হলুদ গেটজ থেকে ইকোস্পোর্ট, দৃশ্যমের এই ১০ গাড়ি নজরে পড়েছে?
দৃশ্যমের (Drishyam) গল্পে ছোট ছোট জিনিসই অনেক সময় বড় সূত্র হয়ে ওঠে। গাড়িগুলিও তার ব্যতিক্রম নয়। হলুদ হুন্ডাই গেটজ থেকে জর্জকুট্টির ফোর্ড ইকোস্পোর্ট, দেখে নিন ছবির ১০টি মনে রাখার মতো গাড়ি। অজয় দেবগনের বিজয় সালগাঁওকর আবার ফিরছেন। দৃশ্যম: দ্য কনক্লুশন ছবিতে এই জনপ্রিয় চরিত্রকে ফের দেখা যাবে। হিন্দি ফ্র্যাঞ্চাইজির তৃতীয় ছবি মুক্তি পাওয়ার কথা ২ অক্টোবর ২০২৬।
দৃশ্যম সিরিজের সঙ্গে ২ অক্টোবর তারিখটির সম্পর্ক দর্শকদের কাছে নতুন করে বলার প্রয়োজন নেই। এই ফ্র্যাঞ্চাইজির গল্পে তারিখ, সময়, খাবার থেকে শুরু করে একেবারে সাধারণ জিনিসও কখনও কখনও গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হয়ে উঠেছে।
গাড়িও সেই তালিকার বাইরে নয়। কিছু গাড়ি সরাসরি গল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশ, আবার কিছু গাড়ি শুধুই চরিত্রদের বদলে যাওয়া জীবন বা ছবির পরিবেশকে তুলে ধরে। হিন্দি ও মালয়ালম দৃশ্যম মিলিয়ে এমনই ১০টি গাড়ি রয়েছে, যেগুলি হয়তো অনেক দর্শকের চোখ এড়িয়ে গিয়েছে।
১. হুন্ডাই গেটজ: যে গাড়িই হয়ে উঠেছিল গুরুত্বপূর্ণ সূত্র
হিন্দি দৃশ্যম-এর সবচেয়ে পরিচিত গাড়িগুলির মধ্যে নিঃসন্দেহে রয়েছে হলুদ হুন্ডাই গেটজ। গাড়িটি সাম দেশমুখের, আর সামের নিখোঁজ হয়ে যাওয়াই ছবির তদন্তের মূল সূত্রপাত ঘটায়। উজ্জ্বল হলুদ রঙের কারণে গাড়িটি রাস্তায় সহজেই নজরে পড়ে। পরে একটি কোয়ারিতে গাড়িটি পাওয়া যায়। ফলে সাধারণ একটি হ্যাচব্যাক ধীরে ধীরে পুলিশের তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ সূত্রে পরিণত হয়। দৃশ্যম-এর অন্যতম আকর্ষণই ছিল এই বিষয়টি। সাধারণ জিনিসকে কীভাবে গল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশে পরিণত করা যায়, তার ভালো উদাহরণ এই গেটজ।
২. মাহিন্দ্রা মেজর: পুরনো জমানার সেই জিপ
দৃশ্যম সিরিজে মাহিন্দ্রা মেজর-এর ভূমিকাও বেশ অদ্ভুত। মালয়ালম সিক্যুয়েলে জর্জকুট্টিকে এই পুরনো জিপ চালাতে দেখা যায়। পুলিশ স্টেশনের নির্মাণস্থলে বরুণের দেহের অবশেষ সরানোর সময় এই গাড়ি ব্যবহার করা হয়। হিন্দি দৃশ্যম-এর প্রথম ছবিতেও বিজয় একই ধরনের মাহিন্দ্রা জিপ ব্যবহার করে সামের দেহ সরানোর কাজে। অর্থাৎ দুটি ভাষার ছবিতেই এই পুরনো জিপ পরিবারের সবচেয়ে বড় গোপনীয়তা লুকিয়ে রাখার পরিকল্পনার সঙ্গে কোনও না কোনওভাবে যুক্ত।
৩. বিএমডব্লিউ ৫ সিরিজ: গল্পের মাঝেই থাকা প্রিমিয়াম সেডান
হিন্দি দৃশ্যম-এর শেষের দিকে বিএমডব্লিউ ৫ সিরিজ এফ১০-কে দেখা যায়। গোয়ার কাবো দে রামা দৃশ্যে বিজয় যখন সামের বাবা-মায়ের সঙ্গে সমুদ্রের ধারে দেখা করে, তখন গাড়িটি নজরে আসে। সেই মুহূর্তে দর্শকের মনোযোগ স্বাভাবিকভাবেই কথোপকথনের দিকে থাকে। তাই অনেকের চোখেই হয়তো বিএমডব্লিউটি ধরা পড়েনি। হলুদ গেটজের মতো এটি তদন্তের কোনও গুরুত্বপূর্ণ সূত্র নয়। বরং ছবির পরিবেশের অংশ হিসেবেই গাড়িটিকে দেখা যায়।
৪. মারুতি জেন: মালয়ালম ছবির হলুদ গাড়ি
হিন্দি ছবিতে যেখানে হলুদ গেটজ, সেখানে মূল মালয়ালম দৃশ্যম-এ রয়েছে হলুদ মারুতি জেন। গাড়িটি বরুণ প্রভাকরের। বরুণ নিখোঁজ হওয়ার পর পুলিশ তার গাড়ির বিষয়টিও তদন্তের আওতায় আনে। পরে গাড়িটি একটি কোয়ারিতে পাওয়া যায়। মজার বিষয় হল, এই হলুদ মারুতি জেনের দৃশ্যম-এর বাইরেও ইতিহাস রয়েছে। একই গাড়ি প্রযোজক অ্যান্টনি পেরুম্বাভুরের প্রযোজিত আরও কয়েকটি মোহনলাল অভিনীত ছবিতেও দেখা গিয়েছে বলে জানা যায়। এর মধ্যে রয়েছে নরসিমহাম, রাবণপ্রভু এবং বাবা কল্যাণী।
৫. ফোর্ড ইকোস্পোর্ট: বদলে যাওয়া জর্জকুট্টির নতুন গাড়ি
প্রথম দৃশ্যম এবং দৃশ্যম ২-এর মধ্যে সময়ের ব্যবধান সাত বছর। আর এই পরিবর্তন শুধু গল্পেই নয়, জর্জকুট্টির গাড়িতেও দেখা যায়। ২০১৩ সালের প্রথম ছবিতে জর্জকুট্টির জীবন ছিল অনেক বেশি সাধারণ। কিন্তু দ্বিতীয় ছবিতে তার কেবল ব্যবসা আরও বড় হয়েছে, তিনি থিয়েটারের মালিকও হয়েছেন। সেই পরিবর্তনের সঙ্গে গাড়িতেও এসেছে বদল। পুরনো জিপের জায়গা নিয়েছে ফোর্ড ইকোস্পোর্ট। গাড়িটি জর্জকুট্টির বদলে যাওয়া আর্থিক পরিস্থিতির একটি ছোট কিন্তু স্পষ্ট ইঙ্গিত।
৬. কিয়া সেলটোস: বিজয় সালগাঁওকরের আপগ্রেড
হিন্দি দৃশ্যম ২-এ বিজয় সালগাঁওকরের গাড়িতেও একই ধরনের পরিবর্তন দেখা যায়। ২০১৫ সালে প্রথম হিন্দি দৃশ্যম মুক্তি পেয়েছিল। সাত বছর পর ২০২২ সালে আসে দ্বিতীয় ছবি। এর মধ্যে বিজয়ের জীবনেও পরিবর্তন এসেছে। তিনি শুধু কেবল অপারেটর নন, থিয়েটারের মালিক হয়েছেন এবং নিজের ছবি তৈরি করার পরিকল্পনাও করছেন। এই পরিবর্তনের সঙ্গে মানানসই হিসেবে দৃশ্যম ২-এ তার পরিবারের গাড়ি হিসেবে দেখা যায় প্রথম প্রজন্মের কিয়া সেলটোস। জর্জকুট্টির ইকোস্পোর্ট এবং বিজয়ের সেলটোসের মধ্যে একটা মজার মিল রয়েছে। দুই চরিত্রই আগের তুলনায় আর্থিকভাবে এগিয়ে গেলেও তাদের নতুন গাড়ি কোনওভাবেই অতিরিক্ত বিলাসিতার প্রদর্শন করে না।
৭. টাটা সুমো: পুলিশের বহরে থাকা চেনা মুখ
টাটা সুমো-র কোনও হলুদ গেটজের মতো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেই। তবু হিন্দি দৃশ্যম-এর পরিবেশে এটি বেশ পরিচিত একটি গাড়ি। প্রথম ছবিতে গোয়া পুলিশের বহরের অংশ হিসেবে টাটা সুমোকে দেখা যায়। সেই সময় ভারতের বিভিন্ন সরকারি দফতর, পুলিশ এবং অন্যান্য ফ্লিটে সুমোর ব্যবহার ছিল বেশ পরিচিত দৃশ্য। ছবির সাধারণ, বাস্তবসম্মত পরিবেশের সঙ্গে তাই এই গাড়িটি বেশ স্বাভাবিকভাবেই মিশে যায়।
৮. মাহিন্দ্রা বোলেরো: পুলিশের পরিচিত ওয়ার্কহর্স
দৃশ্যম ছবির পুলিশি তদন্তের সঙ্গে মাহিন্দ্রা বোলেরো-রও সম্পর্ক রয়েছে। স্থানীয় পুলিশ ও তদন্তের বিভিন্ন দৃশ্যে গাড়িটিকে দেখা যায়। সালগাঁওকর পরিবারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যাওয়ার মতো দৃশ্যেও এর উপস্থিতি রয়েছে। মালয়ালম দৃশ্যম-এও বোলেরো দেখা যায়। মাহিন্দ্রা মেজরের তুলনায় বোলেরো অনেক বেশি আধুনিক এবং বাস্তব জীবনে পুলিশের ব্যবহৃত গাড়ি হিসেবে পরিচিত। ফলে ছবিতে এর উপস্থিতি আলাদা করে চোখে না পড়লেও পুরো তদন্তের পরিবেশকে বাস্তব করে তুলতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
৯. মাহিন্দ্রা থার রক্স: পুরনো জিপ থেকে আধুনিক এসইউভি
মাহিন্দ্রা মেজর এবং মাহিন্দ্রা থার রক্স-এর মধ্যে সময়ের ব্যবধান যেন ভারতীয় অটোমোবাইল দুনিয়ার পরিবর্তনকেই তুলে ধরে। একদিকে রয়েছে পুরনো দিনের বক্সি ইউটিলিটি জিপ, অন্যদিকে আধুনিক পাঁচ দরজার থার রক্স। নতুন দৃশ্যম: দ্য কনক্লুশন-এর ট্রেলারে নতুন পুলিশ অফিসারের চরিত্রকে থার রক্সে দেখা যায়। এটি পুরনো মেজরের সরাসরি বিকল্প, এমনটা বলা ঠিক হবে না। বরং বছরের পর বছর ধরে দৃশ্যম ফ্র্যাঞ্চাইজির গল্পের সঙ্গে ভারতীয় রাস্তায় গাড়ির চেহারা কীভাবে বদলেছে, তারই একটি উদাহরণ বলা যায়।
১০. টাটা হ্যারিয়ার ডার্ক এডিশন: বিজয়ের নতুন গাড়ি
নতুন দৃশ্যম: দ্য কনক্লুশন-এ বিজয় সালগাঁওকরের ব্যক্তিগত গাড়ি হিসেবে দেখা যাবে নতুন প্রজন্মের টাটা হ্যারিয়ার ডার্ক এডিশন। সম্পূর্ণ কালো রঙের কারণে গাড়িটি পর্দায় বেশ আলাদা করে নজরে পড়ে। ডার্ক এডিশনে কালো এক্সটেরিয়রের সঙ্গে কেবিনেও কালো থিম রাখা হয়েছে। এই গাড়ির সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক শুধু হ্যারিয়ার নয়, বরং এটি বিজয়ের চরিত্রের সময়ের সঙ্গে পরিবর্তনকেও তুলে ধরে। প্রথম ছবির তুলনায় তার জীবন অনেকটাই বদলেছে এবং সেই পরিবর্তনের ছাপ নতুন গাড়িতেও রয়েছে।
জর্জকুট্টির নম্বর প্লেট নিয়েও তৈরি হয়েছিল বাস্তবের রহস্য
দৃশ্যম ফ্র্যাঞ্চাইজির গল্পে গাড়ির নম্বর প্লেটও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। কিন্তু তৃতীয় ছবিকে ঘিরে বাস্তব জীবনেও একটি নম্বর প্লেট নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। ছবিতে জর্জকুট্টির কালো এমজি হেক্টর-এ কেএল ৬৯ ডি ২৭৭২ নম্বরটি দেখা যায় বলে রিপোর্ট প্রকাশিত হয়। অভিযোগ ছিল, নম্বরটি ইডুক্কির এক বাসিন্দার, যার আসল গাড়ি একটি সাদা মাহিন্দ্রা স্করপিও।
ওই ব্যক্তি বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ করেন। পরে রিপোর্টে পরিষ্কার করা হয় যে ছবিতে দেখা গাড়িটি মাহিন্দ্রা স্করপিও নয়, অন্য একটি মডেল। অর্থাৎ দৃশ্যম এমন একটি ফ্র্যাঞ্চাইজি, যেখানে সিনেমার ভেতরের সূত্র এবং বাস্তব জীবনের ঘটনাও কখনও কখনও একই রকম রহস্য তৈরি করে।
গাড়িগুলিও যেন দৃশ্যম-এর গল্পের অংশ
দৃশ্যম সিরিজে দর্শকের মনোযোগ সাধারণত থাকে বিজয়ের পরিকল্পনা, জর্জকুট্টির বুদ্ধি, পুলিশের তদন্ত, অ্যালিবাই এবং সেই বিখ্যাত ২ ও ৩ অক্টোবরের টাইমলাইন-এর দিকে। কিন্তু গাড়িগুলিও নীরবে গল্পের সঙ্গে এগিয়ে চলেছে।
কোনও গাড়ি হয়েছে তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ সূত্র, কোনওটি পরিবারের গোপন পরিকল্পনার অংশ, আবার কোনওটি শুধু চরিত্রের বদলে যাওয়া জীবনকে তুলে ধরেছে। হলুদ গেটজ থেকে হলুদ মারুতি জেন, পুরনো মাহিন্দ্রা মেজর থেকে আধুনিক থার রক্স, কিংবা জর্জকুট্টির ইকোস্পোর্ট থেকে বিজয়ের হ্যারিয়ার ডার্ক এডিশন, প্রতিটি গাড়িই দৃশ্যম দুনিয়ার আলাদা একটি সময়কে তুলে ধরে।
আর এই কারণেই গাড়িগুলিও এই ফ্র্যাঞ্চাইজির সেই ছোট ছোট বিবরণগুলির মধ্যে পড়ে, যেগুলি প্রথমবার দেখার সময় চোখ এড়িয়ে গেলেও পরে মনে হয়, দৃশ্যমে আসলে কোনও কিছুই পুরোপুরি সাধারণ নয়।
Essential Business Intelligence, Sharp Market Insights, Practical Personal Finance Advice, Daily Fuel, Gold and Silver Prices and Latest Stories – On Kolkata24x7 Business