উৎসব মরসুমে নতুন বাইক কিনবেন? ২০২৬-এর সেরা ৫টি বড় আপডেটের মডেল
কলকাতা: ২০২৬ সাল ভারতীয় মোটরসাইকেল (New Bikes 2026) বাজারের জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। একাধিক সংস্থা তাদের পরিচিত এবং জনপ্রিয় মডেলগুলিতে বড় ধরনের আপডেট এনেছে।…
কলকাতা: ২০২৬ সাল ভারতীয় মোটরসাইকেল (New Bikes 2026) বাজারের জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। একাধিক সংস্থা তাদের পরিচিত এবং জনপ্রিয় মডেলগুলিতে বড় ধরনের আপডেট এনেছে। কোথাও এসেছে নতুন ইঞ্জিন, কোথাও ডিজাইনে পরিবর্তন, আবার কোনও মডেলে যুক্ত হয়েছে নতুন প্রযুক্তি ও ফিচার। এই উৎসব মরসুমে নতুন বাইক কেনার পরিকল্পনা থাকলে, ২০২৬ সালে বড়সড় পরিবর্তন পাওয়া এই পাঁচটি মডেল নজরে রাখতে পারেন।
১. কেটিএম ২০০ ডিউক
কেটিএম ২০০ ডিউক বরাবরই স্পোর্টি ডিজাইন এবং ফিচারের জন্য পরিচিত। ২০২৬ সালের আপডেটে বাইকটিকে আরও ব্যবহারিক করে তোলার চেষ্টা করেছে কেটিএম। নতুন মডেলে রয়েছে হালকা ৫-স্পোক অ্যালয় হুইল। সামনে পুরনো ৩০০ মিমি ডিস্কের বদলে এবার দেওয়া হয়েছে ৩২০ মিমি ফ্রন্ট ডিস্ক। সামনের ফর্কের আকারও ৪৩ মিমি থেকে কমিয়ে ৩৭ মিমি করা হয়েছে। পিছনের টায়ারেও পরিবর্তন এসেছে। আগের ১৫০ সেকশনের বদলে এখন ১৪০ সেকশনের রিয়ার টায়ার রয়েছে, যা হ্যান্ডলিং আরও ভালো করার লক্ষ্যেই দেওয়া হয়েছে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে ইউএসবি টাইপ-সি চার্জার। নতুন অ্যাটলান্টিক ব্লু রঙ বাইকটির লুকেও বাড়তি আকর্ষণ যোগ করেছে। স্পোর্টি এবং হালকা ওজনের স্ট্রিট বাইক খুঁজলে ২০০ ডিউক এখনও নজরে রাখার মতো বিকল্প।
২. জাওয়া ৪২ অল স্টারস
জাওয়া ৪২ অল স্টারস-এ ২০২৬ সালে মূলত ডিজাইন ও কসমেটিক পরিবর্তনের উপর জোর দেওয়া হয়েছে। বাইকটিতে এসেছে পাঁচটি নতুন রঙ। রঙগুলির নাম হল অল স্টারস আইভরি, অল স্টারস নেবুলা ব্লু, অল স্টারস মস গ্রে, অল স্টারস ব্যাটল গ্রিন এবং অল স্টারস ব্ল্যাক। শুধু রঙ নয়, বাইকের বিভিন্ন অংশেও পরিবর্তন করা হয়েছে। নতুন ফ্রন্ট এবং রিয়ার ফেন্ডার, নতুন সাইড প্যানেল, নতুন সিট এবং আপসোয়েপ্ট এক্সজস্ট বাইকটিকে আরও রাগড লুক দিয়েছে। টায়ারের সাইজেও পরিবর্তন এসেছে। সামনে এখন ১০০ সেকশন এবং পিছনে ১৫০ সেকশন টায়ার রয়েছে। তবে ইঞ্জিনে বড় পরিবর্তন হয়নি। আগের মতোই ২৯৪.৭ সিসি জে-প্যান্থার লিকুইড-কুলড ইঞ্জিন রয়েছে। তাই যাঁরা মূলত ডিজাইনের বড় পরিবর্তন চান, তাঁদের জন্য অল স্টারস সংস্করণটি আকর্ষণীয় হতে পারে।
৩. বাজাজ পালসার ১৫০
২০০১ সাল থেকে ভারতের কমিউটার এবং স্পোর্টি কমিউটার বাইকের বাজারে পালসার ১৫০ একটি পরিচিত নাম। ২০২৬ সালে বাজাজ এই বাইকে এখনও পর্যন্ত অন্যতম বড় আপডেট এনেছে। নতুন পালসার ১৫০-তে এসেছে নতুন ডিজাইন, অল-নিউ ইঞ্জিন, নতুন উলফ-আই এলইডি হেডল্যাম্প এবং ৫ ইঞ্চি টিএফটি কনসোল। এই টিএফটি ডিসপ্লেতে গুগল ম্যাপস মিররিংয়ের সুবিধাও রয়েছে। বাইকে মনোশক সাসপেনশনও যোগ করা হয়েছে। নতুন ১৪৯.৫ সিসি ইঞ্জিন থেকে পাওয়া যায় ১৪ পিএস শক্তি এবং ১৩.৭ এনএম টর্ক। এছাড়া রয়েছে ক্রল প্রযুক্তি, যার সাহায্যে থ্রটল না ঘুরিয়েও বাইক ধীর গতিতে এগোতে পারে। অর্থাৎ পরিচিত পালসার নামের সঙ্গে আধুনিক ডিজাইন, প্রযুক্তি এবং নতুন ইঞ্জিনের সমন্বয়ই ২০২৬ সালের মডেলের মূল আকর্ষণ।
৪. ইয়েজদি স্ক্র্যাম্বলার
২০২৬ ইয়েজদি স্ক্র্যাম্বলার এই তালিকায় অন্যতম বড় পরিবর্তন পাওয়া বাইক। ডিজাইন, ইঞ্জিন এবং ফিচার, তিন ক্ষেত্রেই আপডেট এসেছে। নতুন ডিজাইনে রয়েছে পরিবর্তিত ফুয়েল ট্যাঙ্ক, নতুন সাইড প্যানেল এবং রিবড সিট। এর সঙ্গে চারটি নতুন আকর্ষণীয় রঙ বাইকটিকে আরও আলাদা করে তুলেছে। সবচেয়ে বড় পরিবর্তন অবশ্য ইঞ্জিনে। এতে রয়েছে নতুন ৩৩৪ সিসি লিকুইড-কুলড কাটার ইঞ্জিন, যা ৬-স্পিড গিয়ারবক্সের সঙ্গে যুক্ত। ইঞ্জিনটি ৩০ পিএস শক্তি এবং ৩০ এনএম টর্ক তৈরি করে। ফিচারের তালিকাতেও রয়েছে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন। পাওয়া যাচ্ছে এলসিডি কনসোল, ট্র্যাকশন কন্ট্রোল, তিনটি রাইডিং মোড এবং সুইচেবল এবিএস। প্রচলিত রোডস্টারের বাইরে একটু আলাদা ধরনের বাইক খুঁজছেন যাঁরা, তাঁদের জন্য নতুন ইয়েজদি স্ক্র্যাম্বলার নজরে রাখার মতো।
৫. রয়্যাল এনফিল্ড হিমালয়ান ৪৪০
হিমালয়ান পরিবারের পরিচিত রেট্রো ডিজাইনকে ধরে রেখে আরও শক্তিশালী এবং ব্যবহারিক প্যাকেজ হিসেবে এসেছে হিমালয়ান ৪৪০। বাইকটিতে রয়েছে নতুন ৪৪৩ সিসি ইঞ্জিন, যা ২৫.৪ পিএস শক্তি এবং ৩৪ এনএম টর্ক তৈরি করে। ইঞ্জিনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ৬-স্পিড গিয়ারবক্স। ইঞ্জিনের পাশাপাশি কনসোলেও আধুনিকীকরণ করা হয়েছে। এখন সেমি-ডিজিটাল কনসোল এবং ট্রিপার পড স্ট্যান্ডার্ড হিসেবে পাওয়া যায়। যাঁরা পুরনো হিমালয়ান ৪১১-এর সহজ-সরল চরিত্র পছন্দ করতেন, কিন্তু আরও শক্তিশালী ইঞ্জিন চাইতেন, তাঁদের কাছে হিমালয়ান ৪৪০ আকর্ষণীয় বিকল্প হতে পারে।
দীপাবলিতে কোন বাইক আপনার জন্য?
২০২৬ সালে এই পাঁচটি বাইকই নিজেদের পরিচিত চরিত্রের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ আপডেট পেয়েছে। কেটিএম ২০০ ডিউক বেশি স্পোর্টি এবং হালকা বাইক চান এমন রাইডারদের জন্য, জাওয়া ৪২ অল স্টারস মূলত ডিজাইন ও রেট্রো স্টাইলের জন্য, আর পালসার ১৫০ পরিচিত নামের সঙ্গে আধুনিক প্যাকেজ দিতে চাইছে। অন্যদিকে ইয়েজদি স্ক্র্যাম্বলার আলাদা ধরনের রাইডিং অভিজ্ঞতা এবং হিমালয়ান ৪৪০ অ্যাডভেঞ্চার রাইডিংয়ের দিকে নজর দিচ্ছে।
দীপাবলিতে বাইক কেনার আগে তাই শুধু লুক নয়, ইঞ্জিন, ওজন, রাইডিং পজিশন, সেফটি ফিচার এবং নিজের দৈনন্দিন ব্যবহারের প্রয়োজনও বিবেচনা করা জরুরি।
Essential Business Intelligence, Sharp Market Insights, Practical Personal Finance Advice, Daily Fuel, Gold and Silver Prices and Latest Stories – On Kolkata24x7 Business