Indian Army | IED মোকাবিলায় সেনার বড় পদক্ষেপ, আসছে ৩৫০ ডিটেক্টর
নয়াদিল্লি: বিস্ফোরক হামলার ঝুঁকি মোকাবিলায় নিজেদের সক্ষমতা আরও আধুনিক করতে বড় পদক্ষেপ নিচ্ছে ভারতীয় সেনাবাহিনী (Indian Army)। Improvised Explosive Device বা IED শনাক্তকরণ এবং রাতের অন্ধকারে যুদ্ধক্ষমতা বাড়াতে একাধিক নতুন সরঞ্জাম সংগ্রহের প্রক্রিয়া শুরু করেছে সেনা।
এই উদ্দেশ্যে সেনাবাহিনী ৩৫০টি Portable Stand-off Explosive Detector এবং ১৩টি বিশেষ Bomb Containment Vehicle সংগ্রহের জন্য Request for Information বা RFI জারি করেছে। পরবর্তী পর্যায়ে এই প্রক্রিয়া সরঞ্জাম কেনার দিকে এগোতে পারে।
জম্মু ও কাশ্মীর, উত্তর-পূর্ব ভারতের জঙ্গি প্রভাবিত এলাকা এবং Left-wing extremism বা মাওবাদী প্রভাবিত অঞ্চলে নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে IED ব্যবহার হয়ে এসেছে। ফলে বিস্ফোরক শনাক্তকরণ, নিষ্ক্রিয়করণ এবং সন্দেহজনক বস্তুর কাছে যাওয়ার ঝুঁকি কমানো সেনাবাহিনীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
৩৫০টি Portable Explosive Detector
সেনাবাহিনীর Combat Engineers Directorate-এর পক্ষ থেকে চাওয়া হচ্ছে ৩৫০টি portable stand-off explosive detector। এই ডিভাইসের মূল কাজ হবে সরাসরি বিস্ফোরক স্পর্শ না করেই আশপাশের পরিবেশে থাকা বিস্ফোরকের trace এবং vapour residue শনাক্ত করা।
সামরিক বিস্ফোরক, বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহৃত বিস্ফোরক এবং বিভিন্ন ধরনের improvised explosive material শনাক্ত করতে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা যাবে। ফলে সন্দেহজনক কোনও বস্তুতে সরাসরি হাত না দিয়েই প্রাথমিকভাবে সেটি বিস্ফোরক কি না, তা যাচাই করার সুযোগ পাওয়া যাবে।
কোথায় ব্যবহার হবে এই ডিটেক্টর?
এই ধরনের portable explosive detector বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় ব্যবহার করা যেতে পারে। সেনাবাহিনীর প্রয়োজন অনুযায়ী checkpoint, গুরুত্বপূর্ণ installation এবং vehicle inspection point-এ এগুলি ব্যবহার করা হবে।
এছাড়াও যুদ্ধক্ষেত্র বা field condition-এও ডিভাইসগুলি ব্যবহারের উপযোগী হতে হবে। IED বা সন্দেহজনক বস্তু শনাক্ত করার ক্ষেত্রে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে এই ডিভাইসগুলি bomb disposal team এবং counter-terror personnel-কে দ্রুত এবং তুলনামূলক নিরাপদে কোনও সন্দেহজনক জায়গা পরীক্ষা করতে সাহায্য করতে পারে।
অন্তত ৪ ঘণ্টা ব্যাটারিতে চলতে হবে
সেনাবাহিনীর প্রয়োজনীয়তার মধ্যে ডিটেক্টরের ব্যাটারি ব্যাকআপও গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিটি ডিভাইসকে অন্তত চার ঘণ্টা একটানা ব্যাটারিতে কাজ করতে সক্ষম হতে হবে। অর্থাৎ field operation-এর সময় বারবার চার্জ দেওয়ার প্রয়োজন যাতে না হয়, সেদিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এর পাশাপাশি ডিভাইসে USB এবং Bluetooth connectivity থাকতে হবে। এর মাধ্যমে সংগৃহীত তথ্য স্থানান্তর এবং ডিভাইসের explosive detection library আপডেট করা সম্ভব হবে। নতুন ধরনের বিস্ফোরক বা নতুন threat signature সামনে এলে সেই তথ্য ডিভাইসের লাইব্রেরিতে যোগ করার সুবিধা রাখা হচ্ছে।
১৩টি Bomb Containment Vehicle
Explosive detector-এর পাশাপাশি সেনাবাহিনী ১৩টি বিশেষ Bomb Containment Vehicle সংগ্রহ করতে চাইছে। এই যানগুলি এমনভাবে তৈরি হবে যাতে উদ্ধার করা বিস্ফোরক নিরাপদে বহন করা যায় এবং প্রয়োজন হলে সেটিকে নিয়ন্ত্রিতভাবে neutralise করার ব্যবস্থাও থাকে।
সাধারণভাবে কোনও সন্দেহজনক বিস্ফোরক শনাক্ত হওয়ার পর সেটিকে সরানোর কাজ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। Bomb containment vehicle-এর উদ্দেশ্য হল সেই বিস্ফোরককে নিরাপদভাবে নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখা এবং bomb disposal team-এর ঝুঁকি কমানো।
৮ কেজি TNT-এর সমতুল্য বিস্ফোরণ সামলানোর ক্ষমতা
সেনাবাহিনীর চাহিদা অনুযায়ী containment vehicle-এর chamber এমন বিস্ফোরক বহন করতে সক্ষম হতে হবে, যার বিস্ফোরণ ক্ষমতা ৮ কেজি TNT-এর সমতুল্য। TNT-এর পরিমাণ বিস্ফোরণের শক্তি পরিমাপের একটি প্রচলিত benchmark হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
এই containment chamber-কে একটি “inside-out submarine” ধরনের কাঠামো হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। এর মূল উদ্দেশ্য হল বিস্ফোরণের সময় তৈরি হওয়া প্রচণ্ড shockwave, উচ্চচাপের গ্যাস এবং ছিটকে বেরিয়ে আসা ধাতব বা অন্যান্য debris chamber-এর ভিতরেই আটকে রাখা। এর জন্য chamber-এ high-grade steel ব্যবহারের প্রয়োজন রয়েছে।
ফরেনসিক প্রমাণও সুরক্ষিত থাকবে
Bomb containment vehicle-এর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হল explosive-এর liquid বা vapour sample সংগ্রহের ব্যবস্থা। প্রয়োজন হলে vacuum-based system ব্যবহার করে এই নমুনা সংগ্রহ করা যাবে, যাতে বাইরের পরিবেশ থেকে contamination-এর ঝুঁকি কম থাকে। এটি শুধু bomb disposal operation-এর জন্য নয়, ঘটনার পর ফরেনসিক তদন্তের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ। বিস্ফোরকটির ধরন বা উৎস সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহে নমুনা গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। একইসঙ্গে explosive handling team-কে সরাসরি বিস্ফোরকের সংস্পর্শে আসার ঝুঁকি থেকেও দূরে রাখা সম্ভব হবে।
Detection থেকে Disposal, পুরো ব্যবস্থায় জোর
সেনাবাহিনীর এই দুটি procurement initiative-কে আলাদা করে দেখার বদলে একটি বৃহত্তর force protection ব্যবস্থার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রথম স্তরে portable detector-এর মাধ্যমে বিস্ফোরক আগে থেকেই শনাক্ত করার চেষ্টা থাকবে। কোনও IED বা বিস্ফোরক পাওয়া গেলে দ্বিতীয় স্তরে bomb containment vehicle ব্যবহার করে সেটিকে নিরাপদে সরানো বা neutralise করার ব্যবস্থা থাকবে।
এর ফলে বিস্ফোরক শনাক্ত হওয়া থেকে শুরু করে নিরাপদে নিষ্ক্রিয় করা পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়ায় frontline personnel-এর ঝুঁকি কমানোর লক্ষ্য রয়েছে।
একইসঙ্গে সেনাবাহিনী রাতের অন্ধকার এবং বিভিন্ন terrain-এ শত্রুর গতিবিধি শনাক্ত ও মোকাবিলার সক্ষমতাও বাড়াতে চাইছে। অর্থাৎ IED মোকাবিলার পাশাপাশি night-fighting capability-ও আধুনিকীকরণের বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ।
Atmanirbharta-র পথেই সংগ্রহ
এই নতুন সরঞ্জাম সংগ্রহের প্রক্রিয়া ভারতের Atmanirbharta বা আত্মনির্ভরতা নীতির মাধ্যমে এগিয়ে নেওয়ার কথা রয়েছে। অর্থাৎ দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পকে এই ধরনের advanced explosive detection এবং containment technology তৈরির ক্ষেত্রে আরও বেশি সুযোগ দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।
IED-এর মতো অনিয়মিত এবং পরিবর্তনশীল হুমকি মোকাবিলায় শুধু প্রচলিত অস্ত্রের উপর নির্ভর না করে সেনাবাহিনী এখন detection, containment, disposal এবং surveillance, সব ক্ষেত্রেই প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানোর দিকে এগোচ্ছে।
৩৫০টি portable explosive detector এবং ১৩টি bomb containment vehicle সংগ্রহের এই উদ্যোগ সেই বৃহত্তর আধুনিকীকরণ পরিকল্পনারই অংশ, যার লক্ষ্য frontline troops-কে বিস্ফোরক হামলার বিরুদ্ধে আরও দ্রুত, নিরাপদ এবং প্রযুক্তিনির্ভর সুরক্ষা দেওয়া।
Defence News-এর সর্বশেষ আপডেট। ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, সামরিক মহড়া, যুদ্ধবিমান, ক্ষেপণাস্ত্র, অস্ত্র ও প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির খবর পড়ুন।