অনুবাদ গল্প যে নারীর রহস্য নেই…। লিখেছেন রাহুল দাশগুপ্ত - 24 Ghanta Bangla News
Home

অনুবাদ গল্প যে নারীর রহস্য নেই…। লিখেছেন রাহুল দাশগুপ্ত

Spread the love

বললাম, আমাকে সব কথা খুলে বলুন। তিনি উঠে দাঁড়ালেন। আমার মুখের দিকে তাকালেন। তার পর বললেন, লর্ড মার্চিসন, আপনাকে আমার কিছুই বলার নেই।

আমি চেঁচিয়ে উঠলাম, ওখানে আপনি কারও সঙ্গে দেখা করতে গেছিলেন। আর এটাই আপনার রহস্য।

তাঁর মুখে একটা ভয়ার্ত ভাব ফুটে উঠেছিল। মুখটা একদম সাদা হয়ে গেছিল। তিনি বললেন, আমি কারও সঙ্গেই দেখা করতে যাইনি।

— যা সত্য, তা কি বলা যায় না?

— আমি সত্য কথাই বলছি।

সে দিন আমি উন্মত্তের মতোই আচরণ করেছিলাম। তাঁকে যা নয় তাই বলে চলে আসি। পর দিন তাঁর একটা চিঠি পেলাম। সেটা না খুলেই ফেরত পাঠিয়ে দিলাম। তার পর নরওয়ের দিকে যাত্রা করলাম।

মাস খানেক পর ফিরে এসে জানতে পারলাম, লেডি অলরয় মারা গেছেন। খবরটা ‘মর্নিং পোস্ট’–এ বেরিয়েছিল। তিনি ফুসফুসের প্রদাহে মারা গেছিলেন। আমি নিজেকে সব কিছু থেকে বিচ্ছিন্ন করে নিলাম। ঘরেই থাকতাম। কারও সঙ্গে দেখা করতাম না। ওই মহিলাই ছিলেন আমার সর্বস্ব! কী গভীর ছিল সেই ভালোবাসা!

তুমি সেই বাড়িতে কখনও গিয়েছিলে? আমি জানতে চাইলাম।

সে বলল, হ্যাঁ। একদিন আমি কুমনোর স্ট্রিটে গেলাম। না গিয়ে পারিনি। সন্দেহ আমাকে কুরে কুরে খাচ্ছিল। দরজায় টোকা দিলাম। একজন সম্ভ্রান্ত মহিলা বেরিয়ে এলেন। জানতে চাইলাম, ভাড়া দেওয়ার মতো ঘর খালি হয়েছে কি না। তিনি জানালেন, ড্রয়িংরুমটা নিতে পারেন। যে মহিলা ওটা ভাড়া নিয়েছিলেন, তাঁকে তিন মাস দেখিনি। ভাড়াও বাকি রয়েছে। আপনি ওটাই নিতে পারেন।

আমি লেডি অলরয়ের ছবি দেখিয়ে জানতে চাইলাম, ইনিই কি সেই মহিলা?

মহিলা বললেন, হ্যাঁ। কবে ফিরবেন?

তিনি মারা গেছেন।

মর্মান্তিক! তিনি আমার সেরা ভাড়াটে ছিলেন। এই ঘরে এসে স্রেফ সময় কাটানোর জন্য তিনি আমায় সপ্তাহে তিন গিনি দিতেন।

তিনি কারও সঙ্গে দেখা করতেন না?

নাহ, তিনি একাই আসতেন।

এসে কী করতেন? আমি চেঁচিয়ে উঠলাম।

চুপচাপ বসে বই পড়তেন। কখনও চা খেতেন।

আমার আর কিছুই বলার ছিল না। তাকে একটি সোনার মুদ্রা দিয়ে ফিরে এলাম।

আমার দিকে ফিরে লর্ড মার্চিসন জানতে চাইল, এ সবের মানে কী? মহিলা কি সত্যি বলেছেন?

তাই তো মনে হয়।

লেডি অলরয় সেখানে কেন যেতেন?

জেরাল্ড, তিনি চাইতেন তাঁকে ঘিরে রহস্য জমে উঠুক। তিনি ঘরটি ভাড়া নিয়েছিলেন। মুখ ঢেকে রাখতেন। দেখাতে চাইতেন, তাঁরও কিছু গোপনীয়তা আছে, যা আদৌ তাঁর ছিল না…

তোমার সত্যিই এ কথা মনে হয়?

আমি নিশ্চিত।

ওই ফোটোগ্রাফটা বার করে তাকিয়ে রইল। তার পর বলল, অবাক হওয়ার মতোই ঘটনা…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *