ঝাড়গ্রাম-পুরুলিয়ায় গজ উৎসব, হাতি সংরক্ষণে ৪২৬ জনের বার্তা - 24 Ghanta Bangla News
Home

ঝাড়গ্রাম-পুরুলিয়ায় গজ উৎসব, হাতি সংরক্ষণে ৪২৬ জনের বার্তা

Spread the love

কলকাতা: বাংলার লোকশিল্প, আদিবাসী সংস্কৃতি এবং স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণকে হাতি সংরক্ষণের বার্তা ছড়ানোর মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করল ওয়াইল্ডলাইফ ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়ার গজ উৎসব ২০২৬ (Gaj…

কলকাতা: বাংলার লোকশিল্প, আদিবাসী সংস্কৃতি এবং স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণকে হাতি সংরক্ষণের বার্তা ছড়ানোর মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করল ওয়াইল্ডলাইফ ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়ার গজ উৎসব ২০২৬ (Gaj Utsav 2026)।  ঝাড়গ্রাম ও পুরুলিয়ায় আয়োজিত প্রথম তিনটি অনুষ্ঠানে ৪২৬ জনেরও বেশি মানুষ অংশ নেন।

মানুষ ও হাতির সহাবস্থান এবং হাতি সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরতেই এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়। দুর্গাপুর ওয়াইল্ডলাইফ ইনফরমেশন অ্যান্ড নেচার গাইড সোসাইটি বা উইংসের সহযোগিতায় তিন দিনের এই জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি আয়োজিত হয়।

ঝাড়গ্রামের কাঁকড়াঝোড় ও পোসড়োতে ২৪ ও ২৫ সেপ্টেম্বর এবং পুরুলিয়ার ছৌ নৃত্যের জন্য পরিচিত চরিদায় ২৬ সেপ্টেম্বর কর্মসূচি হয়। অনুষ্ঠানে মহিলা, শিশু, শিক্ষক, পঞ্চায়েত প্রতিনিধি, শিল্পী, কারিগর এবং স্থানীয় ঐতিহ্যবাহী শিল্পীরা অংশ নেন।

কাঁকড়াঝোড়ে হাতি সংরক্ষণের বার্তা লোকনৃত্যে

কাঁকড়াঝোড়ের অনুষ্ঠানে ১০৪ জন অংশ নেন। হাতি সংরক্ষণের বার্তা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে সেখানে মুন্ডারি নৃত্য পরিবেশন করা হয়। স্থানীয় এক পঞ্চায়েত সদস্য হাতি সংরক্ষণ নিয়ে বক্তব্য এবং আবৃত্তি করেন। পাশাপাশি আয়োজন করা হয় ‘মৈত্রী ওয়াল’ নামে একটি বিশেষ উদ্যোগ। সেখানে স্থানীয় মহিলা ও শিশুরা হাতি সংরক্ষণ ও প্রকৃতি নিয়ে বিভিন্ন ছবি আঁকেন। অনুষ্ঠানে হাতির মুখোশ পরা শিশুরাও অংশ নেয়। তারা হাতি সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে মানুষের কাছে বার্তা পৌঁছে দেয়। এর ফলে শিশুদের মধ্যেও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ নিয়ে সচেতনতা তৈরির পাশাপাশি স্থানীয় সংস্কৃতিকে ব্যবহার করে বৃহত্তর সমাজের কাছে সংরক্ষণের বার্তা পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।

ALSO READ – সরকারের বড় পদক্ষেপে কোচবিহার পাচ্ছে ১০০০ শয্যার নয়া হাসপাতাল

পোসড়োয় শিশুদের সঙ্গে বীজবল তৈরি

গজ উৎসবের দ্বিতীয় কর্মসূচি হয় ঝাড়গ্রামের পোসড়োয়। সেখানে ১২২ জন অংশ নেন। এই অনুষ্ঠানের মূল লক্ষ্য ছিল ছোট বয়স থেকেই শিশুদের মধ্যে সংরক্ষণ সম্পর্কে ধারণা তৈরি করা এবং স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণে পরিবেশ রক্ষার কাজকে উৎসাহ দেওয়া। ৪০ জন প্রাথমিক স্কুলের পড়ুয়া ‘কালার দ্য এলিফ্যান্টস’ বা হাতির ছবি রং করার কর্মসূচিতে অংশ নেয়। এর মাধ্যমে শিশুদের কাছে হাতি ও তাদের আবাসস্থল সম্পর্কে সংরক্ষণের বার্তা তুলে ধরা হয়।

অন্যদিকে স্থানীয় মহিলারাও পরিবেশ সংরক্ষণের কাজে সরাসরি অংশ নেন। তাঁরা স্থানীয়ভাবে পাওয়া ৯টি উদ্ভিদ প্রজাতির বীজ ব্যবহার করে ৭৫টিরও বেশি বীজবল তৈরি করেন। এই বীজবল স্থানীয় আবাসস্থল এবং উদ্ভিদবৈচিত্র্য রক্ষার ক্ষেত্রে স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণের একটি উদাহরণ হয়ে ওঠে। পোসড়োর স্থানীয় স্কুলকে একটি ঐতিহ্যবাহী ডোকরা পিতলের হাতির মডেলও উপহার দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে গজো বন্দনা এবং ঐতিহ্যবাহী সাঁওতালি নৃত্য পরিবেশন করা হয়।

ALSO READ – শিল্প টানতে বড় উদ্যোগ বাংলার! এক জানালায় মিলবে সব ছাড়পত্র

চরিদায় মুখোশ ও ছৌ নৃত্যে সংরক্ষণের বার্তা

তৃতীয় কর্মসূচি আয়োজিত হয় পুরুলিয়ার চরিদায়। এই অনুষ্ঠানে ২০০ জনেরও বেশি মানুষ অংশ নেন। চরিদা তার বিখ্যাত মুখোশ তৈরির ঐতিহ্যের জন্য পরিচিত। সেই স্থানীয় শিল্পকেই হাতি সংরক্ষণের বার্তা পৌঁছানোর মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

একজন স্থানীয় মুখোশশিল্পীর সঙ্গে সংরক্ষণে ঐতিহ্যবাহী কারুশিল্পের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করা হয়। স্থানীয় শিল্প ও পরিবেশ সংরক্ষণ কীভাবে একে অপরের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে, সেই বিষয়টিও উঠে আসে।

অনুষ্ঠানে ছৌ নৃত্যের মাধ্যমে হাতি এবং মানুষের সহাবস্থানের বিষয়টি তুলে ধরা হয়। একটি চলমান হাতির মডেল ব্যবহার করে পরিবেশের সঙ্গে বন্যপ্রাণীর সম্পর্ক এবং একই ভূখণ্ডে মানুষ ও বন্যপ্রাণীর বসবাসের চ্যালেঞ্জ দেখানো হয়।

স্থানীয় সংস্কৃতিই হয়ে উঠল সংরক্ষণের মাধ্যম

গজ উৎসব ২০২৬-এর প্রথম তিনটি কর্মসূচিতে বাংলার বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী শিল্প ও সংস্কৃতিকে হাতি সংরক্ষণের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। ডোকরা, টেরাকোটা, মুখোশ, ছৌ এবং মুন্ডারি ও সাঁওতালি নৃত্যের মতো স্থানীয় সাংস্কৃতিক মাধ্যমগুলি এই জনসচেতনতা কর্মসূচির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে।

এই উদ্যোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল স্থানীয় মানুষকে শুধু দর্শক হিসেবে না রেখে সরাসরি কর্মসূচির অংশ করা। মহিলা, শিশু, শিক্ষক, পঞ্চায়েত প্রতিনিধি, শিল্পী এবং ঐতিহ্যবাহী পরিবেশনার সঙ্গে যুক্ত মানুষরা নিজেদের দক্ষতা ব্যবহার করে সংরক্ষণের বার্তা পৌঁছে দেন।

আয়োজকদের রিপোর্ট অনুযায়ী, এই কর্মসূচি দেখিয়েছে যে স্থানীয় সম্প্রদায় শুধু সংরক্ষণ সংক্রান্ত বার্তা শোনার শ্রোতা নয়। তাঁরা শিল্পী, শিক্ষক এবং সংরক্ষণে সক্রিয় অংশগ্রহণকারী হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারেন।

ঝাড়গ্রাম ও পুরুলিয়ায় গজ উৎসবের প্রথম তিনটি কর্মসূচির মাধ্যমে তাই হাতি সংরক্ষণের পাশাপাশি স্থানীয় সংস্কৃতি এবং সম্প্রদায়ভিত্তিক অংশগ্রহণের গুরুত্বও সামনে এসেছে। মানুষের সঙ্গে হাতির সহাবস্থান নিশ্চিত করতে স্থানীয় মানুষকে সংরক্ষণ প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত করার এই পদ্ধতি ভবিষ্যতের জনসচেতনতা কর্মসূচিতেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *