ইউনাইটেড কিংডমের বিমানবন্দরে গ্রেফতার ৫ সন্দেহভাজন জঙ্গির মুক্তি! বোমারু সরাল আমেরিকা
ইউনাইটেড কিংডমের রয়্যাল এয়ার ফোর্স ফেয়ারফোর্ড বিমানঘাঁটিকে (RAF Fairford)কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক ঘটনায় নতুন মোড় এসেছে। উচ্চ নিরাপত্তাযুক্ত এই ঘাঁটিতে সন্দেহভাজন সন্ত্রাসবাদী ষড়যন্ত্রের অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া…
ইউনাইটেড কিংডমের রয়্যাল এয়ার ফোর্স ফেয়ারফোর্ড বিমানঘাঁটিকে (RAF Fairford)কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক ঘটনায় নতুন মোড় এসেছে। উচ্চ নিরাপত্তাযুক্ত এই ঘাঁটিতে সন্দেহভাজন সন্ত্রাসবাদী ষড়যন্ত্রের অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া ছয়জন সন্দেহভাজনকে জামিনে মুক্তি দেওয়ার পর আমেরিকা সেখান থেকে সব বোমারু বিমান সরিয়ে নিয়েছে। অন্তত ১২টি মার্কিন বোমারু বিমান, যার মধ্যে বি-১, বি-২ ও বি-৫২ রয়েছে। সেগুলি আমেরিকায় পুনঃস্থাপন করা হয়েছে।
ঘটনার শুরু সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে। (RAF Fairford)গ্লচেস্টারশায়ারের রয়্যাল এয়ার ফোর্স ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটির কাছে সন্দেহজনক কার্যকলাপ দেখে স্থানীয় এক কৃষক পুলিশকে খবর দেন। তিনটি ভ্যান ও কয়েকজন মুখোশধারী ব্যক্তির উপস্থিতি নিয়ে সতর্কবার্তা পাওয়ার পর পুলিশ অভিযান চালায়। পাঁচজন ব্রিটিশ নাগরিককে গ্রেফতার করা হয়। তাঁরা সবাই লন্ডনের বাসিন্দা এবং বয়স ২০-এর কোঠায়। তাঁদের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক সংক্রান্ত অপরাধ ও সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ডের প্রস্তুতির অভিযোগ আনা হয়।
আরও দেখুনঃ কুঠার নিয়ে হামলা ও বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা: ফ্লাইদুবাই কাণ্ডকে ‘সন্ত্রাসবাদী হামলা’ বলল UAE
পরে আরও একজন উনাইটেড কিংডম-ইরান দ্বৈত নাগরিককেও গ্রেফতার করা হয়। মোট ছয়জন সন্দেহভাজনের বিষয়ে তদন্ত চলে।পুলিশ জানায়, ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তের পর তাঁদের জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। তবে তাঁরা এখনও তদন্তাধীন এবং কঠোর শর্তের অধীনে রয়েছেন। ঘটনাস্থলে কোনো বিস্ফোরক পাওয়া যায়নি বলেও জানানো হয়েছে।
ইউনাইটেড কিংডমের কাউন্টার-টেরোরিজম পুলিশের প্রধান বলেছেন, তদন্ত এখনও চলছে এবং একাধিক দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিদেশি রাষ্ট্রের সম্পৃক্ততার সম্ভাবনাও তদন্তের অংশ।এই ঘটনার পরপরই আমেরিকার ঘাঁটি থেকে সব বোমারু বিমান সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। পেন্টাগন নিশ্চিত করেছে যে রয়্যাল এয়ার ফোর্স ফেয়ারফোর্ডে মোতায়েন থাকা সব মার্কিন বোমারু বিমান এখন তাদের নিজস্ব ঘাঁটিতে ফিরে গেছে।
অপারেশনাল নিরাপত্তার কারণে আগে এই স্থানান্তরের কথা প্রকাশ করা হয়নি। (RAF Fairford)বিমানগুলোর মধ্যে বি-১ ল্যান্সারসহ অন্যান্য ভারী বোমারু বিমান ছিল। এগুলো ইরানের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক অভিযানেও ব্যবহার করা হয়েছিল বলে জানা গেছে।ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটি দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন বিমান বাহিনীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
সেখান থেকে দূরপাল্লার অভিযান পরিচালিত হয়। সন্দেহভাজন ষড়যন্ত্রের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ বাড়ে। ইউনাইটেড কিংডমের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ঘটনায় ইরানের সম্পৃক্ততার শক্তিশালী ইঙ্গিত রয়েছে। তবে ইরান এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবং ইউনাইটেড কিংডমের রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে।