বড় সুখবর! পুজোর আগে বাংলায় স্কচের দাম কমছে ৭-১০ শতাংশ
কলকাতা: পুজোর (Durga Puja 2026) আগে মদপ্রেমীদের জন্য সুখবর। যুক্তরাজ্যের সঙ্গে ফ্রি ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্ট বা এফটিএ-র প্রভাব এবার পড়তে শুরু করেছে পশ্চিমবঙ্গের বিদেশি মদের বাজারে। রাজ্যে বেশিরভাগ বটল্ড-ইন-অরিজিন বা বিআইও স্কচের দাম প্রায় ৭ থেকে ১০ শতাংশ কমতে চলেছে।
এর ফলে চিভাস, জনি ওয়াকার ব্ল্যাক লেবেল, ডাবল ব্ল্যাক, গ্লেন পরিবারের বিভিন্ন ব্র্যান্ড এবং ট্যালিসকারের মতো জনপ্রিয় স্কচ আরও কম দামে পাওয়া যেতে পারে। এই ব্র্যান্ডগুলির বেশিরভাগই বিশ্বের দুই বড় মদ প্রস্তুতকারক সংস্থা ডিয়াজিও এবং পেরনো রিকার্ড-এর অধীনে রয়েছে। মদ ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত সূত্রের দাবি, কিছু ব্র্যান্ডের দাম ইতিমধ্যেই কমানো হয়েছে। বাকি ব্র্যান্ডগুলির নতুন দাম আগামী কয়েক দিনের মধ্যে কার্যকর হতে পারে।
৩,০০০ টাকার নিচে আসতে পারে Chivas ও Black Label
দাম কমার ফলে বিদেশি স্কচের বাজারে বড় পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করছেন শিল্প বিশেষজ্ঞরা। নতুন দামের হিসাবে কিছু এন্ট্রি-লেভেল বিআইও স্কচের দাম ২,০০০ টাকার নিচে চলে আসতে পারে। ফলে এই ব্র্যান্ডগুলি সরাসরি উচ্চমানের আইএমএফএল-এর সঙ্গে প্রতিযোগিতায় চলে আসবে।
শুধু তাই নয়, কিছু ক্যাটেগরিতে চিভাস এবং ব্ল্যাক লেবেল ৩,০০০ টাকার নিচে পাওয়া যেতে পারে বলে শিল্প সূত্রের দাবি। সিঙ্গল মল্টের ক্ষেত্রেও দাম কমার সম্ভাবনা রয়েছে। কিছু ক্যাটেগরিতে সিঙ্গল মল্টের দাম ৪,০০০ টাকার নিচে চলে আসতে পারে। এর ফলে এতদিন তুলনামূলকভাবে বেশি দামের কারণে যে ক্রেতারা প্রিমিয়াম বিদেশি মদ থেকে দূরে থাকতেন, তাঁদের মধ্যে চাহিদা বাড়তে পারে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।
BIO Scotch কী?
বটল্ড-ইন-অরিজিন বা BIO বলতে সেই স্কচকে বোঝায়, যা স্কটল্যান্ডেই বোতলজাত করা হয় এবং তারপর ভারতে আমদানি করা হয়। এর থেকে আলাদা একটি ক্যাটেগরি হল ওভারসিজ স্পিরিটস বটল্ড ইন ইন্ডিয়া বা OSBI। এই ক্ষেত্রে স্কটল্যান্ড থেকে স্পিরিট কাস্কে করে ভারতে আনা হয় এবং পরে দেশেই তা ব্লেন্ড ও বোতলজাত করা হয়। দুই ক্যাটেগরির পণ্যের দাম এবং আমদানি কাঠামো এক নয়।
বাংলায় BIO Scotch-এর বাজার কত বড়?
শিল্প বিশেষজ্ঞদের হিসাব অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গের মোট মদের বাজারের পরিমাণের দিক থেকে BIO-এর অংশ প্রায় ১.৫ থেকে ২ শতাংশ। তবে দামের দিক থেকে এই ক্যাটেগরির গুরুত্ব অনেক বেশি। মোট বাজারমূল্যের হিসাবে BIO-এর অংশ প্রায় ৪ থেকে ৫ শতাংশ বলে শিল্প সূত্রের অনুমান। রাজ্যে বিয়ার এবং কান্ট্রি স্পিরিটস বাদ দিলে মোট মদের বাজারের পরিমাণ প্রায় ১.৩ কোটি কেস। এখানে প্রতিটি কেসে ৭৫০ মিলিলিটারের ১২টি বোতল ধরা হয়েছে।
শিল্প বিশেষজ্ঞদের হিসাব অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গের সম্পূর্ণ মদ ব্যবসার মূল্য প্রায় ৩৮,০০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে বিয়ার এবং কান্ট্রি স্পিরিটস মিলিয়ে প্রায় ১০,০০০ থেকে ১১,০০০ কোটি টাকা। বাকি অংশ মূলত আইএমএফএল এবং বিআইও-এর বাজার। বর্তমানে বাংলায় BIO Scotch-এর বাজারের মূল্য প্রায় ১,৫০০ কোটি টাকা বলে অনুমান করা হচ্ছে।
পুজোর আগে বাড়তে পারে প্রিমিয়াম মদের বিক্রি
দাম কমার ফলে বিআইও ক্যাটেগরিতে বিক্রি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে বলে মনে করছে মদ ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত মহল। এক মদ ব্যবসায়ীর মতে, দাম কমার পর এই ক্যাটেগরিতে ভালো বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। শুধু খুচরো মদের দোকান নয়, বারগুলিতেও এর প্রভাব পড়তে পারে। পুজোর মরশুম সামনে থাকায় সময়টিও ব্যবসায়ীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। উৎসবের সময় সাধারণত প্রিমিয়াম মদের চাহিদা বাড়ে। তার সঙ্গে যদি বিদেশি স্কচের দামও কমে, তাহলে ক্রেতাদের একটি অংশ আরও দামী ব্র্যান্ডের দিকে যেতে পারেন।
বাংলায় মদের বাজার কত বড়?
পশ্চিমবঙ্গের মদ ব্যবসা রাজ্যের অন্যতম বড় রাজস্ব উৎসগুলির একটি। তথ্য অনুযায়ী, ২০২২-২৩ অর্থবর্ষে পশ্চিমবঙ্গে মদের বিক্রি প্রায় ২২,০০০ কোটি টাকা ছিল। তার আগের ২০২১-২২ অর্থবর্ষে এই পরিমাণ ছিল প্রায় ১৮,০০০ কোটি টাকা। বিয়ারের বিক্রিও ওই সময়ে দ্রুত বেড়েছিল। ২০২২-২৩ অর্থবর্ষে রাজ্যে বিয়ারের বিক্রি প্রায় ৪,০০০ কোটি টাকার স্তরে পৌঁছয়। ২০২১-২২ অর্থবর্ষে তা ছিল প্রায় ১,৭০০ থেকে ১,৮০০ কোটি টাকা।
আবগারি রাজস্বও বেড়েছে
মদের বাজার বৃদ্ধির সঙ্গে রাজ্যের আবগারি রাজস্বও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০১৪-১৫ অর্থবর্ষে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের আবগারি রাজস্ব ছিল প্রায় ৩,৫৮৭ কোটি টাকা। ২০২২-২৩ অর্থবর্ষে তা বেড়ে প্রায় ১৬,০০০ কোটি টাকা হয়েছে।
চলতি অর্থবর্ষে রাজ্য সরকার আবগারি খাত থেকে প্রায় ২৫,০০০ কোটি টাকা রাজস্বের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। এদিকে BIO Scotch-এর দাম ৭ থেকে ১০ শতাংশ কমলে প্রিমিয়াম মদের বাজারে চাহিদা বাড়ে কি না, এখন সেটাই নজরে থাকবে। বিশেষ করে পুজোর মরশুমে চিভাস, ব্ল্যাক লেবেল, গ্লেন এবং ট্যালিসকারের মতো ব্র্যান্ডের নতুন দাম ক্রেতাদের মধ্যে কতটা প্রভাব ফেলে, তার উপরই বাজারের পরবর্তী প্রবণতা অনেকটাই নির্ভর করবে।