ধন্দ ডিএমকে, আপকে নিয়ে, ‘ইন্ডিয়া’ জোটের পাশে টিভিকে
এই সময়, নয়াদিল্লি: বিস্তর চেষ্টা সত্ত্বেও কি আগামী মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর দিল্লিতে নির্বাচন সদন অভিযানে এককাট্টা থাকবে বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ জোট? এ নিয়ে সংশয় থেকে গেল শনিবারও। সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে গত বুধবার ‘ইন্ডিয়া’র বৈঠকে একগুচ্ছ কর্মসূচি নেওয়া হলেও সেখানে অনুপস্থিত ছিল এমকে স্ট্যালিনের দল ডিএমকে, অরবিন্দ কেজরিওয়ালের আপ, নিজে হাজির না–থেকে প্রতিনিধি পাঠিয়েছিলেন সপা–সুপ্রিমো অখিলেশ যাদব। বিরোধী শিবির সূত্রের খবর, একেবারে শেষ মুহূর্তে বড় মির্যাকল না হলে মঙ্গলবার বিরোধী সাংসদদের নির্বাচন সদন অভিযানে থাকবে না ডিএমকে এবং আপ৷ অখিলেশ থাকবেন কি না, সেই বিষয়েও কোনও নিশ্চয়তা মেলেনি৷
সূত্রের দাবি, কালীঘাট–তৃণমূলের দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক এমবে বেবি আপ ও ডিএমকে–র সঙ্গে দফায় দফায় আলোচনা করলেও তাঁদের চেষ্টা সফল হয়নি। শুক্রবার যন্তর মন্তরে আপের শীর্ষ নেতৃত্ব প্রতিবাদ জানালেও আগামী বছর পাঞ্জাবে বিধানসভা নির্বাচনের আগে কংগ্রেসের সঙ্গে এক মঞ্চে আসতে নারাজ। ডিএমকেও জানিয়ে দিয়েছে, তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনের পরে কংগ্রেস থালাপতি বিজয়ের দল টিভিকে–র সঙ্গে জোট করায় তারাও মঙ্গলবার থাকবে না।
তবে স্ট্যালিন ও কেজরির দলকে নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও জ্ঞানেশ ইস্যুতে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের হয়ে পথে নামার বার্তা দিয়েছে তামিলনাড়ুতে কংগ্রেসের জোটসঙ্গী থালাপতি বিজয়ের দল টিভিকে। শনিবার তামিলনাড়ু কংগ্রেস কমিটির সদর দপ্তরে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের বৈঠকের পরে এমডিএমকে সাধারণ সম্পাদক ভাইকো বলেন, ‘টিভিকে সুপ্রিমো তথা মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাচ্ছি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও বিজেপির প্ররোচনায় মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের নেওয়া সিদ্ধান্তের নিন্দা জানিয়ে মিছিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আগামী ১৩, ১৪ ও ১৫ অক্টোবর রাজ্যজুড়ে প্রতিবাদ মিছিল হবে।’
এই আবহেও অবশ্য কংগ্রেস, তৃণমূল–সহ বিরোধী শিবিরের বাকি দলের সাংসদরা প্রথমে একজোট হবেন সংসদ ভবনের মকর দ্বারের সামনে৷ সেখান থেকে জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে পোস্টার ও প্ল্যাকার্ড নিয়ে তাঁদের অভিযান শুরু হবে। সংসদ ভবন থেকে মিছিল শুরু হয়ে পৌঁছনোর চেষ্টা করবে নির্বাচন সদনের সামনে৷ বিরোধী শিবিরের ধারণা, দিল্লি পুলিশ তাদের পথ আটকাবে ট্রান্সপোর্ট ভবনের সামনেই৷ শেষ মুহূর্তে পুলিশকে চমক দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে বিরোধীদের৷ কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে, সপা সাংসদ জয়া বচ্চন, তৃণমূলের সৌগত রায়–সহ বিরোধী শিবিরের বর্ষীয়ান সাংসদরা যাঁরা শারীরিক সমস্যার কারণে হেঁটে মিছিলে অংশ নিতে পারবেন না, তাঁদের গাড়ি করে কমিশনের সামনে নিয়ে যাওয়ার কথাও ভেবে রাখা হয়েছে৷ কালীঘাট তৃণমূলের তরফে মিছিলে থাকবেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, ডেরেক ও’ব্রায়েন, মহুয়া মৈত্ররা৷ বিরোধী শিবিরের দাবি, দেড়শো জনের বেশি সাংসদ যোগ দেবেন মঙ্গলবারের কর্মসূচিতে৷
এ সবের মাঝেই ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) স্থির করেছে, দুর্গাপুুজোর পরেই তারা কলকাতায় একটি বড় সমাবেশ করে কমিশনের ভূমিকার বিরুদ্ধে সরব হবে৷ এ নিয়ে কালীঘাট–তৃণমূলের সঙ্গে তাদের একপ্রস্ত কথা হয়েছে বলে সূত্রের দাবি৷ শুক্রবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, তাঁরা সিজেপির পাশে দাঁড়াচ্ছেন৷ শনিবার নিজের এক্স হ্যান্ডলে পোস্ট করে মমতাকে ধন্যবাদ জানান সিজেপির শীর্ষ নেতা অভিজিত্ দীপকে৷ অভিযোগ, এর পরেই দীপকের এই পোস্ট ব্লক করে দেন এক্স কর্তৃপক্ষ৷