ক্ষমা চাওয়ার দাবি প্রত্যাখ্যানের পর ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল উত্তর কোরিয়া - 24 Ghanta Bangla News
Home

ক্ষমা চাওয়ার দাবি প্রত্যাখ্যানের পর ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল উত্তর কোরিয়া

Spread the love

দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যেই ফের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (Ballistic Missile) পরীক্ষা চালাল উত্তর কোরিয়া। শনিবার সকালে পূর্ব উপকূল থেকে সমুদ্রের দিকে একটি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয় বলে জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার সেনাবাহিনী। পরে উত্তর কোরিয়ার সরকারি সংবাদমাধ্যম কেসিএনএ-র মাধ্যমে কিম জং উনের বোন কিম ইয়ো জং জানান, একটি মধ্যপাল্লার কৌশলগত ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে সামরিক মহড়া চালানো হয়েছে।

এই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার ঘটনা এমন সময় ঘটল, যখন সেপ্টেম্বরের একটি ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণের ঘটনায় দক্ষিণ কোরিয়া উত্তর কোরিয়ার কাছে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছিল। সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করার একদিন পরই নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালাল পিয়ংইয়ং।

৭০০ কিলোমিটারের বেশি উড়ল ক্ষেপণাস্ত্র

দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ জানিয়েছে, পূর্ব উপকূলের ওনসান এলাকা থেকে ক্ষেপণাস্ত্রটি উৎক্ষেপণ করা হয়। সেটি পূর্ব সাগরের দিকে ৭০০ কিলোমিটারেরও বেশি পথ অতিক্রম করে। পূর্ব সাগরকে আন্তর্জাতিকভাবে সি অব জাপান নামেও উল্লেখ করা হয়। দক্ষিণ কোরিয়া ও আমেরিকার সামরিক বাহিনী যৌথভাবে ক্ষেপণাস্ত্রটির ধরন এবং উড়ানের অন্যান্য বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করছে। জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রটি জাপানের এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোন বা বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের বাইরে গিয়ে পড়েছে।

কিম ইয়ো জংয়ের দাবি, এআই দিয়ে বদলাতে পারে গতিপথ

উত্তর কোরিয়ার সরকারি সংবাদ সংস্থা কেসিএনএ-কে উদ্ধৃত করে রয়টার্স জানিয়েছে, কিম ইয়ো জং এই মহড়ার বিষয়ে দাবি করেছেন যে মধ্যপাল্লার একটি কৌশলগত ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। তিনি দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের ক্ষেপণাস্ত্রের উড়ানপথ এবং দূরত্ব নির্ধারণের মূল্যায়ন নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তাঁর দাবি, ক্ষেপণাস্ত্রটি বিশেষ ধরনের ঢেউখেলানো ট্রাজেক্টরি বা উড়ানপথ ব্যবহার করলে সেটিকে শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে।

কিম ইয়ো জং আরও দাবি করেন, ক্ষেপণাস্ত্রটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি ব্যবহার করে কম উচ্চতায় নিজের উড়ানের গতিপথ পরিবর্তন করতে পারে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হলে প্রতিপক্ষের পক্ষে ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত এড়ানো কঠিন। তবে উত্তর কোরিয়ার এই প্রযুক্তিগত দাবিগুলির স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

নজরদারি বাড়িয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া

ক্ষিপ্রগতিতে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী। সম্ভাব্য আরও ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের আশঙ্কায় নজরদারি এবং সতর্কতা বাড়ানো হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়া জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার বিষয়ে আমেরিকা ও জাপানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে তথ্য আদানপ্রদান করা হচ্ছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা দফতর উত্তর কোরিয়াকে ধারাবাহিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে। সিওলের দাবি, এই ধরনের উৎক্ষেপণ রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদের নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করে এবং বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কোনও সাহায্য করে না।

আমেরিকার দাবি, তাৎক্ষণিক হুমকি নয়

আমেরিকার প্যাসিফিক কমান্ড জানিয়েছে, উত্তর কোরিয়ার সর্বশেষ ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ আমেরিকার সেনা, মার্কিন ভূখণ্ড বা তাদের মিত্রদের জন্য তাৎক্ষণিক কোনও হুমকি তৈরি করেনি। তবে উত্তর কোরিয়ার ধারাবাহিক সামরিক তৎপরতার কারণে পূর্ব এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে ওয়াশিংটন, সিওল এবং টোকিও।

ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণ ঘিরে নতুন উত্তেজনা

নতুন ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার ঠিক আগের দিন দক্ষিণ কোরিয়ার ক্ষমা চাওয়ার দাবি প্রত্যাখ্যান করেছিলেন কিম ইয়ো জং। ২১ সেপ্টেম্বর সামরিক সীমারেখার কাছে একটি ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণে দক্ষিণ কোরিয়ার তিন সেনা আহত হন। দক্ষিণ কোরিয়া এবং আমেরিকার নেতৃত্বাধীন রাষ্ট্রপুঞ্জের কমান্ডের যৌথ তদন্তে দাবি করা হয়, উত্তর কোরিয়ার পাতা মাইন থেকেই বিস্ফোরণটি ঘটেছিল। পরবর্তীতে রাষ্ট্রপুঞ্জের কমান্ড জানিয়েছিল, এই ঘটনায় উত্তর কোরিয়া কোরিয়ান যুদ্ধের অবসান ঘটানো অস্ত্রবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করেছে।

দক্ষিণ কোরিয়া এই ঘটনার জন্য উত্তর কোরিয়ার কাছে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানালেও কিম ইয়ো জং সেই দাবিকে অত্যন্ত দুর্বল ও অগ্রহণযোগ্য বলে প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি আরও বলেন, উত্তর কোরিয়া দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক স্থায়ীভাবে ছিন্ন করার পথে এগোচ্ছে।

সীমান্ত আলোচনা নিয়েও প্রত্যাখ্যান পিয়ংইয়ংয়ের

দক্ষিণ কোরিয়ার একীকরণ মন্ত্রী চুং ডং-ইয়ং সীমান্ত সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিম ইয়ো জং সেই প্রস্তাবও প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সিওলের এই ধরনের প্রস্তাব বাস্তব পরিস্থিতি থেকে বিচ্ছিন্ন। এর ফলে দুই কোরিয়ার মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ ফের শুরু করার সম্ভাবনা নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে সামরিক তৎপরতা বেড়েছে

উত্তর কোরিয়া সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলিতে একাধিক সামরিক কার্যকলাপ চালিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা, লাইভ-ফায়ার সামরিক মহড়া এবং নতুন যুদ্ধজাহাজ কমিশন করা। ওনসান এলাকাতেই ২০ সেপ্টেম্বর একটি পরীক্ষা চালানো হয়েছিল। উত্তর কোরিয়ার সরকারি সংবাদমাধ্যম তখন সেটিকে হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত বলে জানিয়েছিল। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং অবশ্য উত্তর কোরিয়াকে ফের আলোচনার টেবিলে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।

ট্রাম্পের উদ্যোগ নিয়েও অনিশ্চয়তা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক যোগাযোগের উদ্যোগ উত্তর কোরিয়া নিয়ে ভবিষ্যতের পরমাণু আলোচনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে। তবে পিয়ংইয়ং এখনও ট্রাম্পের প্রস্তাবে সাড়া দেয়নি।

উত্তর কোরিয়ার দাবি, আলোচনায় বসার আগে আমেরিকাকে তাদের কথায় “শত্রুতামূলক নীতি” পরিত্যাগ করতে হবে। পাশাপাশি পরমাণু নিরস্ত্রীকরণকে আলোচনার পূর্বশর্ত হিসেবে রাখাও বন্ধ করতে হবে বলে জানিয়েছে পিয়ংইয়ং।

ফলে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা, সীমান্ত উত্তেজনা এবং কূটনৈতিক অবস্থানের মধ্যে উত্তর কোরিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়ার সম্পর্ক ফের আরও চাপের মুখে পড়েছে।

Defence News-এর সর্বশেষ আপডেট।  ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, সামরিক মহড়া, যুদ্ধবিমান, ক্ষেপণাস্ত্র, অস্ত্র ও প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির খবর পড়ুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *