জ্ঞাণেশের বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা নয়! সুপ্রিমকোর্টে মুখ পুড়ল বিরোধীদের
নয়াদিল্লি: সুপ্রিম কোর্ট সোমবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের (Gyanesh Kumar)বিরুদ্ধে আনা অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশের আবেদন খারিজ করে দিয়েছে। আদালত স্পষ্ট করেছে যে এখনই তাঁকে স্থগিত করা যাবে না। তবে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র তলব করা হয়েছে। আদালত বলেছে, যদি রেকর্ডে দেখা যায় কোনো সিদ্ধান্ত সর্বসম্মতভাবে নেওয়া হয়নি, তাহলে সেই আদেশ বাতিল করা যেতে পারে।প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে বিচারপতি জয়মল্য বাগচি ও বিচারপতি ভি মোহনা শুনানি করেন।
পিটিশনকারীরা দাবি করেছিলেন যে নির্বাচনী তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত একতরফাভাবে নেওয়া হয়েছে। অন্য দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক যোশির সম্মতি ছাড়াই এসব সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে অভিযোগ। তাঁদের আপত্তির কথাও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।আদালত শুনানিতে বলেছে, নির্বাচন কমিশন একটি বহু-সদস্যবিশিষ্ট সংস্থা।
আরও দেখুনঃ কুলতলিতে স্থানীয়দের জীবন অতিষ্ঠ! একাধিক অপরাধে আগ্নেয়াস্ত্র সহ পুলিশের জালে সইদুল-হাকিমুল
সিদ্ধান্তগুলো যতটা সম্ভব সর্বসম্মতভাবে হওয়া উচিত। (Gyanesh Kumar)যদি ঐকমত্য না হয়, তাহলে সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামত অনুসারে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। বিচারপতি বাগচি মন্তব্য করেন, রেকর্ড দেখে যদি দেখা যায় কোনো সিদ্ধান্ত সর্বসম্মত নয়, তাহলে সেগুলোকে অবৈধ ঘোষণা করে স্থগিত করা হবে।আদালত নির্বাচন কমিশন, কেন্দ্র সরকার, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার, অন্য দুই কমিশনার এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নোটিশ জারি করেছে।
তাঁদের জবাব চাওয়া হয়েছে। আদালত স্পষ্ট করেছে, শুধু সংবাদপত্রের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে কোনো অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দেওয়া যাবে না। প্রথমে নথিপত্র ও জবাব দেখে বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।শুনানিতে পিটিশনকারীদের আইনজীবী যুক্তি দেন যে অবিলম্বে কিছু ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠতে পারে। (Gyanesh Kumar)তবে আদালত বলেছে, প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে এখনই স্থগিত করলে নির্বাচন কমিশনের কাজকর্ম ব্যাহত হতে পারে। নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব কে নেবে, সেই প্রশ্নও তোলা হয়। আদালতের মতে, প্রথমে তথ্য যাচাই করা জরুরি।
এসআইআর প্রক্রিয়ায় ফর্ম-৬ সংশোধনের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। আদালত বলেছে, সংশোধিত ফর্ম-৬ তাঁদের অনুমোদিত নয়। রেকর্ড এলে কে এই পরিবর্তন করেছে, তা দেখা হবে। নির্বাচনী তালিকা সংশোধনের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে অন্য দুই কমিশনারের আপত্তির কথাও আদালতের নজরে এসেছে।বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলেও আলোচনা চলছে। কেউ কেউ আদালতের এই অবস্থানকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, নির্বাচন কমিশনের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে রেকর্ড যাচাই জরুরি।
অন্যদিকে কেউ কেউ বলছেন, অভিযোগগুলো গুরুতর হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত ছিল। তবে আদালত আইনের পথেই এগোচ্ছে।নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যেই বলেছে, সব সিদ্ধান্ত সর্বসম্মতভাবে নেওয়া হয়েছে। অভ্যন্তরীণ আলোচনা ও পরামর্শের অংশ হিসেবে কিছু পর্যবেক্ষণ থাকতে পারে, কিন্তু চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে কোনো বিভেদ নেই। আদালত এখন সেই দাবির সত্যতা যাচাই করবে।এই মামলা নির্বাচন কমিশনের কাজের ধরন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলেছে।
সংবিধান ও আইন অনুযায়ী কমিশন কীভাবে সিদ্ধান্ত নেবে, সে বিষয়ে আদালতের পর্যবেক্ষণ ভবিষ্যতে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকতে পারে। (Gyanesh Kumar)রেকর্ড জমা দেওয়ার পর আদালত আরও শুনানি করবে। যদি কোনো সিদ্ধান্ত আইনসম্মত না হয়, তাহলে তা বাতিলের নির্দেশ আসতে পারে।সাধারণ নাগরিকদের মধ্যেও এই বিষয় নিয়ে আগ্রহ রয়েছে। নির্বাচনী তালিকার স্বচ্ছতা ও নির্ভুলতা নিশ্চিত করা গণতন্ত্রের জন্য অত্যন্ত জরুরি। আদালতের এই পদক্ষেপ সেই দিকেই ইঙ্গিত দিচ্ছে যে কোনো অনিয়ম ধরা পড়লে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।