলগুলিকে পাঠ পরিকল্পনা এবং শিক্ষকদের জন্য তৈরি হ্যান্ডবুকও দেওয়া হয়েছে। এই উপকরণগুলি মূলত সিবিএসই স্কুলগুলির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছিল।
শিক্ষকদের উপর বাড়বে কাজের চাপ?
নতুন মডিউল নিয়ে ইতিমধ্যেই কয়েকটি স্কুলে কার্যক্রম শুরু হয়েছে। নারায়ণ দাস বাঙ্গুর মেমোরিয়াল মাল্টিপারপাস স্কুলের প্রধান শিক্ষক সঞ্জয় বারুয়া জানিয়েছেন, কয়েক দিন আগে নোটিস পাওয়ার পর তাঁরা শনিবারই নতুন মডিউল চালু করেছেন। তবে তাঁর মতে, বর্তমান শিক্ষক-শিক্ষিকাদের দিয়েই প্রতি সপ্তাহে এই ধরনের ক্লাস পরিচালনা করা কঠিন হতে পারে। অন্যদিকে ভবানীপুর মিত্র ইনস্টিটিউশনের প্রধান শিক্ষক রাজা দে এই উদ্যোগকে বয়সের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে জানিয়েছেন।
পরীক্ষার চাপ ছাড়াই শেখানোর পরিকল্পনা
এই উদ্যোগের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল, আর্থিক শিক্ষাকে আপাতত মূল্যায়ন বা পরীক্ষার সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে না। ফলে পড়ুয়াদের অতিরিক্ত পরীক্ষার চাপ না দিয়ে আলোচনা, কুইজ এবং অন্যান্য কার্যক্রমের মাধ্যমে বিষয়গুলি বোঝানোর সুযোগ থাকছে।
স্কুল শিক্ষা দফতরের এই উদ্যোগে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির পড়ুয়ারা আর্থিক ব্যবস্থার বিভিন্ন মৌলিক বিষয় সম্পর্কে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পাবে। বার্টার ব্যবস্থা থেকে শুরু করে ডিজিটাল পেমেন্ট পর্যন্ত বিষয়গুলি ধাপে ধাপে বোঝানোর মাধ্যমে দৈনন্দিন জীবনে অর্থ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রাথমিক ধারণা তৈরি করাই এই কার্যক্রমের লক্ষ্য।
Essential Business Intelligence, Sharp Market Insights, Practical Personal Finance Advice, Daily Fuel, Gold and Silver Prices and Latest Stories – On Kolkata24x7 Business