স্কুল পাঠক্রমে বড় বদল! সিলেবাস থেকে বাদ পড়বে মোঘল শাসন থেকে সিঙ্গুর আন্দোলন
কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের স্কুল পাঠ্যক্রমে বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে। (School Syllabus)২০২৭ সালের শিক্ষাবর্ষ থেকে শ্যামা প্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জীবন ও অবদান প্রতিটি শ্রেণির প্রতিটি পাঠ্যবইয়ের শুরুতে স্থান…
কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের স্কুল পাঠ্যক্রমে বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে। (School Syllabus)২০২৭ সালের শিক্ষাবর্ষ থেকে শ্যামা প্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জীবন ও অবদান প্রতিটি শ্রেণির প্রতিটি পাঠ্যবইয়ের শুরুতে স্থান পাবে। একইসঙ্গে মুঘল ইতিহাস ও সাম্যবাদের আলোচনা কমিয়ে আনা হবে। সিঙ্গুর জমি আন্দোলন ও কন্যাশ্রী প্রকল্পের অধ্যায়গুলোও বাদ দেওয়া হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসের এক নির্দিষ্ট দিক তুলে ধরা হত।
এবার পাঠ্যবই নিজেই পুনর্লিখন হচ্ছে।সিলেবাস পুনর্গঠন কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী এই পরিবর্তনগুলো আসছে। (School Syllabus)কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক দেবাশীষ চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, শ্যামা প্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জীবনী ও অবদান প্রতিটি বইয়ের শুরুতে থাকবে। ছাত্রছাত্রীরা যেন তার সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পায়। তিনি বলেন, মুঘল সাম্রাজ্যের ইতিহাস শুধুমাত্র যতটুকু জানা দরকার ততটুকুই থাকবে।
আরও দেখুনঃ ২০২১-এ নন্দীগ্রামে মমতার পা-ই ‘ভাঙেনি’, ডাক্তারি রিপোর্ট তুলে বিস্ফোরক দাবি শুভেন্দুর
মুঘল ইতিহাসই ভারতের একমাত্র ইতিহাস নয় বলে মনে করা হয় না। সাম্যবাদের ক্ষেত্রেও বাস্তব ও সত্যভিত্তিক অংশ রাখা হবে, কিন্তু কোনো প্রশংসা বা মহিমাকরণ থাকবে না। (School Syllabus)সিঙ্গুর জমি আন্দোলনের অধ্যায় অষ্টম শ্রেণির ইতিহাস বই থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে। এই অধ্যায় ২০১৭ সালে যুক্ত হয়েছিল। কন্যাশ্রী প্রকল্পের উল্লেখও ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণির স্বাস্থ্য ও স্বাস্থ্যবিধি বই থেকে সরিয়ে নেওয়া হবে। কমিটির মতে, সরকারি প্রকল্প পাঠ্যক্রমের অংশ হওয়া উচিত নয়।
এই পরিবর্তনগুলো জানুয়ারি ২০২৭ থেকে নতুন শিক্ষাবর্ষে কার্যকর হবে।শ্যামা প্রসাদ মুখোপাধ্যায় ভারতীয় জনসংঘের প্রতিষ্ঠাতা এবং পশ্চিমবঙ্গ গঠনে তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। তার অবদান ছাত্রছাত্রীদের জানানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে। অনেকের মতে, দীর্ঘদিন ধরে তার ভূমিকা যথেষ্ট গুরুত্ব পায়নি। এবার পাঠ্যবইয়ে স্থান পাওয়ার মাধ্যমে নতুন প্রজন্ম তার সম্পর্কে জানতে পারবে।
একইসঙ্গে ইতিহাসের অন্যান্য দিকগুলোও ভারসাম্যপূর্ণভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হচ্ছে।মুঘল ইতিহাস কমিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা চলছে। (School Syllabus)কমিটির বক্তব্য, ছাত্রছাত্রীদের প্রয়োজনীয় জ্ঞান দেওয়া হবে, কিন্তু অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়া হবে না। সাম্যবাদের ক্ষেত্রেও একই নীতি। বাস্তব তথ্য থাকবে, কিন্তু কোনো পক্ষপাতমূলক উপস্থাপনা থাকবে না। সিঙ্গুর ও কন্যাশ্রীর মতো সাম্প্রতিক ঘটনা ও প্রকল্প বাদ দেওয়ার পিছনে যুক্তি হল পাঠ্যক্রমকে দীর্ঘমেয়াদি ও নিরপেক্ষ রাখা।
এই পরিবর্তন শুধু ইতিহাস বইয়ে সীমাবদ্ধ নয়। বাংলা সাহিত্যের কিছু অংশেও পরিবর্তনের সুপারিশ করা হয়েছে। তবে মূল ফোকাস ইতিহাস ও রাজনৈতিক বিষয়গুলোর পুনর্বিন্যাসে। সরকারি ও সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলগুলোতে এই নতুন পাঠ্যক্রম চালু হবে। শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, কমিটির সুপারিশ পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।দীর্ঘদিন ধরে বাংলার স্কুল পাঠ্যক্রমে এক ধরনের ঐতিহাসিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রাধান্য পেয়ে এসেছে।
এবার সেই কাঠামোতে পরিবর্তন আনা হচ্ছে। শ্যামা প্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে কেন্দ্র করে নতুন করে ইতিহাস উপস্থাপনের চেষ্টা চলছে। মুঘল যুগ ও সাম্যবাদের আলোচনা কমিয়ে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোকে জায়গা দেওয়া হচ্ছে। সিঙ্গুর ও কন্যাশ্রীর মতো অধ্যায় বাদ দেওয়ার ফলে পাঠ্যবইয়ে জায়গা খালি হবে, যেখানে নতুন বিষয় যুক্ত হতে পারে।
ছাত্রছাত্রীদের জন্য এই পরিবর্তন কী প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। কেউ বলছেন, এটি ইতিহাসের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনবে। কেউ আবার মনে করছেন, পাঠ্যক্রম পরিবর্তন সতর্কতার সঙ্গে হওয়া উচিত। তবে কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী ২০২৭ সাল থেকে নতুন পাঠ্যবই হাতে পাবে শিক্ষার্থীরা। প্রতিটি বইয়ের শুরুতে শ্যামা প্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জীবনী দেখে তারা তার অবদান সম্পর্কে জানতে পারবে।