Russia Plague Outbreak: একটা ভাঙা টেস্ট টিউব, এক গবেষকের মৃত্যু! শয়ে শয়ে মানুষ এখন কোয়ারান্টিনে, আবার কি মহামারি ছড়াল? | Russia Plague Outbreak: Researcher Dies After Broken Live Bacteria Test tube in Laboratory, Over Hundreds Quarantined Amid Infection Fears - 24 Ghanta Bangla News
Home

Russia Plague Outbreak: একটা ভাঙা টেস্ট টিউব, এক গবেষকের মৃত্যু! শয়ে শয়ে মানুষ এখন কোয়ারান্টিনে, আবার কি মহামারি ছড়াল? | Russia Plague Outbreak: Researcher Dies After Broken Live Bacteria Test tube in Laboratory, Over Hundreds Quarantined Amid Infection Fears

Spread the love

মস্কো: কোভিড-১৯ এসে বিশ্বকে থমকে দিয়েছিল প্রায় বছর তিনেক। করোনার ধাক্কা সামলে উঠতে না উঠতেই আরও একটি মহামারি ছড়িয়ে পড়ল না তো? এই আতঙ্কেই কাঁটা সকলে। ইতিমধ্যেই ২০০ মানুষকে কোয়ারান্টিনে পাঠানো হয়েছে। মৃত্যু হয়েছে এক গবেষকের!

এবার চিন নয়, আতঙ্ক রাশিয়ায়। সাইবেরিয়ায় একটি ল্যাবরেটরি থেকে এই সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ওই ল্যাবরেটরিতে গবেষণা করা এক মহিলা গবেষকের মৃত্যুর পরই রাশিয়ার প্রশাসন শতাধিক মানুষকে পর্যবেক্ষণে রেখেছে। তাদের জোর করে আলাদাভাবে কোয়ারান্টিনে রাখা হয়েছে।

জানা গিয়েছে, ওই মহিলা গবেষক প্লেগে মারা গিয়েছেন। যদিও রাশিয়া প্রশাসন তা এখনই স্বীকার করতে নারাজ। তবে বিভিন্ন রিপোর্টে দাবি করা হচ্ছে যে ইরকুটস্ক অ্যান্টি-প্লেগ রিসার্চ ইনস্টিটিউট, যেখানে ওই গবেষক কাজ করতেন, তিনি ভয়ঙ্কর কোনও ব্যাকটেরিয়ার সংস্পর্শে এসেছিলেন।

কে ওই গবেষক?

২৮ বছর বয়সী গবেষক দারিয়া শিপিলোভা। গুরুতর নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়ার পর তাঁর সংস্পর্শে আসা প্রায় ২০০ জনকে নজরদারিতে রাখা হয়েছে বলে বিভিন্ন রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে। তবে রাশিয়ার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ এখনও নিশ্চিত করেনি যে তাঁর মৃত্যুর কারণ প্লেগ।

জানা গিয়েছে, শিপিলোভা ইরকুটস্ক অ্যান্টি-প্লেগ রিসার্চ ইনস্টিটিউটে কাজ করতেন। রিপোর্ট অনুযায়ী, ২৯ সেপ্টেম্বর গুরুতর নিউমোনিয়া নিয়ে তাঁকে শেলেখভ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাঁর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হলে ভেন্টিলেটরে রাখা হয়। কিন্তু দু’দিনের মধ্যেই তাঁর মৃত্যু হয়।

ভাঙা টেস্ট টিউব থেকেই কি সংক্রমণ?

এই ঘটনাকে ঘিরে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে একটি ভাঙা টেস্ট টিউব নিয়ে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, শিপিলোভা চিকিৎসকদের জানিয়েছিলেন যে গবেষণাগারে কাজ করার সময় জীবন্ত ব্যাকটেরিয়া থাকা একটি টেস্ট টিউব দুর্ঘটনাবশত ভেঙে গিয়েছিল। তবে এই দাবি এখনও সরকারি ভাবে নিশ্চিত হয়নি। রাশিয়ার জনস্বাস্থ্য সংস্থা রসপোট্রোনাজর (Rospotrebnadzor) জানিয়েছে, ওই গবেষণাগারে বিপজ্জনক জীবাণু নিয়ে কাজ করার সময় কোনও দুর্ঘটনার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

ওই গবেষক এরপর পার্শ্ববর্তী বুরিয়াতিয়া অঞ্চলে একটি গবেষণা সফরেও গিয়েছিলেন বলে রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে। ফলে তিনি ঠিক কোথায় এবং কীভাবে সংক্রমিত হয়েছিলেন, তা নিয়েও তৈরি হয়েছে প্রশ্ন।

প্রায় ২০০ জন নজরদারিতে-

গবেষকের মৃত্যুর পর তাঁর সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের চিহ্নিত করার কাজ শুরু হয়। বিভিন্ন রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রায় ২০০ জনকে কোয়ারান্টিন বা চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। শেলেখভের হাসপাতাল-সহ ইরকুটস্ক অঞ্চলের একাধিক হাসপাতালেও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

তবে এখনও পর্যন্ত তাঁর সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের মধ্যে নতুন করে অসুস্থতার কোনও লক্ষণ পাওয়া যায়নি বলে ইরকুটস্কের গভর্নর ইগর কোবজেভ জানিয়েছেন। তাঁদের পরীক্ষার ফলও নেগেটিভ এসেছে বলে দাবি করা হয়েছে।ইরকুটস্কের একটি অ্যালুমিনিয়াম কারখানাতেও কর্মীদের মাস্ক পরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে সাধারণ মানুষকে গুজবে কান না দেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে।

সত্যিই কি প্লেগ?

এই ঘটনার সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হল ওই গবেষকের মাধ্যমে কি প্লেগ ছড়িয়ে পড়ল রাশিয়ায়?  বুরিয়াতিয়ার প্রধান আলেক্সেই তসিদেনভ দাবি করেছেন, ওই মহিলা সম্ভবত প্লেগে মারা গিয়েছেন। বুরিয়াতিয়ায় কোনও প্লেগের প্রাদুর্ভাব নেই।

অন্যদিকে রাশিয়া এখনও প্লেগের বিষয়টি নিশ্চিত করেনি। সরকারি ভাবে মৃত্যুর কারণকে অজানা কারণে হওয়া নিউমোনিয়া হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে রিপোর্টে।  ফলে একদিকে গবেষণাগারে বিপজ্জনক জীবাণুর সংস্পর্শে আসার সম্ভাবনা, অন্যদিকে প্লেগ নিয়ে সরকারি ভাবে নিশ্চিত না করা—দুই নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা।

কেন এই গবেষণাগার নিয়ে এত প্রশ্ন?

ইরকুটস্ক অ্যান্টি-প্লেগ রিসার্চ ইনস্টিটিউট হওয়ায় বিষয়টি আরও স্পর্শকাতর হয়ে উঠেছে। এই ধরনের প্রতিষ্ঠানে প্লেগ-সহ অত্যন্ত বিপজ্জনক সংক্রামক রোগ নিয়ে গবেষণা ও নজরদারি করা হয়। তাই ভাঙা টেস্ট টিউবের দাবি সত্যি হলে কীভাবে দুর্ঘটনা ঘটল এবং গবেষক কীভাবে সংক্রমিত হলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

তবে এখনও পর্যন্ত রাশিয়ায় নতুন করে প্লেগের ব্যাপক প্রাদুর্ভাব হয়েছে—এমন কোনও সরকারি প্রমাণ নেই। তাই এই মুহূর্তে ঘটনাটিকে নিশ্চিত প্লেগের সংক্রমণ না বলে সম্ভাব্য প্লেগ বা রহস্যময় সংক্রমণ ঘিরে স্বাস্থ্য-সতর্কতা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *